ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন ‘মনের ডাকে’

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪১ পিএম
ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন ‘মনের ডাকে’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীন ছাড়া বাকি সব দেশের উপর আরোপিত অতিরিক্তি শুল্ক আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৯ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ঘোষণা দেন। অথচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই শুল্কনীতি শিথিলের কোনো লক্ষণ দেখায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

এই পোস্টে ট্রাম্প জানান,'নিজের অন্তরের কথা শুনে আচমকাই নাকি তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়াও ট্রাম্প বলেন, আমি যা করেছি, অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট তা করতেন না।’

ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, বিভিন্ন দেশের উপর পৃথকভাবে যে 'পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেন, সেটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন আমদানি পণ্যে নতুন আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরেই শুল্কের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি। বোধহয় আজ সকালেই আমার কাছে সব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন কোন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সময়ও ছিল না। কেবল নিজের অন্তরের কথা শুনে যেটি সঠিক মনে হয় সেটাই করেছি।'

বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প এই পোস্ট লিখেন বলে জানান লুটনিক। তবে অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার কাছেই এই ঘোষণা ছিল বিস্ময়কর।

স্থগিতাদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে সবার আগে হাজির হন বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘বাজারের অস্থিরতার কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করার ইচ্ছা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে আলাদা। তাই, এ কাজে বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট নিজে যুক্ত থাকতে চান বলেই ৯০ দিনের বিরতি দেওয়া হয়।'

অবশ্য কিছু সময় পর ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘শেয়ার বাজারের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে গিয়ে দেখি, মানুষ অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন অবস্থা ছিল বেশ হতাশাজনক। কিন্তু এখন সবাই বলছে, এটি নাকি আর্থিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দিন। এটা বেশ বড় পরিবর্তন।' সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সুলতানা দিনা

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ন্যাটোর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না, তাদের জন্য মার্কিন তহবিল আটকে দেওয়া হতে পারে। এই মিত্রদের তিনি ‘ফ্রি রাইডার’ বা বিনা পয়সায় সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এক বৈঠকে হেগসেথ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যালোচনা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ছয় মাস চলবে। এ সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। কারণ ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সর্বনিম্ন সংখ্যা কত হবে, তা কংগ্রেসে আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। হেগসেথ সরাসরি বলেননি এ পর্যালোচনার কারণে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানো হবে কি না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মূল লক্ষ্য ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষায় আরও বেশি জোর দেওয়া।

হেগসেথ বলেন, ‘ইউরোপ যাতে দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে ন্যাটোর নেতৃত্বে আসে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এ পর্যালোচনা করা। কেননা, ইউরোপের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে।’ পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় যেসব মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেনি, হেগসেথ তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই যুদ্ধের সময় কিছু দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি জানান, এ পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মার্কিন বাহিনীর জন্য যেসব দেশের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে’।

তার এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি সংকটকালীন বাহিনীর ঘাটতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। ওয়াশিংটন ন্যাটোর জরুরি বাহিনীতে নিজেদের সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।