বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো বেশ অস্থিতিশীল। বিশ্বব্যাংকের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির। সৌদি আরব সিরিয়ার এই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করছে বলে জানায় ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
সোমবার ( ১৪ এপ্রিল) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
রাজনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও বিপর্যস্ত সরকারি খাতকে সহায়তার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের অনুদানের পথ প্রশস্ত করবে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়টার্সকে জানান, গত ডিসেম্বরে আসাদ সরকারকে উৎখাতের পর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হন আহমেদ আল-শারা একটি অন্তর্বর্তী সংবিধানে স্বাক্ষর করার পরই সৌদি আরব সিরিয়াকে অর্থায়ন করছে বলে জানা যায়। এর আগে সৌদি আরবকে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
সৌদির এই উদ্যোগ সিরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশগুলোর সমর্থন পাওয়ার পূর্বাভাস। এর আগে একটি তহবিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে যায়। কিন্তু গত মাসে কাতার জর্ডানের মাধ্যমে সিরিয়াকে গ্যাস সরবরাহের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এতে সিরিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, কাতারের এবারকার এই পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের অনুমোদন আছে।
সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, ‘আমরা অনুমানভিত্তিক বিষয়ে মন্তব্য করি না, তবে বিষয়টি দাপ্তরিক হলে ঘোষণা করা হবে।’ তবে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস, বিশ্বব্যাংকের একজন মুখপাত্র ও সিরিয়ার সরকারের একজন কর্মকর্তার কাছে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধ করলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
বিশ্বব্যাংকের কাছে সিরিয়ার প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান পেতে চাইলে সিরিয়াকে আগে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে দামেস্কের কাছে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে যে পরিকল্পনা করা হয় সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি
এছাড়াও রয়টার্স জানায়, সিরিয়া চলতি মাসের শেষের দিকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক বসন্তকালীন সভায় যোগদানের জন্য ওয়াশিংটনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে। আসাদ সরকারের উৎখাতের পর থেকে সিরিয়ার কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
তবে সিরিয়ার প্রতিনিধিদল কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, আসাদের শাসনামলে আরোপিত কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। সূত্র: রয়টার্স
সুলতানা দিনা