ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে শনিবার (২৬ এপ্রিল) পারমাণবিক চুক্তি প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিগগিরই হয়তো নতুন চুক্তিতে যাওয়া সম্ভব হবে, যা ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম শনিবার জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি এ ইস্যুতে তৃতীয় বৈঠক।
ইরানের প্রতিনিধিদলের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরাই মূলত গতকালের বৈঠকে বসেন। তারা সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির একটি কাঠামো তৈরি করতে চাইছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরোক্ষ আলোচনার আগ দিয়েই তারা এ কাজটি করে ফেলতে চাইছেন।
এদিকে, ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি হয়ে যেতে পারে বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তা গত শুক্রবার প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন।
ট্রাম্প বলেছেন, আমার মনে হয়, আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি।’ তবে কূটনৈতিক চেষ্টা না হলে সামরিক পদক্ষেপের দিকে যাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তেহরান ও ওয়াশিংটন দুই পক্ষই জানিয়েছে যে, তারা কূটনীতির পথে হাঁটতে চাইছে। এখনো তাদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তবসম্মত দাবি উত্থাপন করে, তা হলে চুক্তি হতে কোনো বাধা নেই।
গণমাধ্যমের খবর বলছে, পারমাণবিক ইস্যুতে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প কূটনীতির পথে এগোতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ইরান রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। এ আলোচনা চলার সময় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির গতি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ইউরেনিয়াম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ করে ফেলেছে। অস্ত্র মানের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ করতে হয়।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানকে চুক্তির অধীনে ইউরেনিয়াম পরিশুদ্ধ করা সম্পূর্ণরূপে থামাতে হবে এবং তারা নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি প্ল্যান্টের জন্য পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানিও করতে পারবে না। সূত্র: রয়টার্স