ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল চার দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ২ জনের রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

রাশিয়া যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫, ০১:১২ পিএম
রাশিয়া যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর পতনের ৮০তম বার্ষিকীতে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই অনুষ্ঠানটি ‘ভি ডে’ বা ‘ভিক্টরি ওভার ইউরোপ ডে’ হিসেবে পরিচিত।

রবিবার (৩ মে) ক্রেমলিন জানায় , প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর চার দিনের এই আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে ৭ মে। 

সোমবার ( ৪ মে) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই খবর জানায়।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানায়, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন জিনপিং। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রপ্রধান বেশ কিছু চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করবেন।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই বৈঠকে দুই দেশের সামগ্রিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এজেন্ডা নিয়েও তারা আলোচনা করবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। তবে শেষ পর্যন্ত নাৎসি বাহিনীকে বার্লিন পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য করে তারা। ১৯৪৫ সালে হিটলারের আত্মহত্যা এবং বার্লিনের রাইখস্ট্যাগ ভবনের ওপর সোভিয়েত বাহিনীর লাল পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয় নিশ্চিত করে মস্কো।

নাৎসি বাহিনী পতনের ৮০তম বছরে চীনা প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ব্রাজিল ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীও মস্কো সফরে যেতে পারেন।

মে মাসের ৯ তারিখের আয়োজনকে মাথায় রেখে ইউক্রেনের সঙ্গে তিনদিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেন পুতিন। জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, অন্তত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি হলে প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখবেন তিনি।

অবশ্য এর আগেও তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন পুতিন। তিনি জানান, সাময়িক বিরতিতে তার আগ্রহ নেই, তিনি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চান। সূত্র: রয়টার্স

দিনা/

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল
রাশিয়ার তুপোলেভ তু-১৬০ (Tu-160) বোমারু বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ টহল দিয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো বেরেন্টস এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ মিশনে বোমারু বিমানগুলোর সুরক্ষায় সঙ্গে ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাঝ-আকাশেই জ্বালানি ভরার বিশেষ মহড়াও  সম্পন্ন করেছে বিমানগুলো। তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথের কিছু অংশে বিদেশি যুদ্ধবিমান রুশ বহরটিকে অনুসরণ বা ছায়ার মতো তাড়া করেছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, 'রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে পরিচালনা করা হয়েছে।'

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত মাসেই রাশিয়া ও বেলারুশ তাদের প্রথম যৌথ পারমাণবিক মহড়া সম্পন্ন করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর আগে হামলা না হলে তারা ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে আক্রমণ করবেন না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি নিবন্ধে সতর্ক করে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের ক্রমাগত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার ফলাফল হবে পুরো পৃথিবীর জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। সূত্র: আরটি

আজহার/

ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় তিনতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছেে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ওই ভবনটিতে একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টার, পোষা প্রাণীর দোকান এবং একটি লাইব্রেরি ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অ্যানিমেশন সেন্টারের ক্লাস চলছিল। হঠাৎ আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরেই আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া নিচতলায় থাকা পোষা প্রাণীর দোকানে আগুনে পুড়ে চারটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে- ভবনের এসি ডাক্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে ভবনের তিন মালিক- রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে রাজ্য সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড়ে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে লখনউয়ে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৩টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

খাদিজা রুমি/অমিয়/

কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-এর এই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০২৬ সালের ৬ মার্চের কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা দেখা যাচ্ছে

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত  এবং ৬৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক এবং বাকি একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ ও দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কাতার এনার্জির 'বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই' কারখানায় কাজ শুরু করার সময় একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাস কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কাতার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র: দা হিন্দু

তামান্না রুপা/

ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

সংঘাত নিরসনে আলোচনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (২২ জুন) ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মওকুফের একটি আদেশ জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির পথ প্রশস্ত করেছে। 

এ মওকুফটি ছিল ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি শর্ত।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এমওইউ-এর বেশ কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‌‌‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও উন্মুক্ত ট্রানজিট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে, ট্রেজারি একটি অস্থায়ী ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়।’

এই লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বা পেট্রোলিয়াম পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানির অনুমতি দেয়, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়া বা কিউবা, অথবা রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনের সঙ্গে লেনদেনের অনুমোদন দেয় না।

তবে এ ছাড়ের খবরের পর তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৭৭ দশমি ৭ ডলারে নেমে আসে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তি কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের বুর্গেনষ্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে আলোচনার সময় মধ্যস্থতাকরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি সংক্রান্ত বৈঠকে মধ্যস্থতা করে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এই ঐতিহাসিক আলোচনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, সম্পাদিত এই চুক্তিটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো মাত্র। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বিপজ্জনক সংঘাত সাময়িকভাবে থামানো হয়েছে। এই চুক্তি আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে। শেষ মুহূর্তে লেবাননকেন্দ্রিক কিছু মতবিরোধের কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল। কিন্তু পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় এই প্রক্রিয়া রক্ষা পায়।

পাকিস্তান কেবল পরোপকারের জন্য এই মধ্যস্থতায় জড়ায়নি। এর পেছনে দেশটির নিজস্ব সুনির্দিষ্ট স্বার্থ ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান জ্বালানি সরবরাহের জন্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সেখানে যুদ্ধ চললে তেলের দাম বাড়ত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হতো। তাই এই মধ্যস্থতা ছিল পাকিস্তানের জন্য একধরনের কৌশলগত আত্মরক্ষা।

এই কূটনীতির প্রথম সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের আলোচনা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মধ্যস্থতা সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে সংকটের উৎস হিসেবে নয়, বরং সংকট সমাধানের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য আসল পুরস্কার লুকিয়ে আছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমলে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমবে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং জ্বালানিসংকটের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফল মধ্যস্থতার ফলে পাকিস্তান এখন ইরান, সৌদি আরব, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কমলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য রুটে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘকাল ধরে দুবাই ছিল ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমিরাত ইরানি ব্যবসার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইরান এখন বিকল্প বাণিজ্য রুটের সন্ধান করছে। পাকিস্তান এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি বিকল্প রুট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এদিকে চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কূটনৈতিক মেরূকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতিতে পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক বিজয়ী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ হচ্ছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং ইসলামাবাদের তৈরি করা একটি বিশেষ কাঠামোর মাধ্যমে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন এই কূটনৈতিক ট্র্যাকটি পরিচালনা করছে। তবে ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ স্পষ্ট করেই বলেছেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসুক, তা ইসরায়েল একেবারেই পছন্দ করছে না। অবশ্য জেরুজালেম মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। 

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। ইরান, আফগানিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে পাকিস্তানের অবস্থান তাকে একটি স্থায়ী কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। অতীতে ওসামা বিন লাদেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট–কোনো কিছুই ওয়াশিংটনের কাছে ইসলামাবাদের গুরুত্ব কমাতে পারেনি। ভৌগোলিক অবস্থানগত শক্তি কোনো আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বা বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে না, এটি একটি বাস্তব সত্য। ইসরায়েলের অস্বস্তির মূল কারণও এটিই।

সূত্র: দ্য ডন, জেরুজালেম পোস্ট