হামাস সাধারণ জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ জব্দ করে নিজেদের যোদ্ধাদের জন্য ব্যবহার করছে বা তা বিক্রি করছে-ইসরায়েলের মন্ত্রীদের এমন অভিযোগের পর এবার গাজায় ত্রাণ লুটের দায়ে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো হামাস।
এছাড়া এর আগেই ইসরায়েলি মন্ত্রীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হামাস।
সোমবার(৫ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় ব্রিটশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
গাজায় ক্ষমতাসীন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়,ইসরায়েলি অবরোধে খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছানোতে গাজায় লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে হামাস।
হামাসের অভিযোগ, কিছু লুটেরা ইসরায়েলকে সহযোগিতায় কাজ করেছে। গাজায় ত্রাণ প্রবেশে দুই মাস ধরে বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে তেলআবিব।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।
হামাসের তথ্য দফতরের পরিচালক ইসমাইল আল-সাওয়াবতা জানান, কিছু লুটেরা গোত্রভিত্তিক এবং কিছু সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করেছে— যাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি ইসরায়েলের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে গাজার বাসিন্দারা জানান, এই সশস্ত্র দলগুলো শুধু খাবার লুট করেনি, রাস্তায় মানুষকে থামিয়ে তাদের অর্থ ও ফোন নিয়ে গেছে। এরা আমাদের অভুক্ত রাখার মাধ্যমে দখলদারদের সাহায্য করছে।
হামাসের ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা সাফা জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে ৫ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী গঠন করেছে, যারা লুটেরা ও সশস্ত্র গ্যাং দমনে কাজ করবে। তবে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার কারণে স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনী কার্যক্রমে বারবার বাধার মুখে পড়ছে।
এক বিবৃতিতে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে আমরা লৌহমুষ্টিতে আঘাত করব। যে কোনও মূল্যে তাদের দমন করা হবে। আমরা গাজাবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেব না।' সূত্র: রয়টার্স
দিনা/