ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রত্যাবর্তন জয়ে রাঙাতে চায় সুইডেন গোলশূন্য থেকে বিরতিতে জাপান-নেদারল্যান্ডস কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করল বিজিবি গফরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু
Nagad desktop

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ইরানের প্রতিরক্ষা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ১১:২১ এএম
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ইরানের প্রতিরক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে পাল্টে যাচ্ছে এ যুদ্ধের গতিপথ। পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের দাবি করছে ইসরায়েল। অর্থাৎ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইরানের দুর্বলতার বিষয়টি এখন বিশেষজ্ঞদের চর্চায়। 

বিশ্লেষকদের আলোচনায় রয়েছে, ইরান কীভাবে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পারত। কোন দুর্বলতার কারণে ইসরায়েল সহজেই ইরানের আকাশসীমা দখলে নিতে পারছে। ইসরায়েল অতীতেও ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে সর্বশেষ চলমান এই অভিযান পূর্ববর্তী হামলাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। ইরান কেবল উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির শিকার হয়নি, বরং তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রায়ান বারলেটিকের বরাতে মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ইরান দেশের অভ্যন্তরে পশ্চিমা ও ইসরায়েল-সমর্থিত মিলিশিয়াদের কার্যক্রম মোকাবিলায় তুষ্ট ছিল। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পর্যাপ্ত সমন্বয়ের অভাব নিয়েও সমালোচনা আছে। এতে বলা হয়, ইরানের প্রতিরক্ষার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব। দেশটির ১৬টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন বহু আগেই প্রযুক্তিগতভাবে অপ্রচলিত হয়ে পড়েছে। ফলে জাতীয় আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মাটিভিত্তিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোননির্ভর পাল্টা হামলার ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধবিমান থেকে কোনো কার্যকর সহায়তা মেলেনি। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সমর্থকরা কেবল ইরান সরকারের প্রতি নয়, রাশিয়া ও চীনের প্রতিও সমালোচনামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। কারণ তারা আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহে যথেষ্ট ভূমিকা নেয়নি। যদিও ইরান ইতোমধ্যেই এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। তার পরও তা সরবরাহ না হওয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছে। 

এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রায়ান বারলেটিক বলেন, রাশিয়া বা চীনের পক্ষে ইরানকে কার্যকর যুদ্ধবিমানের বহর সরবরাহ করা বাস্তবসম্মত ছিল না। তিনি যুক্তি দেন- ধরুন, রাশিয়া এসইউ-৩৫ নিজেরা উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে ইরানকে দিলেও কয়েক বছর পর্যন্ত ইরান সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারত না। এমনকি এসইউ-৩৫ পেলেও সেগুলোর পক্ষে এফ-৩৫-কে প্রতিহত করাটা অবাস্তব। কেবল সাম্য অর্জন করতেও ইরানকে ১০০-৩০০টি যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষিত পাইলট, গ্রাউন্ড ক্রু, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো- সবকিছু প্রয়োজন হতো। ১০ বছর আগে শুরু করলেও তারা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত না বলে দাবি বারলেটিকের। এই বক্তব্যের পেছনে বারলেটিক আরও বলেন, চীন যদি ইরানে নতুন যুদ্ধবিমান রেখে যায়, তা ব্যবহারেও একই মাত্রার প্রস্তুতি দরকার হবে। কারণ কয়েকটি বিমান যথেষ্ট নয়, শতাধিক লাগবে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই তাদের সাধ্যের সবকিছু দিয়ে ইরানকে সাহায্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা ব্লকের সমালোচক হিসেবে পরিচিত বারলেটিকের এই মূল্যায়নকে অনেকেই রাশিয়া ও কিছুটা চীনের দায় এড়ানোর চেষ্টা বলে মনে করছেন।

বারলেটিকের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার কিছু দাবি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো- তিনি বলেছেন, ইরানকে একটি কার্যকর যুদ্ধবিমানের বহর গড়তে ১০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। বাস্তবে, ইরান এরই মধ্যে বৃহৎসংখ্যক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে। যার মধ্যে আছে রুশ মিগ-২৯, এসইউ-২৪ এম, এসইউ-২২ ও চীনা জে-৭। এমনকি তারা ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন এফ-১৪ পরিচালনা করে আসছে, যেটি বিশ্বের অন্যতম জটিল ও রক্ষণাবেক্ষণনির্ভর বিমান। তাই মিগ-২৯ বা এফ-১৪ থেকে এসইউ-৩০এসএম বা মিগ-৩৫-এর মতো আধুনিক বিমানে রূপান্তর করতে ১০ বছর লাগবে- এই দাবি বাস্তবতা-বিবর্জিত।

মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন তাদের বিশ্লেষণে আরও বলে, ভারতের মতো দেশ, যেখানে ২০০০-এর দশকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে মিগ-২৯ থেকে এসইউ-৩০এমকেআইয়ের মতো ভারী, আধুনিক যুদ্ধবিমানে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে, সেখানে ইরানের মতো অভিজ্ঞ দেশও দ্রুত এই পরিবর্তন করতে সক্ষম। বারলেটিকের প্রশ্নবিদ্ধ আরেকটি দাবি হলো- ইরানকে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়তে ১০০-৩০০টি যুদ্ধবিমান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি পর্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট দরকার। বাস্তবে, তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক (৫০টির মতো) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘৪+ জেনারেশন’ যুদ্ধবিমানও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারত। কারণ যুদ্ধ ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় হচ্ছে। যেখানে ইসরায়েলি বিমানগুলোর জন্য ট্যাংকার-নির্ভরতা রয়েছে এবং দীর্ঘ দূরত্বে জ্বালানি ট্যাংক বহন করতে হচ্ছে। এদিকে আধুনিক ইরানি যুদ্ধবিমানগুলোর পক্ষে দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা সম্ভব। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রায় ২০০টি এফ-১৫ ও এফ-১৬ বিমান ১৯৯০-এর দশকের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। যেগুলো আধুনিক চীনা জে-১০সি, জে-১৬ বা রুশ এসইউ-৩৫-এর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আধুনিক বিমানের দূরপাল্লার রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ইসরায়েলের ট্যাংকার বিমানের জন্যও হুমকি হতে পারত। এমনকি যদি ইসরায়েল হামলা চালাত, তবুও এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলকে বাধ্য করত তাদের এফ-৩৫ স্কোয়াড্রনকে আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যস্ত রাখতে। যার ফলে মাটিভিত্তিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা কমে যেত।

যদিও বারলেটিক যথার্থভাবে বলেছেন যে একটি কার্যকর যুদ্ধবিমানবহর রাতারাতি গড়ে তোলা যায় না, তবু ইরানের সামনে সময় ছিল। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ২০২০ সালে প্রত্যাহার হওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান চাইলে যুদ্ধবিমান কিনতে পারত। মাত্র ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগেই পাকিস্তানের মতো দেশ জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনেছে। ইরান যদি সেই পথে হাঁটত, তাহলে আজ হয়তো এ বিপর্যয় এড়ানো যেত। সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির দাবি করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পক্ষে থাকা সংসদ সদস্যের (লোকসভার এমপি) সংখ্যা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এটিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদ্রোহীদের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার গতকাল রবিবার জানান, তাদের পক্ষে থাকা এমপির সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে এখন ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।

রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যারা অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন, আমরা তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আরও দু-একজন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আগে আমি ২০ জনের কথা বলেছিলাম, এখন সেই সংখ্যাটি ২২ হয়েছে। আমরা এখানে সবার মতামত শুনব। দলে আলোচনা হবে, কোনো একনায়কত্ব চলবে না।’

তবে নতুন করে যোগ দেওয়া ওই দুই সংসদ সদস্যের নাম এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই নাম ঘোষণা করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আজ সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদন জানিয়ে এক সপ্তাহ আগে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। সেই চিঠির সূত্র ধরেই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।

স্পিকারের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সংসদ সদস্য ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের চার বিদ্রোহী এমপি— শতাব্দী রায়, মালা রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। সেখানে বিজেপির আরেক প্রভাবশালী এমপি নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগের দিন অর্থাৎ গত শনিবার তৃণমূলের ছয়বারের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই বৈঠক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিনি বিদ্রোহী শিবিরকেই সমর্থন করতে যাচ্ছেন।

তৃণমূলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিনি এই শিবিরে যোগ দিলে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক শক্তি ও অভিজ্ঞতা বহু গুণ বেড়ে যাবে। তবে সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে কিছু এমপি আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন। বেশ কয়েকজন তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে ইতস্তত করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘটলে তিনিই এই অসন্তুষ্ট গোষ্ঠীর প্রধান বা সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন ইতোমধ্যেই একটি বিদ্রোহী উপদলে যোগ দিয়েছেন। তারা দলের মূল নীতি মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 সূত্র: এনডিটি

ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ৮০তম বছরে পদার্পণ করেছেন। 

রবিবার (১৪ জুন) এ উপলক্ষে তিনি হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে ব্যতিক্রমধর্মী এক খাঁচাবন্দি লড়াইয়ের আয়োজন করেছে।

‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামের এ নজিরবিহীন আসরে অংশ নিচ্ছেন আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউএফসি) ১৪ জন তারকা যোদ্ধা। ‘দ্য ক্ল’ নামে বিশাল এক অঙ্গনে তারা একে অপরের মুখোমুখি হবেন।

৬ কোটি ডলার ব্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ। একই সঙ্গে দিনটি ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনও।

সমালোচকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত প্রাঙ্গণে এমন সহিংস আয়োজনকে রুচিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ আয়োজনকে তারা অনুপযুক্ত বলে মনে করছেন।

অবশ্য নিজের জন্মদিনেই ইরানের সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করতে পারেন ট্রাম্প। যদিও তেহরান এ সময়সূচি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

বিলিয়নিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউএফসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং যার রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তির বড় অংশই এ খেলার তরুণ পুরুষ দর্শক, তিনি এ আয়োজনকে অনন্য এক প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত মে মাসে কয়েকজন শক্তিশালী, খালি হাতে লড়াই করা ইউএফসি যোদ্ধাকে ওভাল অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি এমন একটি অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, যা আপনাদের সত্যিই ভালো লাগবে।’ হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ আয়োজনের পুরো ব্যয় বহন করছে ইউএফসি।

ইউএফসির প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা ক্রেইগ বরসারি অবশ্য খেলাধুলা ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি এ সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে এভাবে দেখি যে, আমাদের সামনে দেশ ও আমাদের ক্রীড়াবিদদের উদযাপনের এক অসাধারণ ও একেবারেই অনন্য সুযোগ এসেছে।’

‘দারুণ যুদ্ধযন্ত্র’
নাটকীয়তার অংশ হিসেবে রবিবারের এ আসরে অংশ নেওয়া কয়েকজন শীর্ষ যোদ্ধা সরাসরি ওভাল অফিস থেকেই বেরিয়ে এসে হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক দক্ষিণ লনের দিকে অগ্রসর হবেন বলে জানা গেছে।

লড়াইগুলো অনুষ্ঠিত হবে ‘অক্টাগন’-এ— আট কোণবিশিষ্ট তারের জালঘেরা একটি খাঁচায়। এর চারপাশে চার হাজারের বেশি দর্শকের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রবিবারের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ইউএফসি যোদ্ধা মাইকেল চ্যান্ডলার বলেন, এটি ‘যুদ্ধভিত্তিক ক্রীড়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন’।

ফরাসি যোদ্ধা সিরিল গেনও জানিয়েছেন, তিনি মূলত ক্রীড়া দিকটিতেই মনোযোগ দিচ্ছেন।

তিনি এ মাসের শুরুতে বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু বিশ্বের সামনে নিজেদের তুলে ধরার একটি সুযোগ পেয়েছি— সেটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, লড়াইয়ের বিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেখানো হবে। এ ছাড়া থাকবে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, মার্কিন সামরিক বিমানের ফ্লাইপাস্ট, প্যারাশুট প্রদর্শনী এবং ১০ মিনিটব্যাপী আতশবাজির আয়োজন, বর্ণিল এক বিশাল প্রদর্শনী।

এদিকে আয়োজনটি বন্ধের দাবিতে করা একটি আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছেন একজন মার্কিন বিচারক। দুই স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছিলেন, এ অনুষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনৈতিক।

ট্রাম্পের জন্মদিনের এ লড়াই ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের বড় অংশজুড়ে প্রভাব ফেলেছে।

লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে যোদ্ধাদের ওজন মাপার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল মলে বিশাল পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার মানুষের জায়গা রাখা হয়েছে।

৮০ বছরে পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ আয়োজন সেসব আলোচনা অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রায়ই নিজের প্রাণশক্তির সঙ্গে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনা করেন। বাইডেন একটি দুর্বল বিতর্ক-প্রদর্শনের পর দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

তবে হাতের কালশিটে দাগ, পায়ের শিরার সমস্যা এবং বৈঠকে ঘুমঘুম ভাব  এমন বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা নিয়েও ট্রাম্প আলোচনায় ছিলেন। যদিও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দাবি করেছেন, তিনি চমৎকার সুস্থ আছেন।

এ সপ্তাহে এক কর্মকর্তার পোস্ট করা ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যে জন্মদিনটি উদযাপন করছি, সেটি নিয়ে আমি খুব খুশি নই। এটি এমন একটি সংখ্যা, যা আমার পছন্দ নয়। তবে তবুও আমি এখানে আছি।’

বাস্তবে, রক্তাক্ত লড়াই আর জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজনের পুরো সময়জুড়েই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ট্রাম্প, যেমনটি তিনি সব সময়ই থাকেন।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া স্কুলের পরিচালক পিটার লজ বলেন, ‘তিনি প্রেসিডেন্সিকে এমনভাবে পরিচালনা করছেন, যেভাবে তিনি তার আগের পেশাকে পরিচালনা করতেন— একটি বড়, বর্ণিল প্রদর্শনী হিসেবে।’

গত বছর নিজের জন্মদিনে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নজিরবিহীন এক সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিলেন। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে রবিবার (১৪ জুন) ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং এর পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ করে দেওয়া হবে।

এর আগে ইরান ভিন্ন সময়সূচির কথা বললেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধরত পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘চুক্তিটি আগামীকাল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

প্রধান মধ্যস্থতাকারীদের অন্যতম পাকিস্তানের নেতাও এর আগে বলেছেন, চুক্তি এখন ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি’।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ চুক্তি ‘চূড়ান্ত’ হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ‘কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, রবিবার চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা দেশটির আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি ‘অবহিত সূত্রের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান এখনো চুক্তি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা কোনো ঘোষণা দেয়নি।

৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, একটি চুক্তি আসন্ন। কিন্তু নানা জটিলতায় আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি শনিবার বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং ‘এটি আগামীকাল হবে না’।

তবে তিনি যোগ করেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

যুদ্ধরত দুই পক্ষই চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। উভয় পক্ষই দেখাতে চায় যে, যুদ্ধ শেষে তারাই তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে মধ্যস্থতাকারী কাতারের একটি প্রতিনিধি দল রবিবার তেহরানে পৌঁছেছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরানের আইএসএনএ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক উপদেষ্টাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সফরের উদ্দেশ্য হলো ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা’।

তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

প্রণালীটিতে কার্যত অবরোধ আরোপের পর, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, ইরান দাবি করেছে, এ জলপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে তদারকি ও টোল আদায়ের জন্য নতুন একটি কর্তৃপক্ষও গঠন করা হয়েছে।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ‘বহুসংখ্যক একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন’ ছুড়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী এসব ড্রোন ভূপাতিত করেছে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার বলেন, আলোচনায় থাকা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর প্রশাসন আর আগের মতো থাকবে না।’ এ জলপথকে তিনি ইরানের ‘প্রধান প্রতিরোধমূলক উপকরণগুলোর একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টেও টোল বা অন্য কোনো ব্যবস্থার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

‘পারমাণবিক ডাস্ট’

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, যা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভূগর্ভে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।

আরাঘচি শুক্রবার বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সমাধানের একমাত্র উপায় হলো ‘ইরানের ভেতরেই সেটিকে পাতলা বা ডাইলিউট করা’।

ট্রাম্পের আগে বলেছিলেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্যই ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই ইউরেনিয়াম সরিয়ে ধ্বংস করবে।

শনিবারের পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যখন সবকিছু শান্ত হবে, তখন আমরা গিয়ে ওই পারমাণবিক ডাস্ট সংগ্রহ করব... এবং ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র, যেখানেই হোক, তা ধ্বংস করে ফেলব।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, বলেছেন ট্রাম্প তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে যেকোনো চুক্তিতেই সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান অপসারণের বিষয়টি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবাননও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এপ্রিল মাসে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা বাস্তবে মানা হয়নি। ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের আলোচনার পর গত সপ্তাহে নতুন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

রোববার ইসরাইলের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ২৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হামলার আগে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

এ ছাড়া তারা জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া বলে সন্দেহ করা তিনটি ড্রোন রোববার উত্তর ইসরাইলে আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রিফাত/

রোমানিয়ার নেতৃত্বে নতুন মুখ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আদ্রিয়ান ভেস্তেয়া

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
রোমানিয়ার নেতৃত্বে নতুন মুখ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আদ্রিয়ান ভেস্তেয়া
আদ্রিয়ান ভেস্তেয়া। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল লিবারেল পার্টির সদস্য ও সাবেক মেয়র আদ্রিয়ান ভেস্তেয়াকে রোমানিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন।

রবিবার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৫২ বছর বয়সী ভেস্তেয়া বর্তমানে রোমানিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় ব্রাসভ কাউন্টির কাউন্টি কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মনোনয়নের পর ভেস্তেয়া বলেন, তিনি একটি ‘রাজনৈতিক সরকার’ গঠন করতে চান যা ‘প্রকৃত সংস্কার করবে এবং রোমানিয়াকে পশ্চিমপন্থি পথে রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইউরোপের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ এবং উন্নয়নে আমাদের বড় জোর দিতে হবে। 

রোমানিয়ায় এই মাসে প্রেসিডেন্ট দানের দুটি প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের বিষয়টি ঘটছে গত মে মাসে অনাস্থা ভোটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইলি বোলোয়ানের সরকার উৎখাতের পরিপ্রেক্ষিতে। রোমানিয়ায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে নির্ধারিত নেই। ভেস্তেয়াকে ১০ দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে সংসদে আস্থা ভোট জিততে হবে।

উল্লেখ্য, রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতির দেশগুলোর একটি এবং দেশটি মূল্যস্ফীতি ও কারিগরি মন্দার মুখোমুখি রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল
ছবি: এআই

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে।

রবিবার (১৪ জুন) ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে যে, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে ইরানে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

এ সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/