বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভালো করেই জানতেন যে তিনি ইরানে উত্তরাধিকার-সূত্রে পাওয়া একটি অভিযান শুরু করতে চলেছেন।
১৯৯২ সাল। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের একজন ব্যাকবেঞ্চার নেতা তিনি। তখনই প্রথমবারের মতো সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে মাত্র কয়েক বছর দূরে রয়েছে। তখন থেকেই তিনি এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্র, তার জেনারেলদের, এমনকি সম্ভবত নিজের স্নায়ুর চাপে পিছিয়ে আসেন।
গত ১৮ মাস ধরে সামরিক অভিযান চলছে তেহরানের আঞ্চলিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে। যেমন গাজায় হামাস এবং লেবাননে হিজবুল্লাহকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তাই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে সতর্ক জেনারেলরাও একমত। হামলা চালানোর জন্য এর চেয়ে ভালো মুহূর্ত আর কখনো হতে পারে না। আর সেটাই করলেন নেতানিয়াহু।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা রয়ে গেল- হোয়াইট হাউস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন নেতানিয়াহুর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছিল, যারা বিশ্বাস করত যে ইসরায়েলের চেয়ে বড় বন্ধু আর কেউ নেই। তবু ডোনাল্ড ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে একগুঁয়ে আচরণ করেছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প তাতে ভেটো দেন।
তিনি কূটনীতিকে সংকট সমাধানের আরেকটি সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন এবং তার মধ্যপ্রাচ্যের দূত এবং গল্ফিং বন্ধু স্টিভ উইটকফকে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠান। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জনসমক্ষে তাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। একান্তে তারা হতবাক হয়েছিলেন।
গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে নেতানিয়াহু এক বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। ওই বৈঠকে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে খানিকটা দূরেই সরিয়ে রাখেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্কের ফাটলের গুজব শুরু হয়ে যায়। ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশ সফর করলেও জেরুজালেম এড়িয়ে যান। তখন ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য কৌশলে ইসরায়েল আর কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে দেখা যায়নি।
তবু নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আস্থা রেখে কাজ চালিয়ে যান, তাকে মনে করিয়ে দেন যে ইরান কীভাবে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল, যুদ্ধের জন্য যুক্তি তৈরি করেছিল।
ইতোমধ্যে ইরানের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য ক্রমশ কমে আসছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। এরপর মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, নেতানিয়াহু ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ভাগ করা একটি গোপন মূল্যায়নে তারা সতর্ক করে দিয়েছিল যে ইসরায়েল মার্কিন সমর্থনসহ বা ছাড়াই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে শিগগিরই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে নিরুৎসাহিত করার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু এবার একসময় ঝুঁকি নেওয়া ইসরায়েলি নেতা সরে গেলেন না।
ট্রাম্প যখন তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তখন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার নির্দেশ দেন। গত ৯ জুন তিনি তার সামরিকপ্রধানদের হামলার ব্যাপারে এগিয়ে যেতে বলেন। পরের দিন তিনি ট্রাম্পকে ফোন করেন। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেননি। তবে তিনি বলেছিলেন যে এবার তিনি আর ইসরায়েলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত তার দূতাবাসগুলো খালি করতে শুরু করে। ব্রিটেন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য সতর্ক করেছে। পেন্টাগনে পিৎজার অর্ডার বেড়ে গেছে।
১৩ জুন হামলার সেই রাতে প্রায় ২০০টি বিমান- বেশিরভাগই এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার এবং এফ-১৬ দক্ষিণ ইসরায়েলের ঘাঁটি থেকে জর্ডান এবং সিরিয়ার আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যায়। মধ্যরাতের ঠিক পরে তারা ইরানের অভ্যন্তরে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রত্যাশিত অভিযানগুলোর মধ্যে একটি ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ চলমান ছিল। ইসরায়েলি বিমানগুলো তেহরানের ১৩৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সামরিক ঘাঁটি এবং নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় আঘাত হানে।
কিন্তু এটি কেবল একটি বিমান হামলার চেয়েও বেশি কিছু ছিল। এক উত্তেজনাপূর্ণ গোপন গোয়েন্দা অভিযান একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছিল।
কয়েক মাস আগে মোসাদ এজেন্টরা ইরানের গভীরে অনুপ্রবেশ করেছিল, তেহরানের কাছে একটি গোপন ড্রোন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে অপারেটিভরা নকল-তলযুক্ত স্যুটকেস এবং বেসামরিক যানবাহনে লুকিয়ে বিস্ফোরক এবং বাণিজ্যিক কোয়াডকপ্টার ড্রোন পাচার করেছিল।
সম্মিলিত আক্রমণ ইরানের আত্মরক্ষার এবং পাল্টা আক্রমণ করার ক্ষমতা উভয়কেই ধ্বংস করে দেয়। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে ড্রোন, বিমান হামলা এবং নাশকতার মাধ্যমে একটি গণহত্যা অভিযান চালানো হচ্ছিল।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন অভিজাত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি। একইভাবে অনেক শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানীও মারা যান।
ওমানে আরেক দফা আলোচনার পর ইসরায়েল তাদের হামলা স্থগিত রাখবে বলে বিশ্বাস করে ইরান। তারা ভূগর্ভস্থ বাংকারে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে তাদের বাড়িতেই থেকে যায়। বেশির ভাগই তাদের বিছানায় নিহত হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই ২০ জন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৪ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা ফার্সিভাষী মোসাদ এজেন্টদের কাছ থেকে ভয়ংকর টেলিফোন কল পেয়েছিরৈন। ‘আমি এখন তোমাকে পরামর্শ দিতে পারি, তোমার স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে পালানোর জন্য ১২ ঘণ্টা সময় আছে। অন্যথায় তুমি এখনই তালিকায় আছ।’ ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা একটি রেকর্ডিংয়ে একজন গুপ্তচর একজন সিনিয়র জেনারেলকে এভাবেই বলছিলেন। ‘আমরা তোমার নিজের ঘাড়ের শিরার চেয়েও তোমার কাছে। এটা তোমার মাথায় গেঁথে রাখো। ঈশ্বর তোমাকে রক্ষা করুন।’
হামলার পরে জেরুজালেমে ফিরে নেতানিয়াহু উল্লাসে মেতেছিলেন। জাতীয় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসের এক নির্ণায়ক মুহূর্তে আছি। হুমকি দূর করতে যত দিন সময় লাগবে তত দিন এই অভিযান চলবে।’
প্রথম দিনে তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলেও ইরান পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তী কয়েক দিনে ইসরায়েল আরও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ১০ মিলিয়ন মানুষের শহর তেহরানে বিস্ফোরণে ৬০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হন। একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আঘাত হানে, যার ফলে জানালা ভেঙে যায়, যখন সম্প্রচারিত উপস্থাপক ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান। সম্প্রচারের মাঝপথে তিনি পালিয়ে যান।
রহস্যজনকভাবে গাড়ি বিস্ফোরণ এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ফলে রাজধানীর কিছু অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়, বাসিন্দারা পালিয়ে যেতে শুরু করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে মহাসড়ক আটকে যায়। জ্বালানি রেশনিং করায় অনেকেই আটকা পড়েন। স্যুটকেস জড়িয়ে পরিবারগুলো রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সির জন্য আবেদন করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আত্মগোপনে ছিলেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে সঙ্গে রেকর্ড করা বিবৃতি জারি করেন। নেতানিয়াহু তাকে হত্যার প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্প তাকে হত্যার পরিকল্পনায় ভেটো দিয়েছিলেন। ইসরায়েলের আক্রমণের মাত্রা এবং সাফল্যে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হন।
নেতানিয়াহু ভাবতে শুরু করলেন যে, পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ফোর্দোকে লক্ষ্য করে কাজটি সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র কি সাহায্য করবে?
ইরান পাল্টা লড়াই করছিল, কিন্তু অনেকের আশঙ্কার চেয়ে সীমিত আকারে। বছরের পর বছর ধরে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে আসছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেকোনো আক্রমণ অঞ্চলব্যাপী প্রতিশোধের সূত্রপাত করবে: নিশ্চিতভাবেই ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং উপসাগরের শহরগুলোতে, এমনকি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপরও আক্রমণ।
কিন্তু তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকায় ইসরায়েলের ওপর তাদের আক্রমণ কেন্দ্রীভূত করে। তেল আবিব এবং হাইফাসহ শহরগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে।
ইসরায়েলের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সর্বদাই উত্তীর্ণ হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাধাদানের হার অনুমানের চেয়ে কম ছিল। সম্ভবত পাল্টা ব্যবস্থায় ইরানের অগ্রগতি প্রতিফলিত হয়। যে ওয়ারহেডগুলো প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল, তার কয়েকটি তেল আবিবে আইডিএফ সদর দপ্তরের কাছে একটি টাওয়ার ব্লকে আঘাত করে। এই হামলা এত শক্তিশালী ছিল যে তা ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। তা ব্যাপক আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল। অনেক ইসরায়েলি বিশ্বাস করেছিল যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে, তারা ইরানের তাদের ওপর নিক্ষেপ করা সবকিছুকে প্রতিহত করতে সক্ষম।
এই হামলায় ইসরায়েলে ২৮ জন নিহত, ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি আহত, অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস, একটি তেল শোধনাগার ধ্বংস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিয়ারশেবার একটি প্রধান হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসরায়েলিরা প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর বোমা হামলার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যায়।
তবু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের অনুমানের চেয়ে অনেক কম ছিল। ২০১১ সালে ইসরায়েলি জেনারেলরা অনুমান করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বেসামরিক লোক নিহত হতে পারে। সেই সংখ্যা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
মার্কিন হস্তক্ষেপের দাবিও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েল সবচেয়ে আশাবাদী মূল্যায়নের চেয়েও ভালো পারফর্ম করেছে। তবু কেবল আমেরিকার ৩০ হাজার পাউন্ড, বাংকার ধ্বংসকারী ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটারের ফোর্দো ধ্বংস করার আসল সম্ভাবনা ছিল।
মিসৌরির হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে দুটি বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান বহর একই সঙ্গে রওনা দেয়। একটি দল প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে তার ট্রান্সপন্ডার পরিবর্তন করে যাত্রা করে, যার ফলে বাণিজ্যিক উপগ্রহ পরিষেবাগুলো এটিকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়। এটি দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। কিন্তু এটি ছিল একটি প্রতারণা। সাতটি বি-২-এর একটি আসল স্ট্রাইক ফোর্স, তাদের ট্রান্সপন্ডারগুলো অলক্ষ্যে আটলান্টিক পেরিয়ে উড়ে যায়। চতুর্থ এবং পঞ্চম যুদ্ধবিমানের একটি বহর দ্বারা প্রহরী, তারা অজ্ঞাতসারে ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করে। কিছুক্ষণ পরে তারা ফোর্দোতে ১২টি এবং নাতাঞ্জে আরও দুটি বাংকার-বাস্টার ফেলে। আরব সাগরে একটি রূপান্তরিত ওহিও-শ্রেণির সাবমেরিন নাতাঞ্জ এবং প্রাচীন শহর ইস্ফাহানের কাছে একটি পারমাণবিক কমপ্লেক্সে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ট্রাম্প দ্রুত বিজয় ঘোষণা করলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ এবং সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত’ করা হয়েছে।
৩৬ ঘণ্টা ধরে নীরবতা বিরাজ করছিল। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় কাতারে অবস্থিত পশ্চিমা দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের ‘স্থানে আশ্রয় নেওয়ার’ জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করে। উপসাগরীয় রাজ্যটি তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ইরানের প্রতিশোধের পথে ছিল ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে- প্রতিটি বাংকার বাস্টারের জন্য একটি করে- মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন বিমানঘাঁটি আল উদেইদকে লক্ষ্য করে। কিন্তু বিমানঘাঁটি খালি করা হয়েছিল। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নীরবে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে কর্মী প্রত্যাহারের জন্য এবং কাতারকে তার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছিল।
চলমান যুদ্ধবিরতি বহাল থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করে একটি প্রশ্নের ওপর। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? এটি এমন একটি প্রশ্ন, যার উত্তর এখনো কেউ দিতে পারেনি। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষের প্রথম পর্যায় হয়তো শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সামনে আরও বড় সমস্যা অপেক্ষা করছে।
অ্যাড্রিয়ান ব্লুমফিল্ড, টেলিগ্রাফের সাংবাদিক