ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা ‘বাস্তবিক অর্থে কার্যকর’ হলেও, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি আসতে চলেছে যদি ইরান পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণকে আটকাতে গঠিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (Nuclear Non-Proliferation Treaty) থেকে সরে দাঁড়ায়। এমনটাই মনে করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের মাক্রোঁ বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি এর পরিণতিতে ইরান এনপিটি (NPT) থেকে বেরিয়ে যায়। তাহলে শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়বে।’
এনপিটি (NPT) হচ্ছে এমন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। মাক্রোঁ জানান, তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, যাতে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যায়।
এমানুয়েল মাক্রোঁ ইতোমধ্যেই গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টা ও দিনের মধ্যে প্যারিস-তেহরানের সংযোগ সম্পর্কে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের লক্ষ্য হল সবাই যেন একমত হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আবার শুরু না করা যায়।’
ইরান ১৯৭০ সালে NPT-তে স্বাক্ষর করে, যার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (International Atomic Energy Agency – IAEA)-র কাছে তাদের পারমাণবিক উপাদানের হিসাব দিত। তবে সম্প্রতি ইরান অভিযোগ করেছে, IAEA আসলে ইজরায়েলের ‘আগ্রাসনের অংশীদার’ হিসেবে কাজ করছে। সেই প্রেক্ষিতেই তারা NPT ছাড়ার পথ তৈরি করতে শুরু করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে, আমেরিকা তিনটি ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে একাধিক আক্রমণ চালায়।এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের B-2 বম্বার থেকে ইরানের দুই পারমানবিক স্থাপনায় GBU-57 'bunker buster' বোমা, এবং একটি গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন থেকে তিন নম্বর কেন্দ্রে টোমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আক্রমণকে ‘অভাবনীয় সামরিক সফলতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ‘উড়ে গিয়েছে’।’
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়, এই হামলাগুলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে মাত্র। এরপর এই মূল্যায়নকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে প্রত্যাখান করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-সহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তা।
সুলতানা দিনা/