যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলার পরও ইরানে পরমাণু অস্ত্র তৈরির মতো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরকম দাবি করলেও তা মানতে নারাজ দেশটির একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (আইএইএ)।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও মিডল ইস্ট আইয়ের বরাতে জানা যায়, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্ফাহানে বাঙ্কার-বাস্টিং বোমা নিক্ষেপ করে। প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাগুলোর মাধ্যমে এসব কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি করা হয়। তবে ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলার পরেও ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে।
ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ইস্ফাহান কেন্দ্রের নিচে বড় আকারে ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে, যা এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞানীরা তা উদ্ধার করতে সক্ষম হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যদি ইরান এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা পুনরায় ব্যবহারের চেষ্টা করে, তবে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে এবং ইসরায়েল নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেবে।’
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে।’ তবে তিনি এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও স্বীকার করেছেন, হামলায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেন, ‘তিনটি স্থাপনার ওপর ব্যাপকভাবে হামলা করা হলেও, সেগুলোর কিছু অবকাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে। তার ভাষায়, ‘স্পষ্টভাবে বললে, কেউ এমন দাবি করতে পারেন না যে, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইএইএর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সংস্থাটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। এ কারণে এখন আর তাদের কোনো পরিদর্শককে ইরানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’
ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, অস্ত্র তৈরির জন্য নয়। কিন্তু ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্ব এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের আশঙ্কা, এই অক্ষত ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহার হতে পারে ইরানে।
বর্তমানে ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, যদি ইরান মাটির নিচে চাপা পড়া ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে কার্যক্রম পুনরায় চালু করে, তবে তা নতুন করে আন্তর্জাতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।