অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান (আইজিপি) দেশবান্ধু তেন্নকুনকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। এটি শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো চলমান দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রধান বরখাস্ত হতে চলেছেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) পার্লামেন্টের স্পিকার জগত বিক্রমারত্নে এ তথ্য জানান।
পার্লামেন্টের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সর্বসম্মতভাবে তেন্নকুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায়।
স্পিকার ভাষ্যমতে, 'এটি আমাদের সংবিধানিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই প্রথমবার কোনো আইজিপিকে অপসারণের সুপারিশ জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই পার্লামেন্টে অভিশংসন ভোট হবে এবং রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা ডিসানায়েকের জোট সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি পাস হওয়া প্রায় নিশ্চিত।'
পুলিশ প্রধান দেশবান্ধু তেন্নকুনকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যদিও সে সময় শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিলেন যে, তিনি এক বন্দিকে যৌনাঙ্গে মেনথল বাম মেখে নির্যাতন করেছিলেন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো- ২০২৩ সালে তার অনুমোদনে চালানো এক অভিযানে ওয়েলিগামা শহরে পুলিশ বাহিনীর দুই ইউনিটের মধ্যে গোলাগুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট তেন্নকুনের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক মামলার প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল।
এদিকে পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে, কয়েকদিন আগেই শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল পুলিশ কমিশন বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা নিলন্থ জয়বর্ধনেকে বরখাস্ত করেছে। তিনি ২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলায় (মৃত্যু: ২৭৯) নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দোষী হন।
এ অভাবনীয় পদক্ষেপগুলো শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বড় বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মেহেদী/