ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেদারল্যান্ডসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ডাচ সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি গাজার মানবিক সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ বলে জানিয়েছে ডাচ গণমাধ্যম।
এ ছাড়া, নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মোদি ইফরাইমকে তলব করে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয় ও অযৌক্তিক’ হিসেবে নিন্দা জানানো হবে বলে জানা গেছে।
ডাচ পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ভালদেকাম্প বলেন, “স্মোটরিচ ও বেন গভিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ তারা একাধিকবার ইহুদি বসতকারীদের দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন এবং গাজা উপত্যকায় জাতিগত নিধনের আহ্বান জানিয়েছেন।”
এই নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার উত্তেজনার সর্বশেষ প্রকাশ। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গাজায় দুর্ভিক্ষ এবং মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার এই ইস্যুতে ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফ ও ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ প্রকাশ্যেই সামাজিক মাধ্যমে মতবিরোধে জড়ান।
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে গাজায় সহায়তা বৃদ্ধির বিনিময়ে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সম্প্রতি ইউরোপীয় নেতারা অভিযোগ করছেন, ইসরায়েল যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে ইইউ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সহায়তা কর্মসূচি থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্কোফ জানিয়েছেন, তার সরকার এই ধরনের ‘অতিরিক্ত পদক্ষেপ’ সমর্থন করতে পারে।
এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জেরুজালেমে ডাচ রাষ্ট্রদূত ম্যারিয়েট শুয়েরমানকে তলব করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’আরের দপ্তর জানায়, “নেদারল্যান্ডস সরকারের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার এবং সরকারি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছে, তা বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রদূতকে ডাকা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, নেদারল্যান্ডস ইইউ-এর দ্বিতীয় দেশ যারা স্মোটরিচ ও বেন গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলো। এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে স্লোভেনিয়া একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর বাইরে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়েও গত মাসে একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এ ছাড়া, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
তবে ডাচ সরকারের প্রস্তাবিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘অত্যন্ত সামান্য এবং অনেক দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে বিক্ষোভকারীরা। কেউ কেউ একে বলছেন ‘শুধু প্রাথমিক পদক্ষেপ’। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল জাজিরা
মাহফুজ/