রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শুক্রবার ( ১ আগস্ট) তিনি এ কথা জানান। তার মতে, এ নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারাই সম্ভাব্য কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যেতে পারে, তা নির্ধারণে আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি পুতিন আরও জানান, মস্কোর লক্ষ্য পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সিদ্ধান্তে আসার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তে না আসতে পারলে রাশিয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এবার শুধু রাশিয়া নয়, দেশটির কাছ থেকে যেসব রাষ্ট্র জ্বালানি কিনে থাকে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। সূত্রের খবর বলছে, পুতিন এসব হুমকি আমলে নেননি। অন্যদিকে গতকাল রয়টার্সে প্রকাশিত খবর বলছে, পুতিন মস্কোর অবস্থান পরিবর্তনেরও কোনো ইঙ্গিত দেননি।
পুতিন শুক্রবার বলেছেন, কেউ যদি এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা নিয়ে হতাশ হয়ে থাকেন, তাহলে তা হয়েছেন বাড়তি প্রত্যাশার কারণে। উত্তর রাশিয়ায় বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ওই মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন জানান, পুরো ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনকে আক্রমণ করছে রাশিয়ার সেনারা। এ মুহূর্তে তাদের অগ্রগতি ভালো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি মনে করি রাশিয়া যা করছে, তা ন্যক্কারজনক।’
ট্রাম্প যেদিন ওই মন্তব্য করেছেন, সে দিনটিতেই ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল শুক্রবার মৃতের সংখ্যা প্রসঙ্গে জানান, মোট ৩১ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু।
জেলেনস্কি আরও জানান, শুধু জুলাইয়ে রাশিয়া ৩ হাজার ৮০০ ড্রোন ও ২৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ১২৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। জেলেনস্কি বলেন, এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির যৌথ প্রচেষ্টায় বন্ধ হতে পারে। এদিকে, ইউক্রেনে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার জরুরি বৈঠক করেছে। তাদের উদ্দেশ্য মিত্রদের একত্রিত করে রাশিয়ার ওপর যুদ্ধ অবসানে চাপ বৃদ্ধি করা। সূত্র: রয়টার্স