কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ভারত এ হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে। তবুও যুদ্ধের শঙ্কায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনী সতর্ক অবস্থানে চলে যায়।
গত ৭ মে রাতের একটু পর পাকিস্তানের অপারেশনস রুমে ভারতের সীমান্তে যুদ্ধবিমান শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল জহির সিধু চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে-১০সি যুদ্ধবিমান পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার লক্ষ্য ছিল ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা। এটি ফ্রান্সের তৈরি, অত্যাধুনিক এবং ভারতের বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী সম্পদ।
রাতের আঁধারে দুই দেশের প্রায় ১১০টি যুদ্ধবিমান ঘণ্টাখানেক লড়াই করে। এটিকে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় বিমানযুদ্ধ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি জে-১০সি থেকে ছোড়া পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর ফলে রাফালের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং যুদ্ধবিমান বিক্রির বাজারে চীনা প্রযুক্তি গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
পরে জানা যায়, ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগ চীনা পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সম্পর্কে ভুল হিসাব করেছিল। তারা মনে করেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার। এতে রাফালের পাইলট মিথ্যা নিরাপত্তাবোধে ছিল। কিন্তু পাকিস্তানিরা এটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে ছুড়েছিল।
এ ছাড়া পাকিস্তান ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবহার করে। এটি ভারতের যোগাযোগ ও সেন্সর সিস্টেমকে ব্যাহত করার চেষ্টা করে। যদিও ভারতীয় কর্মকর্তারা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় ভারত সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফ্রান্সের বিমানবাহিনী প্রধান ও দাসো অ্যাভিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত ওই অভিযানে একটি রাফাল হারিয়েছে। আরও দুটি বিমানও হারানোর কথা বলা হয়, যার একটি ছিল রাশিয়ার তৈরি সুখোই।
পাকিস্তান জানায়, তাদের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা এবং আত্মবিশ্বাসী প্রস্তুতিই এই সফলতার মূল কারণ। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা দাসো-সুখোই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি বিশ্বে দীর্ঘ পাল্লার এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত পার্থক্যের গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করে। সূত্র: রয়টার্স