ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহবাগে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ‘শান্তিচুক্তি’ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর ১৯ জুন আব্দুল্লাহ হিল রাকিব স্মরণে বিইউএফটি’তে স্মরণসভা বড় বিল্ডিং নয়, এবার জোর ‘হেলথ কার্ডে’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন চবিতে সংসদে বক্তব্য নিয়ে মুখোমুখি ছাত্রদল-ছাত্রশিবির বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, পরে মিলল মাদরাসাছাত্রের মরদেহ মাধবদীতে অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিনাজপুরে চুরির প্রস্তুতির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নের ত্রিমুখী পথনকশা: অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন ও জনসচেতনতা বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যনিলামে বিক্রির উদ্যোগ স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও
Nagad desktop

টিকটকে আসলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম
টিকটকে আসলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

এখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ট্রাম্পের একটি ভিডিওর মাধ্যমে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের নতুন অ্যাকাউন্টটি প্রকাশ করে। রয়টার্সের খবর।

@হোয়াইট হাউজ (@white house) নামের এই অ্যাকাউন্টের প্রথম ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর (আই অ্যাম ইওর ভয়েস)। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘আমরা ফিরে এসেছি আমেরিকা। টিকটকের কী অবস্থা?’

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ১৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফলে এই মাধ্যম ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথাবার্তা প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

অ্যাপটির প্রতি ট্রাম্পের নিজেরও কিছুটা বাড়তি গুরুত্ব বহন করে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে টপকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনমত বৃদ্ধিতে টিকটকের স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর ব্যাপক ব্যবহার করেছিল রিপাবলিকান শিবির। @real donald trump নামের ওই অ্যাকাউন্টটি অবশ্য ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল অ্যাকাউন্ট ছিল না।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্পের টিকটক অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজ মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যথেষ্ট সক্রিয় থাকেন। তবে একদম মাঝেমধ্যে এক্স অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মার্কিন জনগণের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যত ঐতিহাসিক সাফল্য আছে, তার সবই প্রচার করতে কাজ করে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক জনগণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে, টিকটক নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা সবসময়ই সন্দেহবাতিকগ্রস্ত ছিলেন। তাদের আশঙ্কা, এই অ্যাপ ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সহজেই হাতিয়ে নিতে পারছে চীন। 

সুলতানা দিনা/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ‘শান্তিচুক্তি’ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর ১৯ জুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ‘শান্তিচুক্তি’ চূড়ান্ত, স্বাক্ষর ১৯ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক 'শান্তি চুক্তি' চূড়ান্ত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি এখন কার্যকর। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তিতে সই করা হবে।

একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সাথে চুক্তিটি এখন পুরোপুরি সম্পন্ন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর যে অবরোধ ছিল, তা তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় এই চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া চুক্তিতে ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে ইরানের আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার তহবিল ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই খবর আসার পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ৪% কমে গেছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজার বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি সই করার আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হবে এবং বাকি ছোটখাটো বিষয়গুলো ঠিক করতে কাতারের দোহায় শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র: আল জাজিরা

আজহার/

শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক শান্তি সূচক (গ্লোবাল পিস ইনডেক্স বা জিপিআই) ২০২৬ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশের স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস’ (আইইপি) এই সূচক প্রকাশ করে। এবারের সূচকে বাংলাদেশের শান্তির স্তরকে ‘মাঝারি’ বা মিডিয়াম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম। ৫ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ২ দশমিক ২২৬। সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, সেই দেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ।

আইইপির জিপিআইয়ের এটি ২০তম সংস্করণ। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এই সূচকের আওতায় এসেছে। মূলত তিনটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই শান্তি সূচক তৈরি করা হয়। এগুলো হলো সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব এবং সামরিকীকরণ। এই তিন ক্ষেত্রে ২৩টি সূচক মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে ২ দশমিক ৫৭৯, চলমান দ্বন্দ্ব খাতে ২ দশমিক ২৩৭ এবং সামরিকীকরণ খাতে ১ দশমিক ৬১৫ স্কোর পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বরাবরের মতোই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৬তম। এই অঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ভুটানই ‘উচ্চ’ শান্তির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, বৈশ্বিক তালিকায় তাদের অবস্থান ৬৭তম। এরপরেই ১১১তম অবস্থান নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেপাল। অন্যদিকে চলমান দ্বন্দ্বের সূচকে অবনতি হওয়ায় ভারত এই অঞ্চলে পঞ্চম এবং বৈশ্বিক তালিকায় ১২৭তম অবস্থানে নেমে গেছে। ভারতকে ‘নিম্ন’ শান্তির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তান ১৫২তম এবং আফগানিস্তান ১৫৭তম স্থান নিয়ে এই অঞ্চলের সবচেয়ে অশান্ত দেশ হিসেবে তালিকায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেই শান্তির সবচেয়ে বড় অবনতি ঘটেছে। এই অঞ্চলে শান্তির মাত্রা গড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত চলমান দ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে, যা ৭ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত অবনতি দেখিয়েছে। এটি এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তসীমান্ত উত্তেজনাকে স্পষ্ট করে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টানা ১৯ বছরের মতো আইসল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষ পাঁচের বাকি দেশগুলো হলো নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ব তালিকায় সবচেয়ে অশান্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পর সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে সুদান, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী শান্তির মাত্রা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এটি বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে টানা ১২তম বার্ষিক অবনতি। জরিপ করা ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৯টি দেশে শান্তির পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, আর বিপরীতে উন্নতি হয়েছে মাত্র ৬২টি দেশে।

এই শান্তি সূচকে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান দ্বন্দ্বের কারণে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মূলত রপ্তানিনির্ভর এবং জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই ঝুঁকিতে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত হুমকিতে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও দেশটির আর্থিক বা রাজস্ব ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

আইইপি সতর্ক করেছে, যদি হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বা ব্যাঘাত ঘটে, তবে চরম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় দেশের জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এমন চরম সংকটে প্রথম বছরেই বৈশ্বিক জিডিপি শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোই সবচেয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের
ছবি: সংগৃহীত

চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে তাইওয়ান। গতকাল রবিবার চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীনের ভেতর ও বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাইপে। তাইওয়ানের দাবি, চীনের অর্থনৈতিক সংকট, কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক অসন্তোষের কারণে দেশটির ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং তথ্য দিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তাইওয়ানের সরকার বলেছে, চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতেই এই ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এটি এমন একটি নিরাপদ যোগাযোগমাধ্যম, যার মাধ্যমে চীনের বর্তমান ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট ব্যক্তিরা গোপনে তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন। 

তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা তৎপরতা চলে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তাইওয়ান।

তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো (এনএসবি) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে। এর সঙ্গে সামাজিক ও জীবিকাসংক্রান্ত নানা সমস্যাও বেড়েছে, যা জন-অসন্তোষকে উসকে দিয়েছে। এসব পরিস্থিতির কারণে ক্রমেই বেশিসংখ্যক চীনা নাগরিক তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে একটি এক মিনিটের প্রচারমূলক ভিডিও দেখা যায়, যা এনএসবির দাবি অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। ভিডিওতে এক চীনা সরকারি কর্মকর্তাকে দেখানো হয়, যিনি তার সহকর্মীদের তদন্তের মুখে পড়ে একে একে চাকরিচ্যুত হতে দেখছেন।

ভিডিওতে ওই কর্মকর্তা উত্তর চীনের উচ্চারণে বলেন, ‘আহ, আবারও একজনকে নিয়ে যাওয়া হলো।’ পরে বর্ণনাকারী বলেন, ‘পুরোনো সহকর্মীরা একে একে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওর শেষাংশে ওই কর্মকর্তাকে একটি মোবাইল ফোন কিনে ওয়েবসাইটে তথ্য পাঠাতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘এখনই পরিবর্তনের সময়।’

চীনের ভেতরে ওয়েবসাইটটি ব্লক করা হয়েছে। তবে অনেক চীনা নাগরিক ভিপিএন ব্যবহার করে পশ্চিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনের মতো নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ করেন। তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো দেশ-বিদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের সাহসিকতার সঙ্গে তথ্য দেওয়ার এবং পরিবর্তনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুরূপ উদ্যোগ অনুসরণ করেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে চীনা নাগরিকরা গোয়েন্দাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে পারবেন, যা তাইওয়ানের গোয়েন্দা তথ্যের উৎসকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।

অন্যদিকে চীনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে বেইজিং একটি ই-মেইল চালু করে, যেখানে তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তাইওয়ান সরকার বরাবরই বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন
চলতি বছরের ৯ মে মস্কোর রেড স্কয়ারে রুশ সেনাদের বিজয় দিবসের সামরিক মহড়া

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও সেনাবহর। তবে যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে পুতিনের সেই মূল শক্তিতে এখন টান পড়েছে। আর্থিক প্রণোদনা দিয়েও এখন আর আগের মতো তরুণদের সেনাবাহিনীতে টানতে পারছে না। একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক সেনা নিহত, অন্যদিকে দেশের ভেতরে দেখা দিয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শ্রমিকসংকট।

পশ্চিমা গোয়েন্দা ও অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রেমলিন এখন এক চরম উভয়সংকটের মুখোমুখি। তাদের হয় যুদ্ধের লক্ষ্য সীমিত করতে হবে, না হয় দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে ফেলতে হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এখন নতুন সেনা টানতে অবিশ্বাস্য সব অফার দিচ্ছে। কোনো তরুণ চুক্তিবদ্ধ হলে তাকে এককালীন ৮০ হাজার ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে, যা রাশিয়ার একজন সাধারণ মানুষের গড় বার্ষিক বেতনের চার গুণের বেশি। আবার কারও মাথায় যদি ঋণের বোঝা থাকে, তবে তার ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফের ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার পাশে বড় বড় বিলবোর্ড থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে এখন শুধুই বীর হওয়া বা দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপনের দেখা মিলছে।

এসব উদ্যোগের পরও সেনা নিয়োগ কমছে। রুশ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জানিস ক্লুগের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের প্রথম তিন মাসে সেনা নিয়োগ গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ কমেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক নাইজেল গুল্ড-ডেভিস বলেন, শুধু অর্থ দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না। রাশিয়ার ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকার নাগরিকদের অর্থ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই বিপুল অর্থের লোভ এখন আর তরুণদের টানতে পারছে না। রাশিয়া এখন প্রতি মাসে যত সেনা হারাচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন সেনা নিয়োগ করতে পারছে না।

রাশিয়া এরই মধ্যে হাজার হাজার সাবেক বন্দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সহায়তাও নিয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে। সম্প্রতি নতুন এক কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে বড় অঙ্কের ঋণ মওকুফের সুবিধাও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে কর্মক্ষম বিপুলসংখ্যক পুরুষ সেনাবাহিনীতে চলে যাওয়ায় রাশিয়াজুড়ে শ্রমিকসংকট তৈরি হয়েছে। গুল্ড-ডেভিস বলেন, শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নয়, সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রেও কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় শ্রমসংকট। 

পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় পাঁচ লাখ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছেন। এতে শ্রমিকসংকট আরও বেড়েছে এবং মজুরি ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

গুল্ড-ডেভিস আরও বলেন, নতুন কারখানা বা অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কিন্তু জনশক্তি বাড়ানো সহজ নয়। কারণ রাষ্ট্র চাইলেই জন্মহার বাড়াতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে ভারত, উত্তর কোরিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আরও শ্রমিক আনার চেষ্টা করতে পারে ক্রেমলিন।

এর চেয়েও বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হতে পারে দ্বিতীয়বারের মতো জোরপূর্বক সেনা সমাবেশ করা এবং পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। তবে পুতিন এটি এড়াতে চান, কারণ প্রথমবার এমন উদ্যোগ নেওয়ায় দেশের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল এবং বহু মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মারিয়া স্নেগোভায়া মনে করেন, রাশিয়া এখনো কিছুটা সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তবে অর্থনৈতিক চাপ দ্রুত বাড়ছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি এখন স্থবির হয়ে পড়ছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে এবং ভোক্তাদের আস্থা কমছে। মজুরি কিছুটা বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি।

অন্য দিকে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) বিশ্লেষক ক্যাটেরিনা স্টেপানেনকো বলেন, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, তার বাহিনী প্রথমবারের মতো শুধু ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে একটি রুশ অবস্থান দখল করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ইউক্রেন তাদের রোবোটিক সিস্টেম বা মানববিহীন স্থল যান(UGV) ব্যবহার করে ২২ হাজারের বেশি স্থল অভিযান চালিয়েছে বলেও তিনি জানান।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ইউক্রেন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। একই সময়ে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়লেও রাশিয়া ক্রমেই বেশিসংখ্যক সাবেক বন্দি ও অপ্রশিক্ষিত সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এতে তাদের বাহিনীর কার্যকারিতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। সূত্র: সিএনএন

নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত
ভেড়ামারা আন্তঃদেশীয় গ্রিড সাবস্টেশন

নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির ব্যাপারে ভারত সরকার সঞ্চালনের অনুমোদন দেয়নি। ফলে আজ ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির কথা থাকলেও তা পারছে না নেপাল। এর ফলে বাংলাদেশে কেবল পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করবে দেশটি।

কাঠমান্ডু পোস্টে গতকাল রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে।

হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটি নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম নয় বলে দাবি ভারতের।

অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে হলে একটি সংশোধিত বা নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সিদ্ধান্তের মতো আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন রয়েছে। নেপাল সাধারণত বর্ষা মৌসুমে তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে। তবে শীতকালে নিজেদের চাহিদা মেটাতে নেপালকে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের বাইরে অতিরিক্ত আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও একটি বোঝাপড়া হয়েছিল। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) সে অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির সুবিধা করে দিতে ভারতের ‘এনটিপিসি বিদ্যুৎ বাপার নিগম লিমিটেড’ (এনভিভিএন)-এর কাছে অনুরোধ করে। তবে নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, এনভিভিএন পরে দাবি করেছে, হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ভারত-বাংলাদেশ সঞ্চালন লাইনটি এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম নয়।

এর আগে, বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টি নেপাল-ভারত জেএসসি বৈঠকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নীতিগত চুক্তি হয় যে, নেপাল ভারতের আমদানি-রপ্তানি নির্দেশিকা মেনে এবং ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে। এ জন্য এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল। বাংলাদেশের কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.৪০ মার্কিন সেন্ট মূল্যে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের ক্ষেত্রেও একই হার প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল।

কাঠমান্ডু প্রথম ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল। নেপালের এই বিদ্যুৎ ধলকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে বাংলাদেশে রপ্তানি অনুমোদিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ‘ত্রিশূলী’ এবং ‘চিলিম’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো ভারতেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও এই প্রকল্পগুলো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল।