রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসান বা শান্তি আলোচনার নিয়ে এ পর্যন্ত কম জল ঘোলা হয়নি। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক হয়। সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এই বৈঠকে ‘ভূমি বিনিময়’ -এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
তারপর, এ সপ্তাহে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অংশ নিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এসময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ইউরোপের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু এত কিছুর মধ্যেই ইউক্রেনের তিনটি গ্রাম দখল করেছে রাশিয়া। বুধবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এই তথ্য জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রুশ বাহিনীর দখল করা তিনটি গ্রামের নাম সুখেৎস্কি, প্যানকিভকা এবং নোভোগিওরগিভকা। এগুলোর মধ্যে সুখেৎস্কি এবং প্যানকিভকা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দোনেৎস্কের এবং নোভোগিওরগিভকা গ্রামটি মধ্যপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের। টেলিগ্রাম পোস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধ ছিন্নভিন্ন সম্প্রতি এই তিনটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা।
ইউক্রেনীয় বাহিনী থেকে এখনও এই ঘটনার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের আবেদনকে ঘিরে কয়েক বছর টানাপোড়েন চলার ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী।
অভিযান শুরুর পর আট মাসের মধ্যে ইউক্রেনের ২ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝাপোরিজ্জিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খেরসনের বড় অংশ দখল করে রুশ বাহিনী। ওই বছরই ইউক্রেনের এই চার প্রদেশকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মস্কো।
এমন প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের নতুন তিনটি গ্রাম দখল করল রাশিয়া।
সুলতানা দিনা/