অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় বিষাক্ত মাশরুম দিয়ে তৈরি বিফ ওয়েলিংটন খাইয়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে এরিন প্যাটারসন (৫০) নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কমপক্ষে ৩৩ বছর না কাটানো পর্যন্ত তিনি মুক্তির আবেদন করতে পারবেন না। দেশটির ইতিহাসে নারী আসামির জন্য এটিই অন্যতম দীর্ঘতম সাজা।
২০২৩ সালের ওই ঘটনায় মারা যান এরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি ডন ও গেইল প্যাটারসন (উভয়ের বয়স ৭০) এবং গেইলের বোন হিদার উইলকিনসন (৬৬)।
তবে এ ঘটনায় বেঁচে যান হিদারের স্বামী (স্থানীয় পাদ্রী) ইয়ান উইলকিনসন। কোমা থেকে সেরে উঠলেও এখনও তিনি স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন।
শুনানিতে বিচারপতি ক্রিস্টোফার বেল রায়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড “সবচেয়ে ভয়াবহ শ্রেণিতে” পড়ে এবং ঘটনার পর আসামি কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেননি। ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার সময়ও তিনি “দয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
আদালত এরিনকে তিনটি হত্যার দায়ে তিন দফা যাবজ্জীবন এবং হত্যাচেষ্টার দায়ে আরও ২৫ বছরের সাজা দিয়েছেন। তবে তার প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছে, কারণ নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় একাকী সেলে কাটিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি হতে পারে।
প্রসিকিউশন যুক্তি দিয়েছিল, তাকে মুক্তির কোনো সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া উচিত। তবে আদালত বলেছে, তিনি দেশের অন্যতম কুখ্যাত বন্দি হয়ে থাকবেন এবং বহু বছর উচ্চ নিরাপত্তায় কাটাতে হবে।
ঘটনার পর থেকে এরিন দাবি করে আসছিলেন, খাবারে ব্যবহৃত মাশরুম দুর্ঘটনাবশত মিশে গিয়েছিল এবং তার হত্যার কোনো অভিপ্রায় ছিল না।
তবে বিচারক মন্তব্য করেন, “কেবল আপনিই জানেন কেন এই অপরাধ করেছেন।”
রায়ের দিন আদালতে নজিরবিহীনভাবে টেলিভিশন ক্যামেরা ঢুকতে দেওয়া হয় এবং সরাসরি সম্প্রচার করা হয় পুরো কার্যক্রম।
আদালতের বাইরে একমাত্র জীবিত ভুক্তভোগী ইয়ান উইলকিনসন বলেন, “এই দুর্ঘটনা আমার পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করেছে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, একে অপরের প্রতি সদয় থাকুন।”
এরিনের কাছে রায় ও দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ২৮ দিনের সময় রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
মেহেদী/