দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিন শিশুসহ চার মার্কিন নাগরিকসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। লেবানন সরকারের বরাতে সিএনএনের খবর।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাবননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিনতে জবেইলে একজন হিজবুল্লাহ অপারেটরকে "হামলা করে হত্যা" করেছে। তবে সঙ্গে তারা এও স্বীকার করেছে যে, এই হামলায় "অনেক বেসামরিক নাগরিক" নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, " আইডিএফ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের যেকোনো ক্ষতির জন্য দুঃখিত এবং যতটা সম্ভব ক্ষতি কমানোর জন্য কাজ করে। ঘটনাটি পর্যালোচনাধীন।"
এদিকে, লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে একজন বাবা এবং তার তিন সন্তান ছিলেন, যারা মার্কিন নাগরিক ছিলেন।
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজি আরো বলেন, "ইসরায়েলি হামলায় আমেরিকান পরিবারটির মা-ও আহত হয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।"
সিএনএন এই হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লেবাননের রাষ্ট্র পরিচালিত এনএনএ নিউজ জানিয়েছে, একটি ড্রোন একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মার্সিডিজ গাড়ি লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এ সময় গাড়িতে থাকা বাবা এবং তার সন্তানরা নিহত হন। মোটরসাইকেল আরোহী, যিনি হামলার স্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, তিনিও নিহত হয়েছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে একটি "গণহত্যা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইসরায়েলি হামলাটিকে "দক্ষিণে তাদের গ্রামে ফিরে আসা জনগণকে লক্ষ্য করে ভীতি প্রদর্শনের বার্তা"-হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি "আন্তর্জাতিক প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে" আহ্বান জানান।
সুলতানা দিনা/