যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের উত্তরে ইহুদিদের উপাসনালয় সিনাগগে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন, যাকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।
ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি ছিল একটি “সন্ত্রাসী” হামলা। তবে ঘটনার পর জনসাধারণের আর কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্রাম্পসল এলাকার হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগের বাইরে গাড়িচাপা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনজন গুরুতর আহত রয়েছেন। নিহত দু’জন ইহুদি ধর্মের লোক ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে সন্দেহভাজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং কয়েক মিনিট পরই অ্যাম্বুলেন্স এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হামলার সময় পুলিশ “প্লাটো” কোড জারি করে, যা সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ভেবেছিলেন আতশবাজি ফুটছে।
স্থানীয়রা মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে ভালো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডেনমার্ক সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের সব সিনাগগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। দেশে ফিরে তিনি জরুরি “কোবরা” বৈঠকে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। স্টারমার বলেন, ইয়োম কিপুরে এই হামলা ঘটায় তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
রাজা চার্লস, ইসরায়েলি দূতাবাস, ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলসহ বিভিন্ন পক্ষ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে পুলিশকে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। পরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় সন্দেহভাজনকে।
ইয়োম কিপুর ইহুদিদের পবিত্রতম দিন। এসময় সিনাগগগুলো সাধারণত উপাসক দিয়ে ভরা থাকে। ফলে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করছে। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
মাহফুজ/