গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজায় নীরব রাত কাটিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। কোনো ইসরায়েলি ড্রোনের আওয়াজ ছিল না রাতে। ছিল না কোনো বিস্ফোরণের শব্দ। এমনকি সড়ক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাওয়ার শব্দও শোনা যায়নি।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খৌদারি বলেন, ‘আজ রাতে গাজার আকাশে শুধু একটি জিনিসই বিরাজ করছে, আর তা হলো- আশা। কোনো ড্রোন নেই, কোনো বোমা নেই, আকাশ কমলা হয়ে উঠছে না। শুধু নীরবতা রয়েছে, যা এখানে খুবই বিরল। এটিকে অনেকটাই অদ্ভুত মনে হচ্ছে।’ গত দুই বছরের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো রাতে গাজায় বিমান হামলা হয়নি বা অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শোনা যায়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আজ ড্রোন বন্ধ হয়ে গেছে, কোনো আওয়াজ শোনা যায়নি। আমরা নিরাপদে আছি, আমাদের শিশুরা নিরাপদে আছে। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে শান্তিতে একত্রে বসতে পারছি। এটি ভালো।’
আল-জাজিরার খবর বলছে, দক্ষিণ গাজাজুড়ে প্রচুর তাঁবু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একাধিকবার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অবশেষে তারা শান্তির একটি মুহূর্ত খুঁজে পেয়েছে। আরেক নারী বলেছেন, গত দুই বছর ধরে আমরা দুঃখ ও দুর্দশা সহ্য করেছি, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমি খুশি। আমাদের ভেতরে থাকা ভয় চলে গেছে এবং আমরা এখন আমাদের জীবিত স্বজনদের, পরিবারদের, প্রতিবেশীদের ও বন্ধুদের দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধ থামার পর থেকে আমি সত্যিকার অর্থেই খুশি। আজ আমি বাজারে গিয়েছিলাম এবং আমার বোনের সঙ্গে দেখা করেছি। তাকে আমি গত দুই বছর দেখিনি। তাকে দেখার পর সত্যিকার অর্থেই হৃদয়ে আনন্দ অনুভব করেছি আমি।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলেছে গাজার যুদ্ধ। ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় এ সময়ের মধ্যে ৬৭ হাজার ২১১ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬১ জনেরও বেশি।
ইসরায়েলি হামলায় পুরো গাজাই বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। খান ইউনিসের ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু ওই অঞ্চলের রাস্তা থেকে চার লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সরাতে হবে। ওই অঞ্চলের পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়াও শহরটির পয়োনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা