ইসরায়েলি জিম্মিদের বিপরীতে ইসরায়েল নিজ দেশের কারাগারে থাকা ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে। এ ছাড়া ইসরায়েলি সামরিক আদালতের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৫০ জনকেও মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে হামাস যাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করেছিল। সে রকম প্রখ্যাত কারও নাম নেই এ তালিকায়। এ রকম একজন হলেন- মারওয়ান আল-বারঘৌতি। তিনি সুপরিচিত ফাতাহ নেতা। হামাস তার মুক্তির জন্য একাধিকবার বলেছে।
মুক্তি পেতে চলা বন্দিদের তালিকায় নেই ডাক্তার হুসাম আবু সাফিয়ারের নামও। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। আল-জাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলি কারাগার কর্তৃপক্ষ মুক্তির তালিকায় থাকা সব ফিলিস্তিনিকে এক স্থানে এনে জড়ো করতে শুরু করেছে গতকাল শনিবার থেকে। সব ঠিক থাকলে সোমবার মুক্তি পেতে পারেন তারা।
কে এই মারওয়ান আল-বারঘৌতি
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম কোবরায় ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া মারওয়ান আল-বারঘৌতি বেশ সুপরিচিত ফিলিস্তিনি নেতা। তিনি বরাবরই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের জন্য কথা বলে এসেছেন। ফিলিস্তিনের ভঙ্গুর রাজনীতির নানা অংশের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করার মতো ক্ষমতা রাখেন তিনি।
কিশোর বয়স থেকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন বারঘৌতি। পরে ১৯৯৪ সালে পরিণত হন অধিকৃত পশ্চিম তীরের নেতায়। বর্তমানে হত্যাচেষ্টা ও সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি আছেন। ২০০২ সালে ইসরায়েলি সামরিক আদালত তাকে পর পর পাঁচটি যাবজ্জীবনের সাজা শোনায়।
বারঘৌতি আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলেননি সে সময়। ইসরায়েলি আদালতের কর্তৃত্ব মেনে নিতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। বারঘৌতি শুধু বলেছিলেন, সশস্ত্র প্রতিরোধ সমর্থন করলেও বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিরোধী তিনি।
বারঘৌতি কারাগার থেকেও ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা চালিয়ে গেছেন। প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনারস ডকুমেন্টের অন্যতম লেখক তিনি। সেখানেও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কথা বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ওপর হামলা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে চালানোর কথা বলা হয়েছে।
এবার বারঘৌতিকে মুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেছিল হামাস। তারা চেষ্টাও করেছে। কিন্তু ইসরায়েলের তালিকা থেকে এটুকু স্পষ্ট যে বারঘৌতি এবারও মুক্তি পাচ্ছেন না। সূত্র: আল-জাজিরা