যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিরা গাজায় খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদের জন্য কষ্ট করছেন। যেটুকু সহায়তা প্রবেশ করছে তা যথেষ্ট নয়। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর প্রতিদিন প্রায় ৫৬০ টন করে খাবার প্রবেশ করছে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে। কিন্তু এটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশ অল্প।
ডব্লিউএফপির মুখপাত্র আবির এতেফা বলেন, ‘আমরা এখনো প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে নিচে রয়েছি। তবে আমরা চেষ্টা করছি সেখানে পৌঁছানোর। যুদ্ধবিরতি একটি সংকীর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে এবং ডব্লিউএফপি খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ জাতিসংঘের সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, তাদের কাছে পুরো গাজাকে তিন মাস খাবার বিতরণের মতো যথেষ্ট রসদ রয়েছে।
মূলত ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজায় সহায়তা ও প্রয়োজনীয় রসদ প্রবেশের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। সে কারণেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংস্থাগুলোকে। এক ইসরায়েলি সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফা সীমান্ত পারাপার মানুষের জন্য খুলে দিতে আরও দেরি হবে।
এ প্রসঙ্গে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব রোমের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়া দেসি বলেন, ‘ইসরায়েলের আপাতত সীমান্ত খুলে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই।’ দেসি আরও জানান, ওই সীমান্ত পারাপারটি সহায়তা ও ওষুধ আনা-নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসরায়েলের সেটিকে এভাবে আটকে রাখা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে তারা যদি উপত্যকায় আর কোনো মানুষকে হত্যা করে, তাহলে ভেতরে ঢুকে তাদের হত্যা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। কারণ হামাসের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেটিতে এ বিষয়টি নেই। ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও আবার উল্লেখ করেছেন।
গাজার যুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭ হাজার ৯৬৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৭৯ জন। ইসরায়েল নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় বেসামরিক মানুষই মারা গেছে বেশি। সূত্র: আল-জাজিরা