বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজার অন্তত ১৫ হাজার ফিলিস্তিনির জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু রাফা সীমান্ত বন্ধ থাকায় তারা বের হতে পারছেন না। যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়নি। ওই ১৫ হাজারের মধ্যে তিন হাজার শিশু।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, দুই বছরের টানা ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় এখন ৬১ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। সংস্থাটি জানায়, তাদের মাঠপর্যায়ের দলগুলো বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ন্যূনতম জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে। তাদের বসবাসের পুরো পাড়া-মহল্লা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েল সরকার এর আগে ইউএনআরডব্লিউএ-কে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করতে নিষিদ্ধ করেছিল। তারা অভিযোগ তুলেছিল যে সংস্থাটির কিছু কর্মী ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত’ এবং হামাসের সদস্য। তবে গতকাল আন্তর্জাতিক বিচার আদালত জানিয়েছে, ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত কিছু দিতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত জানিয়েছে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের দায়িত্ব গাজার জনগণের কাছে মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। আদালত আরও বলেছে, ইসরায়েল ‘ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তারা সীমান্তে প্রবেশাধিকার দেওয়া, প্যালেস্টিনিয়ান অথোরিটিকে সংশ্লিষ্ট করা ও গাজার আহতদের জন্য চিকিৎসা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়েও চাপ প্রয়োগ করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের গাজা অভিযানে অন্তত ৬৮,২৩৪ জন নিহত এবং ১,৭০,৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করে গোষ্ঠীটি।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ৫৪টি অজ্ঞাত ফিলিস্তিনির মরদেহের কয়েকটিতে নির্যাতন ও হত্যার চিহ্ন দেখা গেছে। এসব মরদেহ পরে অবরুদ্ধ উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকার গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে তারা।
ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ গভর্নরেট থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এক নিরাপত্তা সূত্র ওয়াফাকে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী রামাল্লাহর উত্তরে জালাজোন শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালিয়ে হামজা মোহাম্মদ দালাশ ও মোহাম্মদ আবদুল জলিল দালাশকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমে কোবার শহরে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ হিশাম শানানকে আটক করা হয়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হেবরনে সাতজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, সাঈদ সাদী আল-হাইমুনি ও তার ছেলে ফাদেল, তারেক আল-নাজ্জার, সাদী আবু ওয়াহদান, আহমেদ নাদের কারামেহ, আতেফ রাজাই আল-হাইমুনি ও তালাল আল-নাজ্জার।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনের একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের বাড়িঘর তছনছ করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা