যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান ইউরোফাইটার ক্রয় নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আঙ্কারা থেকে এএফপি জানায়, তুরস্ক ইউরোপীয় দেশগুলোর তৈরি এই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন যৌথভাবে এই ইউরোফাইটার তৈরি করে। নিজেদের বিমানবাহিনী আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে তুরস্ক ৪০টি বিমান কিনতে চায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, আলোচনা চলমান আছে এবং যুক্তরাজ্য তুরস্ককে কয়েকটি বিমান হস্তান্তর করবে। তবে তিনি সঠিক সংখ্যা জানাননি। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুটি বিমান হস্তান্তর করা হতে পারে।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট অ্যারন স্টেইন বলেন, তুরস্ক ও ইউরোফাইটার প্রসঙ্গটি বেশ দীর্ঘদিনের বিষয়। অতীতে আঙ্কারা ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ প্রকল্পে মনোযোগ দিয়েছিল।
তিনি বলেন, আঙ্কারাকে কয়েক দফা কনসোর্টিয়ামের সমমর্যাদাসম্পন্ন সদস্য হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা এফ-৩৫ বেছে নেয়।
২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ প্রকল্প থেকে বহিষ্কার করার পর আঙ্কারা ইউরোপের দিকে নজর দেয়।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে তুরস্কের অবস্থানের কারণে প্রথমে জার্মানি এই ইউরোফাইটার বিক্রির বিরোধিতা করেছিল। তবে জুলাইয়ে তারা তাদের আপত্তি তুলে নেয়। ফলে বিক্রির পথ খুলে যায়।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বৃহস্পতিবার এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করতে আঙ্কারা সফর করবেন।
গত সপ্তাহে এরদোয়ান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে আলোচনার জন্য দোহা সফর করেন। সেখানে তুরস্ক কাতারের ইউরোফাইটারগুলোর কিছু অংশ কেনার প্রস্তাব দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের অনুমোদন সাপেক্ষেই সম্ভব হবে। কারণ লন্ডনের অনুমতি ছাড়া চুক্তি কার্যকর করা যাবে না।
দোহা বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ক্রয় চুক্তি না হলেও দুই নেতা একটি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তুর্কি কর্মকর্তা জানান, অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো সুরাহা করতে কাতারের আমির মঙ্গলবার আঙ্কারায় আসবেন।
পর্যবেক্ষকরা জানান, কাতার ২০১৭ সালে ২৪টি ইউরোফাইটারের অর্ডার দেয়, যার শেষ দুটি বিমান এই বছরের শেষ নাগাদ সরবরাহের কথা রয়েছে।
অ্যারন স্টেইনের মতে, যুক্তরাজ্য যেসব বিমান তুরস্ককে দিতে পারে, সেগুলো মূলত কাতারের জন্য নির্ধারিত ছিল। দোহায় পাঠানোর পরিবর্তে সেগুলো সরাসরি তুরস্কে পাঠানো হবে।
গাজার ভবিষ্যৎও এরদোয়ান ও স্টারমারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তুরস্ক আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী। তবে ইসরাইল এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে।
নাঈম