ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত দরিদ্র আমেরিকানদের খাদ্য সহায়তা প্রকল্প বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্য।
অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানসাস, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, উইসকনসিনসহ মোট ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলায় অংশ নিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলদের নেতৃত্বে এই ২৫ অঙ্গরাজ্য ও ডিসি (ওয়াশিংটন ডিসি) এই মামলা করেছে। তাদের যুক্তি, প্রশাসন যদি জরুরি তহবিল ব্যবহার না করে, তবে তা আইনবিরুদ্ধ হবে এবং কোটি কোটি আমেরিকান খাদ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএন বলছে, প্রায় চার কোটি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ ঠেকাতে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। প্রশাসন যেন ৬০০ কোটি ডলার জরুরি তহবিল ব্যবহার করে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (এসএনএপি) চালু রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক দপ্তর (ইউএসডিএ) জানায়, তারা এই জরুরি তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আর ব্যবহার করবে না। সংস্থাটি বলেছে, এই টাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অন্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এটি নিয়েই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের খেলা চলছে। প্রায় একমাস ধরে চলমান ফেডারেল প্রশাসনের অচলাবস্থা বা শাটডাউনেরও এখনও কোনও সমাধান হয়নি।
ইউএসডিএ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, “সহজভাবে বললে, কূপ এখন শূন্য”, অর্থাৎ খাদ্য সহায়তার অর্থ শেষ।
মামলায় আরও বলা হয়, “এসএনএপি সুবিধা বন্ধ হলে জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খাদ্য সহায়তা বন্ধ মানেই অনাহার, অপুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা। আর এটি শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি, ক্লান্তি, বিষণ্নতা ও আচরণগত সমস্যার মতো গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।”
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে নিজের ব্যর্থতার দাগ মুছতে ব্যস্ত, তখন তিনি নিজের দেশের কোটি মানুষকে অনাহারে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা নির্মমতা, তিনি আমেরিকার জনগণের প্রতি যে কতটা উদাসীন, সেটাই এখন দেখা যাচ্ছে।”
জবাবে ইউএসডিএ ডেমোক্র্যাটদেরই দায়ী করেছে। সংস্থাটি বলেছে, “ডেমোক্র্যাটদের এখন ঠিক করতে হবে— তারা কি নিজেদের দলের চরমপন্থি অংশের পক্ষে থাকবে, না সরকার পুনরায় চালু করে মায়েরা, শিশু ও দরিদ্ররা যেন সময়মতো খাদ্য সহায়তা পায়, তার ব্যবস্থা করবে।”
সুলতানা দিনা/