ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব
Nagad desktop

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম
আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার।

দেশটির সংবিধান সংশোধনের এই পরিকল্পনা সেনাপ্রধানের নিয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড সংক্রান্ত সংবিধানের ২৪৩ ধারা পরিবর্তনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো ২৭তম সংশোধনীর অংশ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ বিষয়ে এক প্রতিদেন প্রকাশ করে। 

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে কথা বলার সময় এই খবরগুলো নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, সরকার এটি আনছে এবং আনবে...২৭তম সংশোধনী আসবে... এবং আসতে চলেছে। আমরা চেষ্টা করব নীতি, আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী এটি উত্থাপন করতে।’

এর আগে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে মে মাসে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল করা হয়। পাকিস্তান এবং বিদেশে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে ইসলামাবাদ তার সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা করছে, যা সম্ভবত সামরিক বাহিনীকে আরও ক্ষমতা দেবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার নিশ্চিত করেছে যে, তারা শিগগিরই সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী সংসদে উত্থাপন করবে, যার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড সম্পর্কিত প্রস্তাবিত পরিবর্তন রয়েছে।

সমালোচকদের উদ্বেগ
দেশটির সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন যে, সংবিধান সংশোধনের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানে মুনিরের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকে আরও সুরক্ষিত করবে। সামরিক বাহিনীর সরাসরি শাসনের ইতিহাস, বেসামরিক সরকারের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে এর ভূমিকার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন।

এর আগে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির একটি টুইটের পর সংবিধানে এই পরিবর্তন নিয়ে জল্পনা শুরু হয় যে, সরকার ২৭তম সংশোধনীর জন্য তার কাছে সমর্থন চেয়েছে।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংবিধারেনর সংশোধনের বিষয়ে বিরোধীদল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি আশ্বাস দেন, ‘এমন নয় যে সংশোধনী উত্থাপন করা হবে এবং এলোমেলোভাবে, অ্যাডহক পদ্ধতিতে তার ওপর ভোটাভুটি হবে; এমনটি হবে না।’

প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কী?
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২৭তম সংশোধনীর অধীনে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ২৪৩ ধারার পরিবর্তন, যা সেনাপ্রধানের নিয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবটিতে সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া সরলীকরণ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পুনরুদ্ধার এবং বিচারকদের বদলির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সম্পদে প্রদেশগুলোর ভাগ কমানো হবে এবং শিক্ষা ও জনসংখ্যা কল্যাণ মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণ প্রদেশগুলো থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে স্থানান্তর করা হবে, এবং জাতীয় অর্থ কমিশনের অধীনে প্রাদেশিক ভাগের সুরক্ষার অবসান ঘটানো হবে।

পদক্ষেপটির সমালোচনা
সাবেক সিনেটর মুস্তফা নওয়াজ খোখারের উদ্ধৃতি দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, এই সংশোধনী নতুন ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ পদ প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যা কার্যকরভাবে পাকিস্তানের বেসামরিক-সামরিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে।

খোখার বলেন, ‘এই পদক্ষেপ দেশের অবকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেবে... আপনারা কি দেশটিকে অন্য কারও হাতে তুলে দিচ্ছেন? বেসামরিক আধিপত্যের ধারণার কী হলো? এই সংশোধনী বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এস্টাবলিশমেন্টের অধীনে নিয়ে আসবে, যা জাতির ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেবে।’

শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং পিপিপি সিনেটর রাজা রব্বানিও বলেন, সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপটি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ১৮তম সংশোধনীর ভালো কাজকে বাতিল করে দেবে।’

সংবিধান সংশোধনী পাসের প্রক্রিয়া
সরকারকে এই সংশোধনী সিনেট এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাস করতে হবে। ৩৩৬ সদস্যের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সরকারের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যের সমর্থন রয়েছে, যেখানে তাদের ২৩৩ জন সদস্যের সমর্থন আছে।

কিন্তু ৯৬ সদস্যের সিনেটে তাদের মাত্র ৬১ জন সদস্য রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে তাদের কমপক্ষে তিনজন বিরোধী সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। সরকার মাওলানা ফজলুর রেহমানের নেতৃত্বাধীন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফজল-এর সমর্থন পেতে পারে।

তবে, পিটিআই নেতা হামিদ খান জানান, তার দল এই সংশোধনীর বিরোধিতা করবে এবং সংবিধানকে ধ্বংস করার সরকারি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে।

ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের উত্থান
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান আসিম মুনিরকে ভারতের অপারেশন সিঁন্দুরের পরে মে মাসে ফিল্ড মার্শাল করা হয়। তখন থেকে তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক ময়দানে তার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার জন্য কাজ শুরু করন। তিনি বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দলের অংশ হয়েছেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার সময় তার ভূমিকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছেন। সূত্র; এনডিটিভি

সুমন/

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন
ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজায় গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ জন।

গুরুতর আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

 খবরটি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনার ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছে মাত্র ৭ মাস বয়সী এক শিশু। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বাবা ও মা।

 অবশ্য ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, সৈন্যদের দিকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসতে দেখেই নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি ছোড়ে তারা।

গেলো বছরের অক্টোবর থেকে কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহত হামলায় প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ১ হাজার মানুষের।

গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি।

এসএন/

হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর দিকে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৫ জুন) এর জবাবে ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নীতির মধ্যে এ ঘটনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘আক্রমণকারী ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।’

বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দর কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

সেন্টকম জানায়, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রণালীর একটি দ্বীপসহ একাধিক রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সবশেষ অধ্যায়, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং তা সম্প্রসারণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সপ্তাহের শুরুতে একটি ইরানি ড্রোন কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানলে একজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

যদিও এসব হামলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

উইসকনসিনে কৃষকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই ইরান ইস্যুর সমাধানে পৌঁছাব। সেটা আলোচনার মাধ্যমে হোক বা কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আমরা সফল হব।’

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সংঘাতের মধ্যে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছেন, যা বর্তমানে অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শর্ত এবং ইরানের নীরব অবস্থান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের জন্য খুবই কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। তারা স্বাধীন, শক্তিশালী এবং গর্বিত জাতি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু সিদ্ধান্ত তাদের নিতেই হবে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে এখনও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তা নিয়েও মার্কিন প্রশাসন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৯জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের দুই সৈন্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের চলমান সংঘাত ইরান-সংক্রান্ত সংকট নিরসন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রচেষ্টাকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ ইরান দাবি করে আসছে, যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ভারত মহাসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় সীমিত করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশেই ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিকল হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সত্য নয়।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার ভোরে বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে করে তুলতে পারে আরও জটিল। সূত্র: বাসস

আমান/

অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশিসহ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের ১০টি পৃথক চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয়তার সত্যতা নিশ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা যখন এই ধরনের মামলাগুলো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পাঠাই, তখন তারা ওই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমাদের এই ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে ঝুলে রয়েছে। আমরা আশা করি, এই অনুরোধগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি