পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির হুঁশিয়ার করে বলেছেন যে, এরপর তার দেশের বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের আগ্রাসনের জবাব তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে দেওয়া হবে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি জংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জিও নিউজের খবর।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউসে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আল হুসেইনের সম্মানে দেওয়া মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডেইলি জংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে ইঙ্গিত করে আকাশের দিকে আঙুল তুলে পাক সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘পাকিস্তানকে আমি বিজয়ী করিনি, আল্লাহই করেছেন।’’
তিনি আরো বলেন,‘‘মে মাসে পাকিস্তানের শত্রু পরাজিত হয়েছে, এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আল্লাহর সেনাবাহিনী; আমাদের সেনারা আল্লাহর নামে যুদ্ধ করেন।’’
এরপর পবিত্র কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে আসিম মুনির বলেন, ‘‘ঈমানদাররা বিশ্বাস রাখলে শক্তিশালী শত্রুকেও পরাজিত করতে পারেন, গত মে মাসে পাকিস্তান সেটিই প্রমাণ করেছে।’’ এমন মন্তব্যের সময় বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা তাকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
এ সময় তিনি পাকিস্তানের উন্নতির জন্য সবাইকে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘‘আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।’’
আসিম মুনিরের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো যখন পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগের পর থেকে তার মেয়াদ নতুন করে শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দেশটিকে দায়ী করে প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারতীয় সামরিক বাহিনী। যদিও এই হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি নয়াদিল্লি।
পরে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের জবাবে ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে পাকিস্তান। সেসময় ভারতের ২০টির বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইসলামাবাদ।
পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের সেই সংঘাত বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। কয়েক দিনের সংঘাতে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।
পরে ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান ঘটে। ভারত-পাকিস্তানের এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের অবসানে নিজে মধ্যস্থতা করেছেন বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
সুলতানা দিনা/