তুরস্কের প্রথম চালকবিহীন যুদ্ধবিমান ‘বায়রাক্তার কিজিলেলমা’ একটি ঐতিহাসিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার জানিয়েছে, তাদের তৈরি এই ড্রোনটি একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ৪৮ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্য বা টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করে সফলভাবে ‘লক’ করেছে এবং সিমুলেটেড বা কৃত্রিম হামলায় সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই পরীক্ষায় তুরস্কের নিজস্ব তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘গোকদোয়ান’ ব্যবহার করা হয়।
বায়কারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি কিজিলেলমা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল। তুরস্কের তেকিরদাগের চোরলুতে অবস্থিত আকিনসি ফ্লাইট ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্ট সেন্টার থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এই ফ্লাইটে ড্রোনটি ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ে। এ সময় এটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের খুব কাছাকাছি গিয়ে মহড়া দেয় এবং নিজস্ব রাডার ও যুদ্ধাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিজিলেলমার মোট উড্ডয়নকাল ৫৫ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেল।
এই বিশেষ মহড়ায় তুর্কি বিমান বাহিনীর দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি এফ-১৬ কিজিলেলমার সঙ্গে পাশাপাশি উড়ে ফরমেশন ফ্লাইট বা দলবদ্ধ উড্ডয়ন সম্পন্ন করে, যা মানুষবাহী যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ড্রোনটির সমন্বিত অভিযানের সক্ষমতা প্রমাণ করে। অপর এফ-১৬ বিমানটি মহড়ার সিনারিও অনুযায়ী ‘টার্গেট’ বা শত্রুবিমান হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
আসেলসানের তৈরি মুরাদ এইএসএ (AESA) রাডার ব্যবহার করে ৪৮ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূর থেকেই কিজিলেলমা লক্ষ্যবস্তু এফ-১৬ কে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং সেটিকে লক করে। এরপর টিউবিটাকের তৈরি দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানতে সক্ষম (BVRAAM) গোকদোয়ান মিসাইল ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম ইলেকট্রনিক হামলা চালানো হয়।
সিমুলেশনে দেখা যায়, অত্যন্ত ক্ষিপ্রগতির এফ-১৬ বিমানটিকেও নিখুঁতভাবে ভার্চুয়াল আঘাতে ঘায়েল করতে সক্ষম হয়েছে কিজিলেলমা। একে আকাশযুদ্ধে তুরস্কের সক্ষমতার এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল অংশ ছিল বিমান, রাডার এবং মিসাইলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যাচাই করা। রাডার থেকে পাওয়া লক্ষ্যের অবস্থান ও গতিবেগের তথ্য রিয়েল-টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে ডানার নিচে থাকা মিসাইলে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অত্যন্ত জরুরি। একই ফ্লাইটে এফ-১৬ এর সঙ্গে ফরমেশন ফ্লাইট, মিসাইল বহন করে অ্যারোডাইনামিক পরীক্ষা এবং রাডারের মাধ্যমে নিখুঁত ট্র্যাকিং—এই তিনটি চ্যালেঞ্জই সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
২০২২ সালে প্রথম আকাশে ডানা মেলা কিজিলেলমা বায়কারের ফ্ল্যাগশিপ বা প্রধান যুদ্ধবিমান প্রকল্প। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এতে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির ‘লো-অবজারভেবল ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং সিস্টেম’ (EOTS) যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এতদিন এই প্রযুক্তি কেবল অত্যন্ত উন্নত মানুষবাহী জেটে দেখা যেত, যা তুরস্ককে এখন বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাতারে নিয়ে গেছে। সূত্র: ডেইলি শাবাব
মাহফুজ/