যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততার পরিপ্রেক্ষিতে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেলর গ্রিন আগামী বছরের জানুয়ারিতেই প্রতিনিধি পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন। বিবিসির খবর।
মার্জোরি টেলর গ্রিন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারী পদত্যাগ করবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিবাদের কয়েকদিন পর সুপরিচিত এই রিপাবলিকানের কাছ থেকে এ ঘোষণা এল, বলছে বিবিসি।
চার পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে, জর্জিয়ার কংগ্রেসওম্যান আইনসভা শাখাকে রিপাবলিকান নেতাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা বা "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতির মতো রক্ষণশীল অগ্রাধিকারগুলোকে এগিয়ে নিতে অস্বীকার করার মতো অভিযোগ করেছেন।
অথচ, গ্রিন ট্রাম্পের "মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন" আন্দোলনের অন্যতম সোচ্চার এবং দৃশ্যমান সমর্থক ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, কংগ্রেসে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের একজন আশ্চর্যজনক সমালোচক হয়ে উঠেছেন। এপস্টেইন ফাইল প্রকাশসহ ইসরায়েলের প্রতি তার প্রশাসনের সমর্থন এবং ওবামাকেয়ার ভর্তুকি মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যও তিনি ট্রাম্পকে সমালোচনা করেছেন।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, তিনি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন যে ট্রাম্প সত্যিই "আমেরিকা ফার্স্ট" রাষ্ট্রপতি কিনা?
গ্রিন গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ৫ জানুয়ারিতেই তিনি কংগ্রেস ছাড়ছেন জানিয়ে লিখেন, “সামনে নতুন কিছুর জন্য মুখিয়ে আছি।”
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব’ প্রচার ও ট্রাম্পকে অন্ধ সমর্থন দিয়েই মূলধারার রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন গ্রিন, যদিও সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
শিশু যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিবাদ প্রকাশ্যে চলে আসে। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ভিডিও বার্তায় গ্রিন তার অর্জনগুলোর তালিকা দেন এবং ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট কয়েক দিন আগেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় গ্রিনকে হারাতে অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
“আমার আত্মসম্মান ও মর্যাদা ব্যাপক, পরিবারকে অনেক বেশি ভালোবাসি, এবং চাই না আমার চমৎকার কংগ্রেস আসন আমার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের বেদনাদায়ক ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রাইমারি (দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের ভোট) দেখুক, তাও সেই প্রেসিডেন্ট যার জন্য আমরা সবাই লড়েছি। নির্বাচনে আমি (হয়তো) লড়াই করে জিতব, কিন্তু রিপাবলিকানরা সম্ভবত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারতে যাচ্ছে।”-এসব বলেছেন গ্রিন।
এদিকে, পরে ট্রাম্প গ্রিনের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্টও দিয়েছেন, যেগুলোতে তিনি জর্জিয়ার এ রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যকে ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘পাগলাটে’ এসব তকমাও দিয়েছেন।
তবে গ্রিনের চেষ্টাও বৃথা যায়নি, তার মতো অনেক রিপাবলিকানের মিলিত সহায়তায় মার্কিন কংগ্রেস বিচার মন্ত্রণালয়কে এপস্টাইন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশে বাধ্য করতে পেরেছে। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পরদিনই ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করে একে আইনে পরিণত করেছেন।
সুলতানা দিনা/