ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী? হলিউড অভিনেতা খুন, প্রেমিকার ছেলে গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে বাস-পিকআপভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ১ স্বর্ণ ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা এআই এজেন্টের নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রজেক্ট সোলারা কেএফটির শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তের বিশ্বজয়, রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক অর্জন সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায়  হামে এক শিশুর মৃত্যু নড়াইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি মুকুসদপুরে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য ও নেইমারের প্রতিকৃতি জামালপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সাঘাটায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ চ্যাটজিপিটির মেমোরি ফিচারে বড় পরিবর্তন বিমানবাহিনী জাদুঘরে রেনেসন্স হোটেলের বাহার রেস্টুরেন্টে শুরু হচ্ছে ‘ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ’ বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের চাঁদপুরে ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’ এর মোড়ক উন্মোচন ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা পরও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে তরুণীর হুমকি, ‘আমার স্বামী পুলিশ’ দেওয়ানগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে যুবক নিহত সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন সন্ধ্যার মধ্যে ১৪ অঞ্চলে হতে পারে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি সোনারগাঁয় কাভার্ডভ্যান উল্টে চালক নিহত ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে ২ মাদককারবারিকে পুলিশে দিলো জনতা ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
Nagad desktop

আরব বিশ্বের নতুন ভূরাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার যুক্তি

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৯ পিএম
আরব বিশ্বের নতুন ভূরাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার যুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু চ্যাপটার বা শাখাকে নিষিদ্ধ করেছেন। 

ট্রাম্পের এ সংশ্লিষ্ট আদেশে বলা হয়, মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু অধ্যায় বা অন্যান্য উপবিভাগকে INA এর ধারা 219 (8 USC 1189) এবং বিশেষভাবে মনোনীত বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করা হবে। যা IEEPA (50 USC 1702) এবং ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০১ এর নির্বাহী আদেশ 13224 (সন্ত্রাসবাদে জড়িত, হুমকি প্রদানকারী বা সমর্থনকারী ব্যক্তিদের সাথে সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা এবং লেনদেন নিষিদ্ধ করা) অনুসারে সংশোধিত।

নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়, ১৯২৮ সালে মিশরে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড, মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরেও শাখাগুলোর একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রাসঙ্গিকভাবে, লেবানন, জর্ডান এবং মিশরে এর শাখাগুলো তাদের নিজস্ব অঞ্চল, মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ক্ষতি করে এমন সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা প্রচারণায় জড়িত বা সহায়তা করে এবং সমর্থন করে। 

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর,ইসরায়েলে হামলার পর, মুসলিম ব্রাদারহুডের লেবানন শাখার সামরিক শাখা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বেসামরিক এবং সামরিক উভয় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে একাধিক রকেট হামলা চালায়। 

এছাড়া, মুসলিম ব্রাদারহুডের মিশরীয় শাখার একজন সিনিয়র নেতা, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার এবং স্বার্থের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমণের আহ্বান জানান এবং জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে হামাসের জঙ্গি শাখাকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান করে আসছেন। 
এ ধরনের কার্যকলাপ লেভান্ট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশে আমেরিকান বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে,মুসলিম ব্রাদারহুড আরব বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামপন্থী আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত। প্যান-ইসলামবাদী সংগঠনটি ১৯২৮ সালে মিশরে ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী ধারণার বিস্তার রোধ করার জন্য একটি ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর এটি দ্রুত মুসলিম দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপতে এটি একটি প্রধান নেপথ্যের খেলোয়াড় হয়ে ওঠে আর প্রায়শই গোপনে তাদের কাজ করতে থাকে।

ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা, মিশরীয় স্কুলশিক্ষক হাসান আল-বান্না বিশ্বাস করতেন যে, সমাজে ইসলামী নীতি পুনরুজ্জীবিত করলে মুসলিম বিশ্ব পশ্চিমা উপনিবেশবাদকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।

আরেকদিকে, মুসলিম ব্রাদারহুড মিশর এবং সৌদি আরবে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ। জর্ডান ২০২৫ সালের এপ্রিলে এটিকে নিষিদ্ধ করে। তবে তারপরও এটি জর্ডানে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং ২০২০ সালে দেশটির শীর্ষ আদালত এই গোষ্ঠীটিকে বিলুপ্ত করার রায় দেওয়ার পরেও সেখানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বলে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আছে সুদানকেন্দ্রিক চিন্তাধারা এবং সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধে সুদানের গৃহযুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা। 

ট্রাম্প এর আগে একবার সুদান সম্পর্কে এক অদ্ভুত বাক্যে বলেন, ‘পৃথিবীতে সুদান নামে একটা জায়গা আছে। সুদান, সন্ত্রাসবাদ আর আমেরিকার ইতিহাস একে অন্যকে ছুঁয়ে আছে নানাভাবেই।’ ট্রাম্পের একথা থেকেই সুদান, ব্রাদারহুড আর এই নিষেধাজ্ঞাকে এক সূত্রে গেঁথে ফেলা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র আজও মনে করে, সুদান নব্বইয়ের দশকে ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয় এবং সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলতে সহায়তা করে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসন তখন বিন লাদেনকে গ্রেপ্তার বা আঘাত করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়, এর পরপরই তিনি আফগানিস্তানে চলে যান। পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার অনুসারীরা টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলা চালায়। এতে তিন হাজার নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে এই হামলার জের ধরে ওয়ার অন টেরর বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মূল্য চুকাতে প্রাণ দিতে হয় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে।

মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করা এবং সুদানের যুদ্ধ বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপদ করতে চাইছেন। তিনি সন্ত্রাসবাদের মূল শিকড়েই হাত দিতে যাচ্ছেন। 

পক্ষান্তরে,আজকের সুদান আবারও পশ্চিমাবিরোধী শক্তিকে আশ্রয় দিচ্ছে। সুদানের তিনটি বড় ঝুঁকি—অ্যালাইনমেন্ট, অ্যানিহিলেশন, অ্যালায়েন্স। যার অর্থ দাঁড়ায়-ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে পারবেন, আমেরিকাকে নিরাপদ করতে পারবেন, আর আরব ও ইসরায়েলি মিত্রদের জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, প্রায় পাঁচ কোটি জনসংখ্যার দেশ সুদানের সাতটি দেশের সঙ্গে সীমানা রয়েছে। এর মধ্যে মিসরের সঙ্গে সুদানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। মিসর থেকেই সুদানে পঞ্চাশের দশকে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ে। যে মতাদর্শ মূলত স্থায়ী ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ, ইসরায়েল ধ্বংস এবং রাষ্ট্রে ইসলামি রাজনৈতিক শাসন বাস্তবায়ন করতে চায়।

এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৮৯ সালে ইসলামি মতাদর্শের সেনা কর্মকর্তা ওমর আল-বশির অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সুদানে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। বশির দেশকে আমেরিকাবিরোধী এক পথে নিয়ে যান। বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়া ছিল সেই মনোভাবেরই অংশ। 

বশির ও ব্রাদারহুডের আদর্শবাদীরা নারীদের ওপর কঠোর শরিয়াভিত্তিক আইন চাপিয়ে দেন, যেখানে শাস্তির মধ্যে হাত কেটে দেওয়া বা পাথর ছুড়ে হত্যার মতো বর্বর পদ্ধতিও ছিল। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বশিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছে। এই আমেরিকাবিরোধী সরকারকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার ফলও মেলে।

২০১৯ সালে বশিরবিরোধী গণ-আন্দোলনের পর আবদাল্লা হামদকের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুদানের সম্পর্ক ঠিক করা এবং বশিরযুগের গভীর রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রভাব শেষ করতে হামদক তিনটি পদক্ষেপ নেন—পুরোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য আমেরিকাপন্থী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা।

হামদক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ ছিল—বশিরযুগের ইসরায়েলবিরোধী, আমেরিকাবিরোধী আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প-উদ্যোগে চালু হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দেওয়া। মরক্কো, বাহরাইন ও ইউএই–এর সঙ্গে সুদান ছিল চুক্তির চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ দেশ, যারা ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক বাস্তবতাকে বদলে দেয়।

কিন্তু পুরোনো ইসলামি ঘাঁটি আবার পাল্টা আঘাত হানে। ২০২১ সালে হামদকের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং তিনি নির্বাসিত হন। সুদান আব্রাহাম অ্যাকর্ড বাস্তবায়ন স্থগিত করে, আর বিন লাদেন-ধারার পুরোনো মতাদর্শ আবার মাথা তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যালাইনমেন্ট ছিল সামরিক বাহিনীর ভেতরে ব্রাদারহুডের শক্ত ঘাঁটির অপছন্দের। অ্যানিহিলেশন, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ধ্বংসের সংস্কৃতি প্রাধান্য পায়।

২০২১ সালের এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমান সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। তিনি নিজেকে সুদানের একক নেতা বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু অনেকেই তাকে বশিরের নেটওয়ার্কের খুব কাছের মানুষ হিসেবে দেখতেন। 

এর মধ্যে এই বৈধতা-সংকটের সময় মোহাম্মদ দাগালো, যিনি ‘হেমেদতি’ নামে পরিচিত, সুদানি সেনাবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ)গঠন করেন। এই দুই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। তারা দুজনই অসংখ্য নাগরিক হত্যার দায় বহন করছেন এবং উভয়ই অপর পক্ষকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলেরও সংশ্লিষ্টতা আছে। কেননা সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। 
হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই বাইডেন প্রশাসন সুদানি ব্যবসায়ী আবদেলবাসিত হামজাকে স্পেশালি ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট ঘোষণা করে। কারণ তিনি হামাসের সামরিক কাঠামোর আর্থিক জোগানদাতা ছিলেন। 

বিস্ময়করভাবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর বুরহান তাকে কেবল মুক্তই করেননি বরং পুনর্বাসিতও করেন। তিনি প্রকাশ্যে হামাসের সামরিক শাখা ক্বাসাম ব্রিগেডকে সমর্থন করেন। আর এই ইউনিটই ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়।

আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন খলিল আল–হাইয়া, যিনি এখন হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং যিনি দোহায় ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু। তিনি ৭ অক্টোবর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছাত্র এবং উত্তরসূরি। 

নব্বইয়ের দশকে হাইয়া খার্তুমে পড়াশোনা করেন এবং তখনই আরও ‘উগ্র’ হয়ে ওঠেন। সে সময় সুদান ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামি কেন্দ্রগুলোর একটি। সুদানে কাটানো সময় তাকে সেই পুরোনো নেটওয়ার্কের ভেতরের প্রবেশাধিকার দেয়, যা ব্রাদারহুড, বিন লাদেন, হামাস ও সন্ত্রাসী অর্থায়নকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। তাছাড়া, হামাস নেতা খালেদ মেশালও সুদানি পাসপোর্ট পেয়েছিলেন।

ইরানের লজিস্টিক ও কূটনৈতিক চ্যানেল এসএএফ–কে সমর্থন দিয়েছে এবং ইয়েমেন থেকে হুতি যোদ্ধাদের সুদানে নিয়ে এসেছে। হুতিরা আমেরিকান জাহাজে হামলা চালিয়েছে, ইসরায়েল ও আমেরিকা ধ্বংসের শপথ নিয়েছে। আর এখন তারা লোহিত সাগরের আরও ওপরের দিকের রুটেও সক্রিয়। এখান দিয়ে বিশ্বের ১৫ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 

তাই সুদানের এই অস্থিরতা ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। 

ইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি হয় না, কিন্তু ছন্দ মিলিয়ে ফিরে আসে। তিরিশ বছর পর সুদান আবারও সেই প্রাক-৯ / ১১ পরিবেশের ছায়া দেখাচ্ছে। সেখানে হামাস, হুতি এবং তাদের অর্থদাতারা আশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা পায়। সেক্ষেত্রে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে হয়ত ক্লিনটন-যুগের ভুল এড়িয়ে চলতে চাইছেন। 

একারনেই যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, সুদান অবিলম্বে বেসামরিক শাসনে ফিরে আসুক, আবদেলবাসিত হামজাকে হস্তান্তর করুক, মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করুক এবং অন্য সন্ত্রাসী অর্থদাতাদের হয় দেশ থেকে বহিষ্কার, নয়তো আবার কারাগারে ফেরত পাঠাক।

সুলতানা দিনা/

হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর দিকে পাঠানো চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৫ জুন) এর জবাবে ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নীতির মধ্যে এ ঘটনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘আক্রমণকারী ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।’

বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দর কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

সেন্টকম জানায়, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রণালীর একটি দ্বীপসহ একাধিক রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার সবশেষ অধ্যায়, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং তা সম্প্রসারণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সপ্তাহের শুরুতে একটি ইরানি ড্রোন কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানলে একজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

যদিও এসব হামলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি মোটামুটি ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

উইসকনসিনে কৃষকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই ইরান ইস্যুর সমাধানে পৌঁছাব। সেটা আলোচনার মাধ্যমে হোক বা কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আমরা সফল হব।’

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সংঘাতের মধ্যে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছেন, যা বর্তমানে অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শর্ত এবং ইরানের নীরব অবস্থান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের জন্য খুবই কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। তারা স্বাধীন, শক্তিশালী এবং গর্বিত জাতি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু সিদ্ধান্ত তাদের নিতেই হবে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে এখনও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে যে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তা নিয়েও মার্কিন প্রশাসন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৯জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় তাদের দুই সৈন্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের চলমান সংঘাত ইরান-সংক্রান্ত সংকট নিরসন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রচেষ্টাকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ ইরান দাবি করে আসছে, যেকোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ভারত মহাসাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় সীমিত করা।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝআকাশেই ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিকল হয়ে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা সদস্যের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বাহিনী আরও জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সত্য নয়।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার ভোরে বাহরাইনজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়।

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে করে তুলতে পারে আরও জটিল। সূত্র: বাসস

আমান/

অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশিসহ ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুন) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের ১০টি পৃথক চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।

এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয়তার সত্যতা নিশ্চিত হতে হয়। তিনি বলেন, ‘এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা যখন এই ধরনের মামলাগুলো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে পাঠাই, তখন তারা ওই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করে। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাই।’

মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমাদের এই ধরনের অনেক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশ পক্ষের কাছে ঝুলে রয়েছে। আমরা আশা করি, এই অনুরোধগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফর করবেন। দীর্ঘ সাত বছর পর পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ‘কিম জং উনের আমন্ত্রণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং ৮ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফরে যাচ্ছেন শি।

চীন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা প্রদান করবে। এই বছর সেই চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হবে।

কিমের কাছে শির সফরের প্রচারণাগত গুরুত্ব সুস্পষ্ট। মহামারি মোকাবিলা করে এবং রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং বিশ্বমঞ্চে তার অবস্থান উন্নত করেছিল।

পিয়ংইয়ং ও মস্কো উভয়ের সঙ্গেই বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিম ও পুতিনের মধ্যে গড়ে ওঠা জোট নিয়ে শি সন্দিহান। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বেইজিংই কিমের জন্য প্রধান জীবনরেখা হয়ে আছে। আশা করা হচ্ছে, কিম স্থল সীমান্ত দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্য এবং তার নবনির্মিত সমুদ্রসৈকত ও স্কি রিসোর্টগুলো প্রাণবন্ত করতে আরও বেশি চীনা পর্যটক চাইবেন।

কিম গর্বের সঙ্গে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগার প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি সফররত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজধানী পিয়ংইয়ংও প্রদর্শন করছেন। তিনি বিশ্বকে জানাতে চান, এই সবকিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতজানু না হয়ে বা দক্ষিণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কে না জড়িয়েই অর্জন করা হয়েছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করেছে যে তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসবে না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই একটি নতুন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম বলেছেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার ‘অস্ত্র-গ্রেড পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে’। সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রচেষ্টা চলছে। ইসরায়েলেও এই সমঝোতার সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একটি চুক্তি হতে পারবে কি না এটা আসল প্রশ্ন নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি একটি সমঝোতায় পৌঁছায় তাহলে ইসরায়েল কী করবে?

ইসরায়েলি গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং নিরাপত্তা মহলে বিতর্কটি এখন চুক্তিটি পুরোপুরি ঠেকানোর চেষ্টার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পরিবর্তে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তি মোকাবিলার উপায় নিয়ে বেশি মনোযোগী ইসরায়েল। শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই নয়, বরং এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।ইসরায়েলের উদ্বেগের একটি প্রধান দিক হলো, সম্ভাব্য যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণের অনুরূপ হবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। কিন্তু তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক, ড্রোন এবং তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারবে না, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা, তেহরানের সামরিক কাঠামো দুর্বল করা এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

সংবাদমাধ্যমটির মতে, এই পর্যায়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য হয়তো ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহর সৃষ্ট হুমকি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা আদায় করা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে কোনো ঐকমত্য নেই। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ডিরেক্টরেটের ইরান বিভাগের সাবেক প্রধান ড্যানি সেট্রিনোভিচ তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গড়ে ওঠা চুক্তিটি ‘অনেক দিক থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি ভীতিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি চূড়ান্ত আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসন এতে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তবে নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন, যা তার মতে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ।

এমন একটি পরিস্থিতি, যা ড্যানি সেট্রিনোভিচ নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করেছেন: ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো প্রকৃত নিষেধাজ্ঞা নেই, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় গ্রহণের কোনো আশা নেই এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে।’ দানি চেত্রিনোভিচ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ‘অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ’ চুক্তিও কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের সবাই এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। কেউ কেউ বলছেন, যদি এই যুদ্ধ ইসরায়েল ও আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে যেকোনো চুক্তিই একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

 এই মতবিরোধটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও বিশ্লেষণমূলক পরিমণ্ডলের একটি শূন্যতাকে প্রতিফলিত করে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, একটি সম্ভাব্য চুক্তি ইসরায়েলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। কিন্তু আলোচনার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে।

প্রথম বিকল্প: চুক্তিটি কঠিন করার চেষ্টা করা

ইসরায়েলের কাছে থাকা প্রাথমিক বিকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো যেকোনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। গত ৬ মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জেরুজালেম ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইয়াকভ আমিদ্রোরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং একটি কঠোর প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

দ্বিতীয় বিকল্প: সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা বজায় রাখা

কিন্তু আরেকটি বিকল্পও রয়েছে, যা ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি সত্ত্বেও বজায় রাখতে চাইতে পারে। যাকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘কর্মের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। যার অর্থ হলো ইরান ও এই অঞ্চলে থাকা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা বজায় রাখা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেছেন, ‘যদি ইসরায়েল এই চুক্তির অংশ না হয়, তবুও তার কাছে সমস্ত বিকল্প খোলা থাকবে।’তিনি মনে করেন ইসরায়েল কিছু সময় অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু যে চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেনি, তার দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আবদ্ধ বলে বিবেচনা করার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিশ্লেষণে লিখেছে, সরাসরি মার্কিন সমর্থন ছাড়া ইরানের সঙ্গে একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সক্ষমতা সীমিত থাকবে। বিশেষ করে যদি ওয়াশিংটন কূটনীতির পথকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তৃতীয় বিকল্প: গোপন যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন

নতুন চুক্তির অধীনে ইসরায়েলকে যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়, তবে তারা একটি নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। আর তা হলো ‘যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধ’। এর মধ্যে সাইবার অভিযান, অন্তর্ঘাত এবং অতীতের মতোই লক্ষ্যবস্তুকে গুপ্তহত্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। 

ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মহলে এমন কথাও চলছে, বিষয়টি শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গোষ্ঠী ওয়াইনেট-এর ওয়েবসাইট গত মার্চে জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী একটি মূল্যায়ন দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উস্কে দিতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: বিবিসি