রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না; তবে ইউরোপ যদি যুদ্ধ শুরু করে, রাশিয়া “এখনই প্রস্তুত”, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এমনটাই বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর “শান্তিপূর্ণ কোনো এজেন্ডা নেই”।
মস্কোতে এক বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, ইউরোপ “যুদ্ধের পক্ষে”, কারণ তারা ইউক্রেনকে সমর্থন দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “ইউরোপ যদি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সত্যিই যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে খুব দ্রুত এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে মস্কোর আলোচনার মতো কেউই আর থাকবে না।”
পুতিনের দাবি, ইউরোপীয় সরকারগুলো “ভ্রমে” আছে যে তারা রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করতে পারবে।
তিনি বলেন, ইউরোপের যেসব দাবি রয়েছে যেমন রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধ করা—সেগুলো মস্কোর কাছে “গ্রহণযোগ্য নয়”।
পুতিন আবারও জানান যে, রাশিয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়। ইউরোপীয় নেতাদের তিনি আলোচনার টেবিলে চান না, কারণ তার ভাষায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে”। মস্কো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়।
ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করলে আলোচনার সুযোগ থাকবে না
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা তাস এর বরাতে পুতিন বলেন, ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাস্তবে তা শুরু করে, তাহলে খুব দ্রুত এমন অবস্থা হবে যে মস্কোর “আলোচনার মতো কেউই থাকবে না”।
ইউক্রেনের বন্দর ও ট্যাংকারে হামলা বাড়ানোর হুমকি
পুতিন আরও হুমকি দেন যে রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দর ও জাহাজে হামলা বাড়াবে এবং ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যেকোনো বিদেশি পতাকাবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
এর আগেই তুরস্কের উপকূলে একটি রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন দায় অস্বীকার করেছে।
পুতিন বলেন, “সবচেয়ে কঠোর সমাধান হলো ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া; তাহলে জলদস্যুতার কোনো সুযোগই থাকবে না।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি আরও দাবি করেন, রুশ বাহিনী পোকরোভস্ক শহর পুরোপুরি দখল করেছে। শহরটিকে তিনি “বিশেষ গুরুত্বের” বলে উল্লেখ করেন, কারণ এই ঘাঁটি থেকে রুশ সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফ যেদিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করবে, সেদিকেই সহজে অগ্রসর হতে পারবে।
এর আগে পুতিন সম্ভাব্য ইউরোপ–রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, রাশিয়া এমন কোনো যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা করেনি।
“আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু ইউরোপ যদি চায় এবং শুরু করে, আমরা এখনই প্রস্তুত,” মস্কোতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “তাদের কোনো শান্তিপূর্ণ এজেন্ডা নেই; তারা যুদ্ধের পক্ষেই,” এবং পুনরায় দাবি করেন যে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/