ইউক্রেনের জনসংখ্যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণের আগে ছিল ৪২ মিলিয়ন (৪ কোটি ২০ লাখ), যা এখন কমে ৩৬ মিলিয়নের নিচে চলে এসেছে। ২০৫১ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি ২৫ মিলিয়নে নেমে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রয়টার্স ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব ডেমোগ্রাফির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর জানিয়েছে।
প্রকাশনাটি লিখেছে যে ইউক্রেনে জনসংখ্যাগত পতন ক্রমশ বাড়ছে। সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক ২০২৪ (যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি দ্বারা তৈরি একটি তথ্যসূত্র) অনুসারে, দেশটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মৃত্যুর হারের মধ্যে অন্যতম: প্রতিটি জন্মের বিপরীতে প্রায় তিনটি মৃত্যু ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে ২০৫১ সালের মধ্যে ২৫ মিলিয়ন ইউক্রেনীয় অবশিষ্ট থাকবে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমান অনুসারে, ইউক্রেনে পুরুষদের গড় আয়ু যুদ্ধের আগে ৬৫.২ বছর থেকে কমে ২০২৪ সালে ৫৭.৩ বছরে দাঁড়িয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ৭৪.৪ বছর থেকে কমে ৭০.৯ বছরে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা এবং রাজনীতিবিদরা বলছেন যে ইউক্রেনের তার বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ভবিষ্যতে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হওয়ার জন্য লাখ লাখ মানুষের প্রয়োজন হবে, যদি মস্কো আবার আক্রমণ করে, যেমনটা বহু ইউক্রেনীয় আশঙ্কা করেন।
কর্তৃপক্ষ অনুমান করছে যে জনসংখ্যাগত কৌশল ২০৪০ সালের মধ্যে জনসংখ্যাকে ৩৪ মিলিয়নে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে, তবে তারা সতর্কও করেছেন যে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ততদিনে জনসংখ্যা ২৯ মিলিয়নে নেমে আসতে পারে।
ইউক্রেনীয় নিউজ এজেন্সি এর আগে জানিয়েছিল যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশটির মন্ত্রীসভা ২০৪০ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের জনসংখ্যাগত উন্নয়নের কৌশল অনুমোদন করেছে, যা ২০২৪ সালে ৩১.১ মিলিয়ন থেকে ২০৪০ সালে ৩৩.৯ মিলিয়ন জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখে।
২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর দেশটির ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস বলেছিলেন যে ইউক্রেনের জনসংখ্যা ২০২২ সালের ৪২ মিলিয়ন থেকে কমে ৩৫.৮ মিলিয়নে দাঁড়াবে এবং ২০৫১ সালের মধ্যে তা কমে ২৫.২ মিলিয়নে নেমে আসতে পারে।
২০২৪ সালে ১৫ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল বলেছিলেন যে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি ইউক্রেনীয় পরিবারে কমপক্ষে তিনটি সন্তান থাকা উচিত। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/