ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ড্রাগন-মাল্টার বাগান গড়ে সফল প্রবাসফেরত সাদেক ২১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কারাবন্দি এক ম্যাজিস্ট্রেট যশোরে জাপার ২৫ নেতার পদত্যাগ বগুড়ার প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে: জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও এক যুগ পেরোলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আওয়ামী লীগ কার্যালয় চাঁদাবাজদের আস্তানা! বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে নামছে জাপান-তিউনিসিয়া তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামের সামনে সংগঠিত ইরান ২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কুকুরেইয়ার ‘জেগে ওঠার ডাক’ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুমাত্রা দ্বীপ

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রায় ১ হাজারে পৌঁছেছে। কয়েক লক্ষাধিক মানুষ এখনো সংকটে ভুগছে, আর ত্রাণ কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে সৃষ্ট বন্যায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯০ জনে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় দুর্যোগ। এখনো ২২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

চলতি ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ক্রান্তীয় ঝড় ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতে সুমাত্রার রেইনফরেস্ট থেকে শ্রীলঙ্কার পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামির স্মৃতি বহনকারী সুমাত্রার আচেহ প্রদেশে মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। তবে, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের গতি নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

৩৯ বছর বয়সি শিয়ারুল বলেন, মানুষ জানে না যে, ‘তারা কার ওপর ভরসা করবে’। 

আরেক বাসিন্দা সারিউলিস (৩৬) বলেন, ‘বন্যার প্রায় ১৫ দিন পর প্রতিদিন আমরা শুধু ঘরের ভেতরটা পরিষ্কার করতে পারছি। বাইরে কাদা জমে থাকায় আর পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ মানুষ সরকারি সহায়তার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ করছেন। আমরা শুনে আসছি প্রদেশভিত্তিক বন্যা মোকাবিলা নাকি সম্ভব, কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ উল্টো। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আমরা একই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছি। অগ্রগতির কথা যদি বলেন, তা খুবই সামান্য। 

আচেহ প্রদেশের গভর্নর মুজাকির মুনাফ সাংবাদিকদের জানান, চলমান জরুরি প্রতিক্রিয়া আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো প্রয়োজন ‘পুনর্বাসন ও জরুরি অবকাঠামো মেরামতের জন্য।’ তবে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন ওষুধের, কারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়গুলোতে ত্বকের রোগ, কাশি, চুলকানি এবং বন্যাজনিত অন্যান্য অসুখ দেখা দিচ্ছে।

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয় হতে পারে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়ার প্রস্তাব এখনো প্রত্যাখ্যান করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। সূত্র: এএফপি

মাহফুজ/

যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি উত্তেজনা ট্রাম্পের মন্তব্যে চটেছেন মেলোনি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন,  ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন। এদিকে মেলোনি বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লাসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ খবর জানায়।

মেলোনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে পুরোপুরি ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ঘটনার জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তায়ানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দুই নেতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অবনতি হয়। সাম্প্রতিক এই বাগযুদ্ধ সেই দূরত্বকেই স্পষ্ট করেছে।

এ সপ্তাহে পূর্ব ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে। কোনো ধরনের মনোমালিন্য হয়নি।

কিন্তু এরপর লা সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘তিনি (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি তার জন্য দুঃখবোধ করেছিলাম।’

জি৭ সম্মেলনের সময় কয়েকবার দুই নেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়। একটি ছোট সোফায় বসে তাদের আলোচনা করতে দেখা যায়, যেখানে মেলোনিকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সম্ভবত আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি বলেই তিনি খুশি। তবে লা সেভেন ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে ইতালীয় ভাষায় ডাবিং করে তা সম্প্রচার করে।’

ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি স্তম্ভিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন, তা আমি জানি না। আর এটিই প্রথম নয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রু কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের ক্ষেত্রে তিনি একই ধরনের কঠোর অবস্থান দেখান না। বরং তাদের নেতাদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় মনে হয়।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তবে একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত, আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে অনুরোধ করে কিছু আদায় করি না।’ 

২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর মেলোনি ইউরোপের একমাত্র নেতা হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাব্য সেতুবন্ধনকারী হিসেবেও দেখতেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের বিরোধিতায় মেলোনি সরব ছিলেন। এর জবাবে গত এপ্রিলে ইতালির দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

ট্রাম্প যখন পোপ লিও চতুর্দশকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা দ্রুত মেলোনির সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমর্থন জানান। ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেনসি বলেন, ‘কোনো বিদেশি নেতারই ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলার অধিকার নেই।’

ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জিউসেপ্পে কন্তে বলেন, ‘ইতালি এমন অপমানের যোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নামে কখনো জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।’

মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তার ধারাবাহিক আপত্তিকর মন্তব্যেরই অংশ এবং এতে মূলত ট্রাম্পের নিজের ভাবমূর্তি ও কর্তৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জি৭ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজে বাস্তব পরিস্থিতি ট্রাম্পের বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। তার মতে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটনকে ‘না’ বলতে দ্বিধা না করাই সম্ভবত ট্রাম্পকে বিরক্ত করেছে। সূত্র: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে গত বুধবার নৈশভোজে বসার ঠিক আগমুহূর্তে এক নাটকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার স্বাগতিক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও নিজের উপদেষ্টাদের চমকে দিয়ে একটি আকস্মিক দাবি তোলেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি তিনি এখনই এবং এই স্থানেই সই করতে চান।

প্রাসাদে আসার পথেই ট্রাম্পের শীর্ষ কূটনীতিক খবর পেয়েছিলেন যে চুক্তির নথিটি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এই চুক্তি সইয়ের জন্য দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নের একটি পাহাড় চূড়ার রিসোর্টে জমকালো অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আমেরিকার প্রধান আলোচক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর করতে অনড় ছিলেন। ম্যাখোঁ তখন দ্রুত এর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

ভার্সাইয়ের হল অব মিররসে দুই প্রেসিডেন্ট যখন হাঁটছিলেন, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে চুক্তির খসড়া প্রিন্ট করার জন্য একটি প্রিন্টার খুঁজছিলেন। পরবর্তী সময়ে গত শুক্রবারের সেই লুসার্ন অনুষ্ঠানটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে জেডি ভ্যান্স তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই চুক্তি এখন বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে।

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প
এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ শুরু করতে ট্রাম্প ও ভ্যান্স মরিয়া হয়ে রয়েছেন। এই ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হবে। তবে এই চুক্তির কারণে ট্রাম্প নিজের সমর্থকদের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই একে ইরানের কাছে মার্কিন আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন।

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার গত বৃহস্পতিবার বলেন, এই চুক্তির ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও অনেক বড় অঙ্কের অর্থ।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে বৈঠক করিনি, ইরান করেছে। ওরা শেষ! আমরা ৬০ দিনের প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাব। তারা কোনো টাকা পাচ্ছে না, ১০ সেন্টও না!’

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে ভয়
কয়েক মাসের যুদ্ধ শেষে এই ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ট্রাম্পের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। উপদেষ্টারা সতর্ক করেছিলেন যে, বিশ্বের তেলের মজুত কমছে। এ ছাড়া সামনে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক কারণেই তিনি এই চুক্তিতে সই করেছেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভারের মতো হতে চাননি, যার আমলে গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা শুরু হয়েছিল।

গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) সম্মেলন শেষে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।’

সেই রাতেই রাত ১১টার পর ভার্সাইয়ের লোয়ার গ্যালারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প শার্পি কলম দিয়ে চুক্তিতে সই করেন। টেবিলের চারপাশে তখন গ্লাস ও প্লেটের আওয়াজ হচ্ছিল। ট্রাম্প তার ডিনার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, এটি মোটেও সহজ ছিল না।’

ম্যাখোঁ তখন ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘ব্রাভো’। এরপর সেই নথির একটি ছবি তুলে ইরানে পাঠানো হয়।

নাটকীয়তায় ভরা এক প্রক্রিয়া
এই চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ বিশৃঙ্খল এবং নাটকীয়তায় ভরা। ট্রাম্প নিজেই অনেক সময় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। কখনো তিনি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন, আবার কখনো ইরানকে লাল রেখা পার না করার জন্য হামলার হুমকি দিয়েছেন।

চুক্তি সইয়ের পরও এর মূল পাঠ কয়েক দিন গোপন রাখা হয়েছিল। ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে, ইরানিরা তাদের অভ্যন্তরীণ কারণে কিছুটা সময় চায়। পরবর্তী সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে এটি পড়ে শোনান। কর্মকর্তারা জানান, মূল নথির বাইরেও কিছু ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’ বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে, যা তাদের আস্থা জুগিয়েছে। 

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারক, ভদ্রলোকের চুক্তি কিংবা চূড়ান্ত চুক্তি—লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান, মুখের কথার কোনো মূল্য নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যাচাইকরণ।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার ব্যাকুলতা
হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টারা আগে ভেবেছিলেন গ্রীষ্মের বড় ইভেন্ট যেমন—বিশ্বকাপ, ট্রাম্পের জন্মদিনে হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে ইউএফসি ফাইট ও আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনের আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের বিমান হামলার সিদ্ধান্ত তার প্রেসিডেন্সির ওপর বড় ছায়া ফেলেছিল।

হোয়াইট হাউজের রাজনৈতিক দল, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট সবাই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। জুনের শুরুতে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের রূপরেখা নিয়ে একটি সাধারণ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেন।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দল প্রতিদিন বৈঠকে বসত। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সন্দিহান ছিলেন। রুবিও, ভ্যান্স, উইটকফ ও কুশনারের মনেও সন্দেহ ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের তাড়াহুড়োর কারণে সবাই একমত হন। একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা এই বিষয়টির অবসান ঘটাতে চাই।’

ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা ও ইরানের শর্ত

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছ থেকে বার্তা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। কারণ তিনি নিজের অবস্থান লুকাতে বার্তাবাহক ব্যবহার করতেন।

এরই মধ্যে ৮ জুন একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়। ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা হামলার নির্দেশ দেন। পরে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানান, ইরান আলোচনা করতে আগ্রহী। ট্রাম্প হামলা বন্ধ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে (১৪ জুন) বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় আবারও সংকট তৈরি হয়। ট্রাম্প একে নেতানিয়াহুর চুক্তি ভণ্ডুল করার চেষ্টা হিসেবে দেখেন ও ফোনে নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেন। কাতারিদের ১৭ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পর ইরান ইসরায়েলের দিকে তাক করা ব্যালেস্টিক মিসাইল সরিয়ে নেয়।

তবে ইরান একটি শর্তে অনড় ছিল। তারা ট্রাম্পের জন্মদিনের দিন এই চুক্তির ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে মধ্যস্থতাকারীরা একটি অভিনব উপায় বের করেন। তেহরান সময় রাত ১২টার পর এই চুক্তি ঘোষণা করা হয়, যখন ওয়াশিংটনে ট্রাম্প তার জন্মদিনের কেজ ফাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সূত্র: সিএনএন

লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বলেছে, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা লঙ্ঘনের শামিল।

শনিবার (২০ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তাদের বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনে তাৎক্ষণিক কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে তারা এসব অভিযান চালিয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অবাধ চলাচল’ মেনে নেবে না।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা অঞ্চলে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা হয়, যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনা কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিবিসি/এসএন

সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গেছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেই তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। সম্প্রতি এক ধর্ষণ মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে চলা ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়াও বাতিল করে দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি বিবেককুমার সিং তার ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণী যদি প্রতিবারই নিজের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। 

আদালতের মতে, মামলার নথি ও প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।

আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র বিয়ে হয়নি বলেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

এই পরিস্থিতিতে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার এবং সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করে আদালত।

কী ছিল মামলার ঘটনা?

২০১৯ সালে এক তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে গেলে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তাকে থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। সেই সূত্রে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু যখনই তিনি বিয়ের কথা তুলতেন, তখন তাকে মারধর করা হতো। পাশাপাশি, একসঙ্গে থাকার সময় তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২০ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দেয় এবং ২০২১ সালে নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত ওই মামলা খারিজের আবেদন নিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

শুনানির সময় তরুণী আদালতকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগ করার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের একটি ‘প্রতীকী বিয়ে’ও হয়েছিল। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত মন্তব্য করে, অভিযুক্তকে বিয়েতে রাজি করানোর উদ্দেশ্যেই ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষায় তরুণীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে মারধরের অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাকে তখনই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যখন প্রমাণিত হবে যে অভিযুক্ত শুরু থেকেই বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা রাখতেন না এবং শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালত জানিয়েছে। বরং পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের ভিত্তিতে আদালতের মত, এটি ছিল দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, যা পরে ভেঙে যায়।

ফলে আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্ষণ হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি, প্রমাণ এবং অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: এইসময়