ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে হাতির পালের সংঘর্ষে সাতটি বন্য এশীয় হাতি মারা গেছে। এ ঘটনায় একটি হাতির শাবক আহত হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের মুখপাত্র কাপিঞ্জল কিশোর শর্মা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ট্রেনচালক প্রায় ১০০টি হাতির একটি পাল দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষেন। তবে তাতেও ট্রেনটি কয়েকটি হাতিকে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের ফলে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ পাঁচটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। তবে এতে কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে জানান শর্মা।
মৃত হাতিগুলোর ময়নাতদন্ত করেছেন পশু চিকিৎসকেরা। পরে সেগুলো দাফন করার কথা ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি আসামের রাজধানী গুয়াহাটির প্রায় ৭৮ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি বনাঞ্চলে অবস্থিত।
আসামে রেললাইন এলাকায় প্রায়ই হাতির চলাচল দেখা যায়। তবে ভারতীয় রেলওয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি সরকার ঘোষিত কোনো হাতির করিডর নয়। দেশে মোট ১৫০টি বন্যপ্রাণী করিডরের ভেতর দিয়ে যেসব ট্রেন চলাচল করে, সেসব এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমানোর সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মিজোরাম রাজ্যের সাইরাং থেকে যাত্রা করেছিল। ট্রেনটিতে প্রায় ৬৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
শর্মা জানান, যেসব কোচ লাইনচ্যুত হয়নি, সেগুলো আলাদা করে ট্রেনটি আবার নয়াদিল্লির পথে যাত্রা শুরু করে। লাইনচ্যুত পাঁচটি কোচে থাকা প্রায় ২০০ যাত্রীকে অন্য একটি ট্রেনে করে গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আসামে দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। রাজ্যটিতে প্রায় ৭ হাজার বন্য এশীয় হাতি রয়েছে, যা ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ ঘনত্ব। ২০২০ সালের পর থেকে শুধু আসামেই অন্তত এক ডজন হাতি ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ২০টি হাতি ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। সাধারণত হাতির আবাসভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন পার হওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি ভারতের মাথুরায় একটি বিশেষ হাতি হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রেলপথে হাতির মৃত্যু কমানো।
এই সময়টায় বন্য হাতিরা প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, কারণ তখন ধানক্ষেত কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে। সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ
মাহফুজ/