অনেকেই তাকে পাথর হৃদয়ের স্বৈরশাসক বলে থাকে। ক্ষমতা প্রদর্শনের কঠোর নিয়মে ভরপুর এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান এবার সাংবাদিকদের সামনে অকোপটেই স্বীকার করে নিলেন, তিনি প্রেম করছেন।
ঠিকই পড়ছেন। প্রেম করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজেই এ তথ্য ফাঁস করলেন।
বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমাদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কথার পাশাপাশি, প্রেম-ভালোবাসা নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
উপস্থাপক জানতে চেয়েছিলেন পুতিন প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ায় বিশ্বাস করেন কিনা। এই প্রশ্নে হ্যা সূচক জবাবই দিয়েছেন তিনি।
এরপর পুতিন প্রেম করেন কিনা, এমন প্রশ্নও করেন এক সাংবাদিক। জবাবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে 'হ্যা' উত্তর দিয়ে প্রেম করার কথা স্বীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি তিনি।
পুতিন গোপনে আঠারো বছর ধরে সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট আলিনা কাবায়েভার (৪২) সঙ্গে সম্পর্কে আছেন বলে ধারণা করা হয়। গুজব রয়েছে যে, এই দম্পতির দশ এবং ছয় বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে, যারা ইভান স্পিরোডোনভ এবং ভ্লাদিমির স্পিরোডোনভ ছদ্মনামে বসবাস করে।
বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে 'আমি বিয়ে করতে চাই' লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয়া তরুণ সাংবাদিক নজর এড়ায়নি ভ্লাদিমির পুতিনের। চোখে পড়তেই তাকে মনের কথা বলার সুযোগ করে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, 'আমি বিয়ে করতে চাই' লেখা ছোট্ট প্ল্যাকার্ডটি থেকে নজড় এড়ানো অসম্ভব। সে সম্ভবত বাকিদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু বলতে চায়'।
তরুণ সাংবাদিককে নিয়ে মজা করতেও ছাড়েননি পুতিন। কিরিল বাঝানোভ নামের ওই সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে ঠাট্টার ছলেই বলেন, তুমি তো রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে এসেছো।
কথা বলার সুযোগ পেয়ে নিজের প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কিরিল বাঝানোভ। লাইভ সম্প্রচারে প্রেমিকাকে জিজ্ঞাসা করেন, ওলেচকা, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?
এ সময় নিজের বিয়েতে রুশ প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন কিরিল। বলেছেন, ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ আমাদের বিয়েতে আপনি আসলে আমরা খুবই আনন্দিত হবো।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই কিরিলকে সুখবর দিয়েছেন উপস্থাপক। নিশ্চিত করেছেন তার প্রেমিকা তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পুতিন ১৯৮৩ সাল থেকে কমপক্ষে ২০০৮ সাল পর্যন্ত লিউডমিলা পুতিনার সাথে বিবাহিত ছিলেন এবং এই দম্পতির দুই কন্যা, মারিয়া এবং ইয়েকাতেরিনা পুতিনা।
২০০৮ সালে, রাশিয়ান সংবাদপত্র মস্কোভস্কি করেসপন্ডেন্ট রিপোর্ট করেছিল যে পুতিন এবং লুডমিলার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং পুতিন কাবায়েভার সঙ্গে বাগদান করেছিলেন। সরকার এই খবর অস্বীকার করে এবং এর কিছুক্ষণ পরেই পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৪ সালের এপ্রিলে পুতিন এবং লুডমিলার বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেয়।
সুলতানা দিনা/