গাজায় বর্তমানে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মাঝে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে গাজা উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড বাতাস বইছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর শীতকালীন এটি তৃতীয় বড় নিম্নচাপ এবং আজ সোমবার চতুর্থ আরেকটি ঝড় আঘাত হানতে পারে।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজার অধিকাংশ মানুষ তাঁবুতে বসবাস করছেন। গাজা শহরের বাসিন্দা মোহামেদ মাসলাহ জানান, তার বাড়ি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় বন্দরে তাঁবু গেড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই তাদের সবকিছু ভিজে গেছে। বৃষ্টির তোড়ে তাঁবু ভেঙে পড়লে নতুন কাঠ দিয়ে তা মেরামতের চেষ্টা করেন, কিন্তু তীব্র শীতে সন্তানদের জন্য সামান্য পোশাক বা তোশক কেনার সামর্থ্যও তাদের নেই।
চলতি মাসে প্রবল বৃষ্টি আর ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৫ জন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। বৃষ্টির কারণে অনেক নড়বড়ে ভবনও ধসে পড়ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবুগুলো প্লাস্টিকের শিট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব প্রকট।
গত ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্তগুলো নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে জটিলতায় এই শান্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।