সুদানে লাখ লাখ মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা। পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে চলমান যুদ্ধ এক হাজার দিনে পা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেসরকারি সংস্থাগুলো জানায়, তীব্র লড়াই ও বৈশ্বিক তহবিল কমে যাওয়ার কারণে তিন কোটিরও বেশি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। এর ফলে সুদানের পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিকসংকটে পরিণত হয়েছে।
সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, সুদানে খাদ্যসংকট অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দেশটির সামরিক শাসক ও আধা সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে আরও জোরালো উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
যুদ্ধের দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতাগুলো জাতিসংঘের মতে গণহত্যার পর্যায়ে পড়তে পারে।
সম্প্রতি দারফুর ও কোরদোফানের বিশাল এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীর পুনরুত্থানের ফলে আরও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। ইসলামিক রিলিফ এক বিবৃতিতে জানায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে, যা বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সর্বোচ্চ হারের মধ্যে একটি। উত্তর দারফুরে জাতিসংঘের নতুন এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে বিষয়টি। ইসলামিক রিলিফ ওই মূল্যায়নের বরাত দিয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুদানের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ২ কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন। গেদারেফ ও দারফুরে ইসলামিক রিলিফের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ পরিবারের পর্যাপ্ত খাবার নেই।
এদিকে ১৩টি ত্রাণ সংস্থার একটি জোট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল বাড়াতে এবং যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যসংকটের ফলে দুই কোটিরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবের মুখে। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ অনিরাপদ ও অতিরিক্ত জনবহুল আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছেন, যেখানে ক্ষুধা, রোগের প্রাদুর্ভাব এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা