আঞ্চলিক পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রভাব সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সৌদি আরব সোমালিয়া ও মিসরকে নিয়ে একটি নতুন সামরিক জোট চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ শিগগিরই রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো সামরিক সহযোগিতা গভীর করা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ইস্যুতে কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময় নেওয়া হলো, যখন এর কিছুদিন আগেই সোমালিয়া আরব আমিরাতের সঙ্গে করা নিরাপত্তা ও বন্দর-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো বাতিল করে। সোমালিয়ার অভিযোগ, ইয়েমেনের এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে সোমালিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইউএই দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাসভুক্ত এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি কর্মকর্তারা সোমালিয়াকে ইউএইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কমাতে উৎসাহ দিয়েছেন। সম্প্রতি সৌদি আরব ইয়েমেন থেকে আরব আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশও দিয়েছে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির প্রভাব সীমিত করতে চাচ্ছে রিয়াদ।
সোমালিয়াকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির পাশে রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত সৌদির সহায়তা মূলত রাজনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল, বাস্তব বা সামরিক সহায়তা খুব বেশি ছিল না। নতুন এই চুক্তিটি সোমালিয়ার নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা জোরদারে সৌদি আরবের প্রথম সরাসরি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমালি সরকারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে একটি চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে সৌদি আরব ও মিসর সরকারের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধে সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব আমিরাত আফ্রিকাজুড়ে নিজেদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। দেশটি সোমালিল্যান্ডের বারবেরা ও পুণ্টল্যান্ডের বসাসো বন্দরে বিনিয়োগ করেছে এবং লিবিয়া ও সুদানে বিভিন্ন সামরিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে।
আরব আমিরাতের নব্য সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে জানতে আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় আরব আমিরাতের ‘প্রক্সি গেম’: ভূ-রাজনীতি, নব্য-সাম্রাজ্যবাদ ও ক্ষমতার উচ্চাভিলাষ
আরব আমিরাত থেকে সোমালিয়ার সরে আসার এই প্রবণতা এমন এক সময় দেখা গেল, যখন ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায় সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক।
জেদ্দাভিত্তিক ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)ও ইসরায়েলের এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সংস্থাটি একে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল ও লোহিত সাগর এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে অভিহিত করে। সূত্র: ব্লুমবার্গ
মাহফুজ/