যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই দলের আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি দখলে নিতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। এ অবস্থায় ডেনমার্কের অনুরোধে ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সামরিক সদস্য পাঠিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনসের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এই মার্কিন প্রতিনিধিদলের ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে এক বিবৃতিতে কুনস বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় মিত্রদের আরও কাছে টানা দরকার, তাদের দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত জানান, তিনি মার্চ মাসে ডেনিশ ভূখণ্ডটি সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং তার বিশ্বাস, একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। গতকাল শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেফ ল্যান্ড্রি বলেন, পরিস্থিতি স্পষ্ট হলে একটি চুক্তি হওয়া উচিত এবং তা হবেই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ডেনমার্ককে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি কী চান।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর জিন শাহিনের মতে, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য ন্যাটোর ভিত্তিকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়া ও চীনের মতো প্রধান প্রতিপক্ষদের সুবিধা করে দিচ্ছে।
কোপেনহেগেনে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা বক্তব্যে শাহিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং আস্থা নড়বড়ে হলে এমন উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত বিচক্ষণ সিদ্ধান্তই জয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, এর কারণ হলো ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কংগ্রেসের দুই দলে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শাহিনের বাবা সামরিক দায়িত্বে গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান করেছিলেন।
এই প্রতিনিধিদলে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ও লিসা মারকাউস্কিও রয়েছেন। বাদবাকি সদস্যরা ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। এ উপলক্ষে কোপেনহেগেনের কেন্দ্রস্থলে ডেনমার্কের সংসদ ভবন ক্রিস্টিয়ানসবর্গে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা উত্তোলন করা হয়। আজ শনিবার ডেনমার্কের বিভিন্ন শহর এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ গ্রিনল্যান্ডের সমর্থনে বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।
কংগ্রেসের এই সফরটি হোয়াইট হাউসে গত বুধবার অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর হয়েছে। ওই বৈঠকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ডেনিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই বৈঠকের পরও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তন করানো সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি রাসমুসেন ও মোটজফেল্ট এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, কংগ্রেসের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। ন্যাটোভুক্ত এক মিত্র দেশের সঙ্গে সৃষ্ট এই নজিরবিহীন কূটনৈতিকসংকট সমাধানে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি