বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন আজ মঙ্গলবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) “বৃহৎ পরিসরে” বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তবে এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানাননি।
ইইউ প্রধান বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এটি স্পষ্টতই আমাদের সবার যৌথ স্বার্থের বিষয়, এবং আমরা এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আরও বাড়াবো।”
নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ না করলেও ভন ডার লেয়েন ইঙ্গিত দেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আর্কটিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইউরোপীয় আইসব্রেকার সক্ষমতা’ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেন ভন ডার লেয়েন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরই ট্রান্সআটলান্টিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছিল।
তিনি বলেন, “রাজনীতি যেমন ব্যবসার ক্ষেত্রেও—একটি চুক্তি মানেই চুক্তি। আর বন্ধুরা যখন হাত মেলায়, তার অবশ্যই অর্থ থাকতে হবে।” প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ককে তিনি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকির জবাবে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া হবে “দৃঢ়, ঐক্যবদ্ধ ও আনুপাতিক।”
ভন ডার লেয়েন সতর্ক করে বলেন, “আমাদেরকে যদি এক ধরনের নেতিবাচক চক্রে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি কেবল সেই প্রতিপক্ষদেরই সুবিধা করে দেবে, যাদের আমরা দু’পক্ষই কৌশলগত পরিসর থেকে দূরে রাখতে বদ্ধপরিকর।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফোরামে বক্তব্য দেবেন এবং পরদিন আরও কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/