ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গৌরীপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তৃতীয়বার মা হচ্ছেন অ্যানি হ্যাথাওয়ে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও, সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন জনাব মো. ফজলুর রহমান ব্রিটিশ ভারতের পথিকৃৎ নারী চিকিৎসক ডা. যামিনী সেন আমার ‘দুই’ বাবা: রক্তের সম্পর্কে একজন, ভালোবাসায় আরেকজন জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ নারীর সফল ক্যারিয়ারের ৬ টিপস রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল জাপান বদলির সাড়ে চার মাসেও দায়িত্বভার হস্তান্তরে গড়িমসি ইউএইচএফপিওর ইরাক ম্যাচের আগে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে ফ্রান্স শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী নিউমার্কেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ৪ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন চলতি বছরেই: বিমানমন্ত্রী রূপগঞ্জে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস পালিত প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ‘পিছু হটার’ সুযোগ নেই: ট্রাম্প

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ‘পিছু হটার’ সুযোগ নেই: ট্রাম্প
ছবি: এআই

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে পেছনে হটার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন তিনি। জোর করে আর্কটিক দ্বীপটি দখলের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি ট্রাম্প। এমন একটি সময় এসব বক্তব্য সামনে এল যখন ইউরোপীয় নেতারা কীভাবে ট্রাম্পকে সামলাবেন, তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। 

এদিকে শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও এআই দিয়ে তৈরি ছবির মাধ্যমে ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্য দেশ ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এআই দিয়ে তৈরি সে ছবিতে দেখা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে নিয়ে গ্রিনল্যান্ডে গেছেন। তার ঠিক পেছনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই তিনজনের সামনে থাকা কাঠের বোর্ডে লেখা গ্রিনল্যান্ড। পাশে লেখা ‘প্রতিষ্ঠিত-২০২৬’।

ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে থাকা ন্যাটো জোটকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। গত বছর এই ধরনের উত্তেজনায় বাজার ও কোম্পানিগুলো মাসের পর মাস অস্থির ছিল। নতুন করে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেটিও প্রভাব ফেলছে বাজারে। তবে ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ‘অযথা আতঙ্ক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবার কাছে খুব স্পষ্টভাবে বলেছি গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আর পিছু হটার সুযোগ নেই। এ নিয়ে সবাই একমত।’

এ ছাড়া তিনি কিছু ব্যক্তিগত বার্তাও ফাঁস করেন। সেসব বার্তার মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি বার্তাও ছিল। ব্যক্তিগত বার্তায় দেখা গেছে, মাখোঁ ট্রাম্পের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কী করছেন’। তিনি ট্রাম্পসহ বৈঠকে বসারও আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন, তার কাজে বাধা দিলে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১০৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার কথাও ভাবছে তারা। ৬ মাসের স্থগিতাদেশ শেষ হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে।

এ ছাড়া ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (এসি আই)-এর কথাও বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এটি এর আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এমন সরকারি টেন্ডার, বিনিয়োগ বা ব্যাংকিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ সীমিত করা যেতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক
এদিকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মুখে সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, গত সোমবার ডেনমার্কের সেনাপ্রধান পিটার বয়সেনের নেতৃত্বে একদল সেনা গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাঙ্গারলুসুয়াতে পৌঁছেছে। নতুন করে সেখানে ৫৮ জন সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে অবস্থানরত ৬০ জন ডেনিশ সেনার সঙ্গে যোগ দেবেন। তারা বর্তমানে ‘অপারেশন আর্কটিক এনডিউরেন্স’ নামক একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গতকাল কোপেনহেগেনে সংসদে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় হয়তো এখনো সামনে রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও অর্থনীতি–সব রাজনৈতিক বিষয়েই আলোচনা করতে পারি। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে মৌলিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা যায় না: সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের পরিচয়, আমাদের সীমান্ত, আমাদের গণতন্ত্র।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাদের ‘নতুন, স্বাধীন ইউরোপ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ট্রাম্পেরও এই সপ্তাহে ওই ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ইউরোপের সঙ্গে ট্রাম্পের বিভাজন আরও গভীর হওয়ায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মস্কোর এই দ্বীপ নিয়ে কোনো উদ্দেশ্য নেই। মস্কোতে সাংবাদিকদের লাভরভ বলেন, ‘এটি কখনো নরওয়ের স্বাভাবিক অংশ ছিল না, ডেনমার্কেরও নয়। এটি ছিল একটি ঔপনিবেশিক দখল। বাসিন্দারা এখন এতে অভ্যস্ত এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি ভিন্ন বিষয়।’

সোমবার রাতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিক্ষোভকারীরা একটি বিশাল ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছেন। সে ব্যানারে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প অবাঞ্ছিত। কোনো ডব্লিউইএফ নয়! কোনো অলিগার্কি নয়! কোনো সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ নয়!’ সূত্র: রয়টার্স

রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার তিউমেন অঞ্চলের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র।

তিউমেন অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার মুর জানিয়েছেন, হামলার পর শোধনাগার এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শোধনাগারটির বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তারা ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এমন নতুন দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করেছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেন হামলা জোরদার করায় চলতি জুন মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের হার গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে মস্কোসহ রাশিয়ার বেশ কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার (২০জুন) এই ড্রোন হামলার কারণে উরাল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই দিনে ইউক্রেনীয় বাহিনী দখলকৃত ক্রিমিয়া ও বেলগোরোড অঞ্চলে রাশিয়ার রসদ সরবরাহের একটি সেতু এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের খারকিভ, জাপোরিঝিয়া ও সুমি অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে খারকিভে রুশ গাইডেড বোমার আঘাতে দুজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি ও পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) ভোরে তিনি সুইজারল্যান্ডের এমমেন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, রবিবার ভোর ৫টা৫৯ মিনিটে জেডি ভ্যান্স এবং তার স্ত্রী সেখানে পৌঁছান।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মূলত এই দ্বিপক্ষীয় কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়াই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।

গত শুক্রবারই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ইরান-মার্কিন উত্তেজনার কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর দুই দিন পিছিয়ে যায়।

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের জেডি ভ্যান্স জানান, আগামী কয়েক দিনের এই আলোচনায় ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয় দুটি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:১৯ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত
ছবি: আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ

ফিলিস্তিনের গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) একটি বাড়িতে চালানো ওই হামলায় আহমেদ উইশাহসহ অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

এক বিবৃতিতে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আল জাজিরার ১২ জন সংবাদকর্মী নিহত হলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল আহমেদ উইশাহর ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। দুই ভাইয়ের ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি বাহিনী কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের ‘হামাস সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করে।

আল জাজিরা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। সাংবাদিক অধিকার রক্ষা সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) জানিয়েছে, প্রমাণ ছাড়াই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া ইসরায়েলের একটি নিয়মিত প্রবণতা।

সিপিজের তথ্যমতে, চলমান এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এমনকি গত অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় আরও ১,০০৭ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল- জাজিরা

তামান্না রুপা/

বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে এস্তাদো মেয়র সদর দপ্তরের বাইরে একজন সৈনিক এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন

টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ এবং পদত্যাগের দাবিতে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।

শনিবার (২০ জুন) তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের নাম সিওবি। জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল বিক্ষোভ বন্ধ করা। প্রেসিডেন্টের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে বড় একটি অংশের বিক্ষোভ শেষ হলেও একটি মহল এখনো অবরোধ কর্মসূচি বজায় রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট পাজ টেলিভিশনে একটি ভাষণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আলোচনার সব পথ ব্যবহার করে যাদের দাবি যৌক্তিক ছিল, তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। কিন্তু কিছু মহল বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং সহিংসতা বাড়াতে চায়। আমরা তাদের চিহ্নিত করার পরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বলিভিয়ায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। পাজ একজন মার্কিন-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি কিছু পরিকল্পনা করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে গত মে মাসের শুরুতে আন্দোলন শুরু করে সিওবি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাধারণ শ্রমিক, কৃষক ও খনিশ্রমিক, ট্রাকচালক এবং শিক্ষকরাও ছিলেন। তারা এই মধ্য-ডানপন্থি প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক সংস্কার বাতিলসহ তার পদত্যাগ দাবি করেন। পাজ মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় এসেছেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে টানা ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল।

দেশজুড়ে চলা এই অবরোধের কারণে রাজধানী লা পাজসহ প্রধান প্রধান শহরে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য এবং ওষুধেরও তীব্র অভাব তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

এরপর গত শুক্রবার সিওবির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় সরকার। সিওবির নেতা মারিও আরগোলো ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে দেশব্যাপী সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করা হলো।’ চুক্তিটিকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট পাজ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘শক্তির চেয়ে আলোচনাই বেশি শক্তিশালী।’

কিন্তু সিওবির একটি পক্ষ চুক্তি মেনে নিলেও আরেকটি পক্ষ এটিকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রীদের চাপ বাড়ছে। তাকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন দলটির মোট ১০৪ জন সংসদ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়। 

স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সর্বশেষ এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র এমপি ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন, যিনি গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও তার প্রতি অনুগত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা জানাতে হবে এবং অ্যান্ডি বার্নহামকে সেই পরিবর্তন আনার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি।’ লেবার এমপিদের ‘রেড ওয়াল গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান জো হোয়াইট এবং বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুক চার্টার্সও গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলত্যাগ করে স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

লেবার পার্টির বেশির ভাগ এমপি চান, সম্ভাব্য বিভক্তিকর নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবর্তে স্টারমার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা বার্নহামের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং ‘ছেড়ে যাবেন না’। বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার এবং মন্ত্রিসভা, এমপি ও পরিবারের মতামত শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্নহামের শিবির এবং সম্ভাব্য আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তারা এই সপ্তাহে কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সময় দেওয়া হবে।

সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও স্টারমারকে বলছেন, ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়রের জন্য তাকে অবশ্যই পথ ছেড়ে দিতে হবে। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারসহ অনেকেই ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের’ দাবি করছেন।

গত মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, বার্নহামের জয়ের পর থেকে শাবানা মাহমুদ ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা একত্রিত হলে সেটি স্টারমারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফ