ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন
Nagad desktop

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনা স্বাক্ষরিত, জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর চেষ্টায় ক্ষুব্ধ চীন-ফ্রান্স

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনা স্বাক্ষরিত, জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর চেষ্টায় ক্ষুব্ধ চীন-ফ্রান্স
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বনেতাদের প্রবল কৌতূহল আর মিত্র দেশগুলোর একাংশের তীব্র সমালোচনার মধ্য দিয়ে দাভোসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ। ৫৯টি দেশের সমর্থনের দাবি তুলে ট্রাম্প এই পরিষদের প্রথম সনদে স্বাক্ষর করলেও, বৈশ্বিক এই উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর যোগ না দেওয়ার বিষয়টি এই পরিষদের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এক বিলিয়ন ডলারের ‘প্রাইভেট ক্লাব’

ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এর স্থায়ী সদস্য হতে হলে কোনো দেশকে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ফি দিতে হবে। সমালোচকরা বিষয়টিকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে ট্রাম্পের একটি ‘ব্যক্তিগত করপোরেট বোর্ড’ বা ‘ধনীদের ক্লাব’ হিসেবে বেশি দেখছেন। 

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে যে, এই কমিটি কি আদৌ শান্তির জন্য, নাকি এটি কেবলই ট্রাম্পের একটি ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক দাবার চাল?

চীনের তীব্র সন্দেহ ও জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ

চীন এই আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে বরং ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বেইজিংয়ের আশঙ্কা, ট্রাম্প আসলে এই পরিষদের মাধ্যমে সরাসরি ‘জাতিসংঘের বিকল্প’ দাঁড় করাতে চাইছেন। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন এই ব্যবস্থাকে দুর্বল হতে দিতে নারাজ। ট্রাম্প নিজেও যখন স্বীকার করেছেন যে এই পরিষদ জাতিসংঘের জায়গা নিতে পারে, তখন বেইজিং এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক বহুপাক্ষিকতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান ও শুল্ক যুদ্ধের হুমকি

ইউরোপের অন্যতম শক্তি ফ্রান্স এই পরিষদে যোগ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

ফরাসি প্রশাসনের মতে, এই বোর্ড জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফ্রান্সের এই ‘না’ বলায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন, যা পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি নরওয়ে, ও সুইডেনের মতো দেশগুলোও আপাতত এই উদ্যোগে শামিল হচ্ছে না।

পরিষদের সদস্য ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা দেশগুলো

বিতর্ক সত্ত্বেও কিছু দেশ ইতোমধ্যেই এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, কসোভো, মরক্কো, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনাম।

অন্যদিকে ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলো আমন্ত্রণ পেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এমনকি খোদ ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান।

ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্য ও গাজা ইস্যু

দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার শাসনামলে বিশ্ব এখন অনেক বেশি নিরাপদ। তিনি গাজাকে ‘চমৎকারভাবে পুনর্নির্মাণের’ স্বপ্ন দেখালেও সেখানকার মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি হামলা নিয়ে তার নীরবতা সমালোচকদের নজর এড়ায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বোর্ডের চূড়ান্ত ক্ষমতা ট্রাম্প নিজের হাতে রাখায় এটি একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার বদলে ‘আমেরিকান বোর্ড’ হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘকে গুরুত্বহীন করার এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি এটি কেবল ট্রাম্পের আরেকটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হয়েই থেকে যাবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। 

‘বোর্ড অব পিস’ কী?

ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী ২০-দফার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের ধারণাটি সামনে আনেন।

নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানায়—যা এটিকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেয় এবং এই পরিষদকে গাজার নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্নির্মাণ তদারকি করার ম্যান্ডেট (কর্তৃত্ব) প্রদান করা হয়।

কিন্তু ট্রাম্পের পরিকল্পনা ছিল আরও দীর্ঘমেয়াদী।এই শান্তি পরিষদকে একটি ‘আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার কাজ হবে সংঘাতপূর্ণ বা সংঘাতের হুমকিতে থাকা অঞ্চলগুলোতে স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সুশাসন বজায় রাখা।

সনদ অনুসারে, ট্রাম্প এই বোর্ডের ‘অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; এমনকি তার দ্বিতীয় মেয়াদের রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এই পদে বহাল থাকতে পারেন।

এই ‘বোর্ড অব পিস’ একটি ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ বা প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। এই নির্বাহী বোর্ডে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। 

উল্লেখ্য, টনি ব্লেয়ার মূলত কুখ্যাত ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কারণে। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে—কিন্তু পরে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এতে ব্রিটিশ জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই যুদ্ধের ফলে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা, সহিংসতা ও চরমপন্থার বিস্তার ঘটে। অনেকের মতে, এই বিপর্যয়ের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় টনি ব্লেয়ার এড়াতে পারেন না। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত রাষ্ট্র ও নেতার উপদেষ্টা হয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন, যা তার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষুণ্ন করে। এসব কারণেই টনি ব্লেয়ারকে যুদ্ধবাজ ও নৈতিকতা-বিবর্জিত রাজনীতিক হিসেবে কুখ্যাত মনে করা হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এমন যুদ্ধবাজ নেতা কীভাবে শান্তি পরিষদে যুক্ত হলেন? সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/