কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে এক বিরল বার্তায় ঘোষণা দিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার এবং এর কার্যক্রমের পরিসর আরও সম্প্রসারণ করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে স্বীকার করার আহ্বান জানান। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত পাঁচ বছর পর হওয়া দলীয় কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মেনে নেয় যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র স্থায়ী বাস্তবতা, তাহলে দুই দেশ ‘ভালোভাবে সহাবস্থান’ করতে পারে।
এই মন্তব্যকে এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের আগে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন কিম। তিনি সিউলকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে বৈরী সত্তা’ বলে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে কিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের বর্তমান পারমাণবিক অবস্থানকে, যা সংবিধানে নির্ধারিত, সম্মান করে এবং তাদের বৈরী নীতি প্রত্যাহার করে, তাহলে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে না ওঠার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ‘সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে’। কিমের ভাষায়, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হোক বা স্থায়ী সংঘাত, আমরা উভয়ের জন্যই প্রস্তুত। সিদ্ধান্ত আমাদের নয়।’
দক্ষিণ কোরিয়া প্রসঙ্গে কিম বলেন, সিউলকে তারা ‘চিরতরে স্বজাতির তালিকা থেকে বাদ’ দেবে। তিনি আরও বলেন, ‘যতদিন দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বের হতে না পারবে, ততদিন নিরাপদে থাকার একমাত্র উপায় হলো আমাদের সম্পর্কিত সবকিছু পরিত্যাগ করে আমাদের একা ছেড়ে দেওয়া।’
একজন বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কিম তার ভাষণে পারমাণবিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের উপায় সম্প্রসারণের প্রকল্পে মনোযোগ দেব।’
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে এবং নিয়মিতভাবে নিষিদ্ধ আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি