পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত নিরসনে দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা, রক্তপাত এড়াতে এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সরকারকে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেছে। সংগঠনটি বলছে ‘‘এখন মোটেও বিবাদ-বিভাজনের সময় নয়’’।
ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই হামাসের এই আহ্বান এল। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ শুরুর কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন যে, দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতির পর ইসলামাবাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
গত অক্টোবর থেকে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যায় এবং বর্তমানে সীমান্ত পারাপার বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এসব সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন, যা কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে।
হামাস তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বন্ধন রয়েছে। তাই নেতাদের উচিত অনৈক্য ভুলে গঠনমূলক সংলাপে বসা। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত কেবল বিভেদই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও নষ্ট করবে।
বিবৃতিতে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েল যখন নিজের আন্তর্জাতিক একাকীত্ব কাটাতে বিভিন্ন জোট শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিবাদে না জড়িয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির দিকে নজর দেওয়া।
পরিশেষে হামাস জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রজ্ঞা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের প্রয়োজন। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।