শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ইরানের একটি নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাঠালে সাড়া দিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। এ ঘটনায় জাহাজটির ১০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) ভোরবেলা থেকে ওই ইরানি জাহাজটি ডুবতে শুরু করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লঙ্কান নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথমে এটি একটি 'সাবমেরিন হামলা' হতে পারে বলে জানালেও, শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএ জানিয়েছে, অন্য একটি দেশের সামরিক বাহিনীর বিষয় হওয়ায় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী উদ্ধার অভিযানের কোনো ভিডিও প্রকাশ করছে না।
কী ঘটছে সেখানে
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের একটি ডুবন্ত নৌযান থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার পর তারা একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শ্রীলঙ্কার জলসীমার ঠিক বাইরে ডুবতে থাকা ইরানি ফ্রিগেট আইরিস দেনাতে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জাহাজ ও বিমান পাঠানো হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তত ৩২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পার্লামেন্টে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৮০ জন ক্রু সদস্যের ওই ফ্রিগেটটি ভোরবেলা থেকে ডুবতে শুরু করে। আহত ৩০ জন নাবিককে দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার সংবাদ মাধ্যম ‘আদা দেরানা’ এবং অন্যান্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৮০ জন আরোহী নিয়ে ইরানি জাহাজটি গাল বন্দর থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুনা জয়সেকারা জানান, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ক্রুদের উদ্ধারে কাজ করছে।
সাবমেরিন হামলার খবর প্রত্যাখ্যান
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র পরবর্তীতে সাবমেরিন হামলার খবরটি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, ৩২ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা না গেলেও, গত সপ্তাহে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুদ্ধিকা সম্পাত এএফপি-কে বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমরা এই ডিস্ট্রেস কলে সাড়া দিয়েছি, কারণ এলাকাটি ভারত মহাসাগরে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সীমানার মধ্যে পড়ে।'
আঞ্চলিক পরিস্থিতি
এদিকে, ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস বুধবার জানিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বর্তমানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা মিসাইল বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ফার্স নিউজ এজেন্সিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে গার্ডস কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, 'বর্তমানে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে ইসলামিক রিপাবলিকের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস
সুমন/