ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত ডাক্তারের চেম্বারে একদিন চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু: মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে ভক্তদের অলৌকিক প্রার্থনা ফিফার বাপ
Nagad desktop

আত্মসমর্পণ চান ট্রাম্প, লড়াইয়ে অনড় ইরান

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আত্মসমর্পণ চান ট্রাম্প, লড়াইয়ে অনড় ইরান
যুদ্ধ জয়ের জন্য ওভাল অফিসে সহকর্মীদের নিয়ে প্রার্থনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সপ্তম দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, এই বোমাবর্ষণ ‘আরও নাটকীয়ভাবে বাড়তে যাচ্ছে’। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন অবস্থান ব্যক্ত করলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া এই যুদ্ধ বন্ধের আর কোনো পথ খোলা নেই। এরপর একজন মহান ও গ্রহণযোগ্য নেতা (বা নেতৃবৃন্দ) নির্বাচনের পর আমরা এবং আমাদের অনেক চমৎকার, অত্যন্ত সাহসী মিত্র ও অংশীদাররা ইরানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করব। দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে আরও বড়, উন্নত এবং শক্তিশালী করে তুলব।’

এদিকে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে দেশটি। ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে। হামলার পর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শুধু প্রধান বিমানবন্দর নয়, ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। লাইভ ফুটেজে তেল আবিবের আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে। সেগুলোকে ঠেকাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকেও কাজ করতে দেখা গেছে। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তেহরানে ইরানের একটি সামরিক কমান্ড বাংকার ধ্বংস করা হয়েছে। আইডিএফের মতে, ৫০টি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের অংশ নেওয়া এক হামলায় ওই ভূগর্ভস্থ বাংকারটি ধ্বংস করা হয়। তাদের দাবি, এটি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। খামেনি বাংকারটি ব্যবহার করার আগেই তাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়। এই বাংকারটি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক সড়কের নিচে বিস্তৃত ছিল এবং এটি সর্বোচ্চ নেতার ‘নিরাপদ জরুরি কমান্ড সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আইডিএফ আরও বলেছে, এই বাংকারটি এখনো ইরানি সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যবহার করছিলেন।

এ ছাড়া শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে নতুন করে হামলার একটি ধাপ শুরু করেছে। তাদের দাবি, এই হামলায় ‘শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এটি যুদ্ধের ‘নতুন পর্যায়’।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের ভেতরে গভীরে মাটির নিচে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে কয়েক ডজন ‘পেনিট্রেটর’ বোমা ফেলেছে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও আল জাজিরার সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, আবাসিক ভবন এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানান, সর্বশেষ হামলার সময় তিনি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের নূর নিউজ জানায়, তেহরানের কিছু আবাসিক ভবনেও হামলা হয়েছে। একটি ইরানি সামরিক একাডেমিতেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র, ঠিক তখনই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলের কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তেহরানের নিলুফার স্কয়ারের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ধ্বংস হয়ে যাওয়া শ্রেণিকক্ষের ভিডিও প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে একাধিক স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধের প্রথম দিন দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন ছাত্রী ও কর্মী নিহত হয়েছিল। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে হামলায় নিহত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু।

তেহরান থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, রাজধানীতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বোমাবর্ষণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত আমরা লাগাতার বড় ধরনের হামলা দেখেছি। বিস্ফোরণের কম্পন আল জাজিরা ব্যুরো পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।’ তার ভাষায়, আগের দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানীতে অনেক বেশি ভারী বোমাবর্ষণ হয়েছে। আকাশে যুদ্ধবিমান দেখা গেছে এবং বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় শহর ঢেকে যায়। তিনি জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশের এলাকা। এটি অত্যন্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি অঞ্চল, যেখানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে এখানেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এই সড়কেই ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও অবস্থিত। এ ছাড়া আবাসিক ভবন, গাড়ি পার্কিং এলাকা, পেট্রলস্টেশনসহ কিছু বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যস্থতার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হওয়া উচিত: ইরানের প্রেসিডেন্ট
গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যদি কোনো মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকেই লক্ষ্য করে হওয়া উচিত। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। কিন্তু আমাদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা একটুও দ্বিধা করব না। মধ্যস্থতার চেষ্টা তাদের উদ্দেশ্যেই হওয়া উচিত, যারা ইরানের জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং এই সংঘাত শুরু করেছে।’

শিরাজে ২০ জন নিহতের খবর
ইরানের শিরাজ, কুম, ইসফাহান ও কেরমানশাহ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। ফার্স প্রদেশের উপ-গভর্নর জালিল হাসানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, শিরাজের জিবাশাহর এলাকায় এক হামলায় ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওই শহরে দুজন প্যারামেডিকও নিহত হয়েছেন।

কুয়েত উপকূলে তেলবাহী জাহাজে হামলা
ইরানের সামরিক বাহিনী গতকাল জানায়, আগামী দিনগুলোতে তারা হামলার পরিসর আরও বাড়াবে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা দাবি করে, কুয়েত উপকূলের কাছে ‘মার্কিন মালিকানাধীন’ একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রেডিও জানায়, জাহাজটি হামলার আঘাতে আগুনে পুড়ছে। এই তথ্য দেওয়া হয়েছে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বরাত দিয়ে, যা যুদ্ধের সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড পরিচালনা করে।

স্থলবাহিনী নিয়ে যা বলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র 
এদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তার মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এমন হামলা হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য ‘বড় বিপর্যয়’ হবে। এ ছাড়া ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠালে তাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে ইরানিরা। মার্কিন সেনারা ইরানে ঢোকার ‘দুঃসাহস’ দেখালে তাদের আটক ও হত্যা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মূলত প্রথম দিন থেকেই গুঞ্জন রয়েছে, ইরানে স্থলভাগে সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি গণমাধ্যমে খবর এসেছে, কুর্দিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, এখন স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা ‘সময়ের অপচয়’। মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে তিনি বলেন, ‘এটা সময়ের অপচয়। তারা সবকিছু হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী হারিয়েছে। তারা হারানোর মতো সবই হারিয়েছে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেছেন, নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ না করলে কোনো চুক্তি হবে না ইরানের সঙ্গে।

নেতা নির্বাচন গোপন রেখেছে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর পর থেকেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে চলছে অনিশ্চয়তা। তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও সামনে আসছে নানা তথ্য। অনেকেই দাবি করছেন, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়তো এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরেহ খারাজমি বলছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হয়তো নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘যৌক্তিক’।

তেলের দাম বেড়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে এমন আশঙ্কার পর তেলের দাম বেড়ে গেছে। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এ অঞ্চল বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারে।’

গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের বাজার বন্ধের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। কাবি আরও বলেন, যদি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে না পারে, তাহলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন
ছবি: সংগৃহীত

ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজের মাধ্যমে জি-৭ সম্মেলনের সমাপ্তি টানছেন আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বুধবার আলোচনা করবেন জি-৭ নেতারা। সম্মেলনের শেষ দিনে এ বিষয়টিই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন ইমানুয়েল মাখোঁ।

বুধবারের (১৭ জুন) আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। জি-৭-এর কয়েকটি ইউরোপীয় সদস্য দেশ অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের তিন দিনের এ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইরান যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের চুক্তি ও ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ।

এদিন নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অপেন এআই’র প্রধান  স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিক-এর প্রধান ড্যারিও অমোদেই ও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল এআই এসএএস-এর আর্থার মেনশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। ফ্রান্সও একই ধরণের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

সম্মেলন শুরুর আগে, ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাখোঁ বলেন, জি-৭ আলোচনায় কীভাবে ‘সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করা যায় এবং আমাদের শিশু ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা যায়’ এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

বুধবার বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সাতটি দেশই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন বিষয়ে যৌথ চূড়ান্ত বিবৃতিতে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে। এরপর গ্রিনিচ সময় দুপুর ১টা থেকে নেতারা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

হ্রদ তীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র এভিয়ানে অনুষ্ঠিত পুরো সম্মেলন জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ট্রাম্প। ফরাসি কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট যে তিনি পুরো সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, তিনি কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে মাখোঁ সম্মেলন শেষে বুধবার বিকেলে প্যারিসের বাইরে অবস্থিত ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। 

তার ভাষায়, ফ্রান্সের ‘সূর্য রাজা’ চতুর্দশ লুইয়ের প্রাসাদ ভার্সাই ‘সোনার প্রলেপ নয়’, বরং ‘আসল জিনিস।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন সমালোচনা এড়াতে মাখোঁ আগেই বলেছেন, ভার্সাইয়ের এ আয়োজন কোনো ‘গালা ডিনার’ নয়।

ইরান ও ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা
সম্মেলনে ইরান অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যে চুক্তি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হওয়ার কথা, সে বিষয়ে তাকে নানা প্রশ্ন করতে আগ্রহী মিত্র দেশগুলো।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তির পর ইরানে বিনিয়োগ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো বাধ্যবাধকতা’ নেই। মূল লক্ষ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আর যদি তা করে, তাহলে দেশটির ওপর ‘ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে’। ইউক্রেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প মস্কোর প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। 

তিনি বলেন, রাশিয়ার উচিত ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্থগিত রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো আবারও কার্যকর করতে পারে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতিও তুলনামূলক সমালোচনামুখর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, লেবাননের বিষয়ে নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তার মতে, সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে গেছে’। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকছে, ইরানকে কতটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তির নথিতে কী কী উল্লেখ থাকছে, তা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, দুপক্ষের মধ্যে গোপন আলোচনা এবং প্রতিশ্রুতিগুলির তাতে উল্লেখ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি খসরা চুক্তি ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামী শুক্রবার।

এরই মধ্যে মার্কিন রক্ষণশীল রাজনীতিকরা দাবি তুলেছেন, চুক্তিতে কী কী রয়েছে, সেই রূপরেখা তাদের দেখাতে হবে। তারা সন্দেহ করছেন, যুদ্ধ শেষ করার নামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে দিচ্ছে। 

যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তিতে যা লেখা থাকছে, তা খুবই অস্পষ্ট। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো, পরবর্তী সময়ে আরও সুনির্দিষ্ট মুখোমুখি বৈঠকের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। সেই কারণে চুক্তিটির ভাষ্য এমন রাখা হচ্ছে, যাতে ইরানি প্রশাসন নিজেদের দেশে সেটিকে ‘রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ বলে তুলে ধরতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যে খসরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার দাবি, ওটি একটি খুবই সাধারণ নথি। 

সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ইরান বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। ওই প্রতিশ্রুতিগুলোর কারণেই যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরে আরও বেশি আগ্রহী হয়েছে। তবে ওই গোপন প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা নথিতে উল্লেখ নেই।

ঘটনার পরম্পরা সম্পর্কে জানেন, এমন কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তাদের কথায়, ‘খসরা চুক্তিতে কী লেখা থাকছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের বেশি বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। এই নথির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া।’ 

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নথিতে মূলত বলা হয়েছে- আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব, পারমাণবিক বিষয় নিয়ে একটি চুক্তি করব এবং লেনদেন বন্ধ থাকা তহবিলগুলি ছেড়ে দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে, যখন আমাদের আলোচনার অগ্রগতি হবে। জব্দ থাকা তহবিল কী পদ্ধতিতে ছাড়া হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরেই তা ছাড়া হবে।’ 

ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিপত্রকে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ইরান নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি সুবিধাজনক জায়গায় থাকার সুযোগ পায়।

চুক্তিপত্রে কী কী থাকছে, তা দেখেছেন এমন এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ইরান কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা চুক্তির খসড়ায় নির্দিষ্টভাবে লেখা নেই। 

যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের কাজে তদারকি করবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিতে লেখা আছে, ইরান কোনো দিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

তবে ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতেও এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান।

এ ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরান ওয়াশিংটনকে ‘গোপনে’ জানিয়েছে, ট্রাম্প পারমাণবিক বিষয়ে যা চাইছেন, তা তারা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতায় ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে। এবং সেই কাজে যুক্ত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রও।

কর্মকর্তাদের দাবি, এই গোপন আলোচনার বিষয়গুলো চুক্তির নথিতে উল্লেখ নেই। আবার ইরানের বন্ধ হওয়া তহবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও, তা কখন এবং কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথাও বলা হয়নি। -আনন্দবাজার থেকে

‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
‘আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’, মোদিকে জর্জিয়া মেলোনি
ছবি: এনডিটিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সবার নজর কেড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মেলোনি একে অপরকে অভিবাদন জানাচ্ছেন ও করমর্দন করছেন।

ভিডিওর অডিও খুব একটা পরিষ্কার না হলেও, মনে হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টি মেলোনির কাছে উল্লেখ করছিলেন।

এর জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি।’

এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী মোদির রোম সফরের প্রায় এক মাস পর, যেখানে তিনি মেলোনিকে ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ‘মেলোডি’ শব্দের সূত্র ধরে এক প্যাকেট পার্লে-এর ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ‘মিষ্টি’ উপহারের ভিডিওটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে মেলোনি লিখেছিলেন, ‘উপহারের জন্য ধন্যবাদ’।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চকোলেটে ভরপুর এই ক্যান্ডির প্যাকেটটি হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মেলোনি দুজনেই হাসছেন এবং ইন্টারনেট ট্রেন্ডটি উপভোগ করছেন। ভিডিও ক্লিপটিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি উপহার হিসেবে খুব চমৎকার একটি টফি নিয়ে এসেছেন’। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স

ইরানের কৌশল ব্যবহার করেই এবার উপসাগর থেকে তেল বের করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত মে মাসের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালীর কাছে অত্যন্ত গোপনে মার্কিন তত্ত্বাবধানে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছে।

এই অপারেশনে এ পর্যন্ত অন্তত ৯২টি তেলবাহী জাহাজ অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের 'সোহার' বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'ফুজিরাহ' উপকূলের কাছে এই গোপন তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

হামলা এড়াতে এবং নিজেদের আড়াল করতে মার্কিন ড্রোন ও হেলিকপ্টারের পাহারায় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগেই একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো হয়। এরপর জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে এবং বাতি নিভিয়ে রাতের অন্ধকারে একে একে প্রণালী পার হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন অপারেশনের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা সম্ভব হলেও অন্ধকার রাতে ট্র্যাকিং সিস্টেম ছাড়া জাহাজ চলাচলের কারণে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা চলায় এই গোপন অপারেশন শিগগিরই বন্ধ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

গত ১২ জুন মাস্কের মহাকাশযান প্রস্তুতকারক এবং মহাকাশ যাত্রা সেবা প্রদানকারী কোম্পানি স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় প্রতি শেয়ার ১৫০ ডলারে, যা নির্ধারিত তালিকামূল্যের (১৩৫ ডলার) চেয়েও বেশি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্পেসএক্স। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্স ও টেসলায় থাকা নিজের শেয়ারের মূল্য মিলিয়ে বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে বিশ্লেষকরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। যদি কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে, দিনে ২৪ ঘণ্টা ও বছরে ৩৬৫ দিন খরচ করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে ১১৪ বছরের বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ মাস্কের সম্পদ এতটাই বিশাল যে তিনি এখন থেকে টানা ওই হারে অর্থ ব্যয় করলেও প্রায় ২১৪০ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে।

তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই কাগুজে সম্পদ (পেপার ওয়েলথ)। অর্থাৎ এটি ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়, বরং টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নের পরিবর্তনের সঙ্গে এ সম্পদের পরিমাণও ওঠানামা করতে পারে।

মাস্কের সম্পদের ব্যাপ্তি বোঝার আরেকটি উপায় হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সঙ্গে এর তুলনা করা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক এখন ইলন মাস্ক।

এদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। এমনকি তার সম্পদ বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের প্রায় সাত গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/