যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টায়, বর্তমানে সমুদ্রে জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার নিষিদ্ধ তেল ও পেট্রোলিয়াম কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন 'বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে' এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ। এই অনুমতির মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বেসেন্ট বলেন, 'এই সুনির্দিষ্ট এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাটি শুধু ট্রানজিটে থাকা বা পথিমধ্যে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটি রুশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য কোনো আর্থিক সুবিধা দিবে না।'
উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে।
তেলের দাম পুনরায় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে
উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও তিনটি মালবাহী জাহাজে হামলা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তার বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার অঙ্গীকারের পর, বৃহস্পতিবার তেলের দাম পুনরায় প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে এবং শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এশিয়ার বাজারে শুক্রবার সকালের লেনদেনে তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল; যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড ০.২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০.২৯ ডলারে ($) এবং মার্কিন বাজারে তেলের দাম ০.৩ শতাংশ কমে ৯৫.৪১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে জ্বালানির দামের এই উল্লম্ফন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
গত বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ (IEA) রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের প্রধান ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলোর সরকারগুলো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, ফিলিপাইন তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্বালানি সাশ্রয় করতে সরকারি চাকুরিজীবীদের সপ্তাহে চার দিন কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং থাইল্যান্ড পেট্রোলের দামের ওপর সর্বোচ্চ সীমা (প্রাইস ক্যাপ) নির্ধারণ করে দিয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তেলের দামের বিষয়ে বলেন, 'তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি একটি স্বল্পমেয়াদী বিঘ্ন যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে।'
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সামরিকভাবে সম্ভব হওয়া মাত্রই মার্কিন সরকার হরমজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা (এসকর্ট) দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে।
স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, সামরিক পাহারার সম্ভাব্য প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সব সময়ই আমাদের পরিকল্পনায় ছিল।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি শুরু হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, 'নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হওয়া মাত্রই আমরা এটি করব।' সূত্র: বিবিসি
সুমন/