আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে বিমান হামলার যে দাবি করা হয়েছে, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (১৭স মার্চ) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানি বাহিনীর আসল লক্ষ্যবস্তু ছিল কাবুলের ‘ক্যাম্প ফিনিক্স’ নামক একটি সামরিক আস্তানা, যা কথিত হাসপাতাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারীরা এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ৪ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির কথা জানিয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি দাবি
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে, ওমিদ হাসপাতালটি একটি বহুতল ভবন হলেও যে সামরিক অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সেখানে প্রচুর গোলাবারুদ মজুত ছিল।
দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ‘‘পাকিস্তান কেবল সেই সব সামরিক ও সন্ত্রাসী অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যেগুলো পাকিস্তানের ভেতর হামলা চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ বা আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’’
অন্যদিকে, আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, নিহতরা সবাই নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক এবং মাদকাসক্ত ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা বিধ্বস্ত হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ বের করে আনছেন।
উদ্ধারকর্মী আল্লাহ মোহাম্মদ ফারুক জানান, শত শত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন এবং ক্রেন ব্যবহার করে মরদেহগুলো বের করা হচ্ছে। স্বজনদের খোঁজে শত শত মানুষ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন।
হাজি নজিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তার ছেলে এবং স্বজনরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, যাদের এখন আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
অপারেশন গজব লিল-হক ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সীমান্তে আফগান তালেবানের উসকানিমূলক গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ শুরু করে।
নিরাপত্তা সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-কে দমনে খাইবার সেক্টর এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তান সীমান্তে তালেবানদের বিভিন্ন সামরিক পোস্ট ধ্বংস করতে ‘অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল’ ব্যবহার করা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে চরম রূপ নিয়েছে।
এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড বেনেট। তিনি উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমন এবং হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনার সুরক্ষাসহ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া চীনও উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এই ঘটনার একটি দ্রুত এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে। সূত্র: ডন, আল জাজিরা
মাহফুজ/