ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে দিনাজপুরে বেড়ার হোটেলে নিম্নমানের খাবারসহ একাধিক অভিযোগ ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু বিশ্বকাপ নিয়ে অনারের ক্যাম্পেইন, ফোন-ট্যাবলেটসহ পুরস্কার জেতার সুযোগ বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফিরল স্পেন ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়েও দুর্বল: নেতানিয়াহু বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ে অনার্স কোর্স
Nagad desktop

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে, জানা যাবে যেসব কাজে

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কোন পথে, জানা যাবে যেসব কাজে
প্রতীকী ছবি

চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। 

ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়াম্যান ও প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস পূর্ণ হয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি ‘অনির্বাচিত’ সরকার। সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক- আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে ‘ডিল’ করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করে বিএনপি। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন ‘ইন্ডিয়া ফ্যাক্টর’ অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে- বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা ‘’ না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা‘’ কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও দেখার বিষয়।

এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে যেতে পারে, এ রকম পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে?

ভিসা কার্যক্রম কি স্বাভাবিক হবে?
বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে যান বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে। প্রতিবছর ২০ লাখের বেশি মানুষ ভারতে চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে ভারতে গিয়েছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান কমে আসে।

বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল, ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে কিছু সংখ্যক ডাবল এন্ট্রি ভিসা দিয়েছে। তবে এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম।

তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে। যদি সেটা আগামী কিছুদিনের মধ্যে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করতে যাচ্ছে।

তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?
যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশ বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে। তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যে ভারতবিরোধিতার তকমা, সেটা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করছে।

তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পরে হবে। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস।

ভারতের ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে যাবে?
গত বছরের আগস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল - যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়।  কয়েক দিন পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল। ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়। চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত সফরটি আদৌ  রিশিডিউলড হবে কি না এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়। ভারত যদি তাদের কথা রাখে - তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে।

কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি হবে?
গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে।

আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ। যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে।

ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হলো আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন। এই রেললাইন তৈরি হলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। এই প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি। এখন তারেক রহমানের সরকারের আমলে এই অসমাপ্ত প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয়- সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে। 

এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় - সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।

গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন কবে?
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই। এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে – সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে।

এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয়, তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। - সূত্র: বিবিসি বাংলা

দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২২ পিএম
দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত
ছবি; সংগৃহীত

সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ব্রাজিল সরকার।

সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই ভ্যাকসিনটি গত বছরের নভেম্বরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমোদন পায় এবং চলতি বছরেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম এক ডোজের টিকা। 

সাধারণত ডেঙ্গু হলে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, যা কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যে ৫ লাখ ১ হাজার ৪৪ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়, এর মধ্যে ৩ হাজার ৭০৩ জনের শরীরে ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ৪২ জনের শরীরে তুলনামূলক তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গুরুতর অসুস্থ তিনজনের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন ৫৮ বছর বয়সী পুরুষ এবং একজন ৪৮ বছর বয়সী নারী। এছাড়া ৩৮ বছর বয়সী এক নারী আইসিইউতে ভর্তি হলেও পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে পাদিলহা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার কারণেই এই তিনটি গুরুতর ঘটনা বা মৃত্যু ঘটেছে- এমনটি নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনও আমাদের কাছে নেই। তবে এটি আমাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।’

তিনি জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ১৪টি রাজ্যে ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের ওপর যখন এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তখন এ ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমনকি পরীক্ষার সময় এই ভ্যাকসিনটি ডেঙ্গুর মারাত্মক রূপ প্রতিরোধে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বর্তমানে বাজারে থাকা একমাত্র ডেঙ্গু ভ্যাকসিন (TAK-003) নিতে দুটি ডোজ প্রয়োজন হয় এবং একটি ডোজ থেকে পরবর্তী ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হয়। সেই তুলনায় এক ডোজের ভ্যাকসিন গণ-টিকাদান কর্মসূচিকে অনেক সহজ ও দ্রুত করতে পারে।

২০২৪ সালে ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে রেকর্ড ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা সে বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। তবে গত বছর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছে, অভিবাসন জালিয়াতি বা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ১৭ জন মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রশাসন তাদের নজিরবিহীন ‘নাগরিকত্ব বাতিল’ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করছে।

নাগরিকত্ব বাতিলের এ অভিযানে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসহ সহিংস বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যরা প্রতারণা বা অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত।

দেশের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে করা মামলায় বিচার বিভাগের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো ‘সৎ নৈতিক চরিত্র’। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী, যৌন অপরাধী ও প্রতারকদের মতো অপরাধী অভিবাসীরা তাদের অতীত অপরাধের তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। এখন থেকে এ ধরনের সব ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ শূন্য-সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।’

অন্যদিকে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা মুলিন বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিল ও অপরাধী বিদেশিদের অপসারণে আইনের আওতায় থাকা সব পথ ব্যবহার করবে। কারণ মার্কিন নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, যা সততার সঙ্গে অর্জন করতে হয়। কেউ যদি এখানে এসে আইন ভঙ্গ করেন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে তিনি সেই অধিকার হারাবেন।’

উল্লেখ্য, মার্কিন আইনে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে জন্ম নেওয়া এমন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। বৈধ ও অবৈধ- উভয় ধরনের অভিবাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের এ উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে।

২০২৫ সালে বিচার বিভাগ এমন নাগরিকদের নতুন কয়েকটি শ্রেণি নির্ধারণ করে, যাদের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মে মাসেও এক ডজনের বেশি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা তখনকার সময়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ছিল। যদিও ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিচার বিভাগ গড়ে বছরে মাত্র ১১টি মামলা করেছিল, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল কোনো ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা। সূত্র: সিবিএস নিউজ

থিও/অমিয়/

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। সোমবার (৮ জুন) দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনাটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের আক্রমণ, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে- তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই প্রণালীতে পশ্চিমা ও ইসরায়েলপন্থি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অবরোধ তৈরি করায় মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সেখানে নিয়মিত টহল দেয়। এই চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়, যা এই অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে
ছবি: আল জাজিরা

ইরান ও ইসরায়েল চালানো পারস্পরিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ হয়েছে, তবে দুটি দেশই হুমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইরান হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও সতর্ক করে দিয়েছে যে, লেবাননসহ অন্যান্য স্থানে ইসরায়েল যদি আরও আগ্রাসন চালায়, তবে পুনরায় হামলা শুরু হবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল তেহরানে আঘাত হানার পর হামলা বন্ধ করেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে। 

তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ভুল করে এবং আমাদের ওপর পুনরায় হামলা করে, তবে আমরা তার জবাব দেব।

এতে অঞ্চলটিতে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সোমবার বিকেলে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে অঞ্চলজুড়ে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে তেল আবিব এবং তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা দ্রুত সামরিক পদক্ষেপে ফিরতে প্রস্তুত।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু লেবাননে আমাদের অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলবে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তা অনেক বেশি কঠোর হবে। সূত্র: আল জাজিরা

থিও/অমিয়/

ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ইরানে হামলা চালালে একাই লড়তে হবে: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরায়েল যদি ইরানের সঙ্গে আবারও যুদ্ধে জড়ায়, তবে তাকে একাই লড়তে হতে পারে।

সোমবার (৮ জুন) ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন ইসরায়েল এবং ইরান উভয় দেশই জানিয়েছে যে- তারা সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখবে।

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনা।

নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প দিন দিন বেশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দুই পক্ষকেই যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না অজ্ঞতা বা বোকামি এর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি ফোন করেও হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি নিয়ে নেতানিয়াহুকে সাবধান করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, বেবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) তোমাকে আরও সতর্ক হতে হবে, তা না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একা একাই লড়তে হবে।’

এই নতুন উত্তেজনার শুরু হয় গত রবিবার, যখন ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। ইরান সবসময়ই বলে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি হতে হলে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া জরুরি। ফলে, লেবাননে হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলে লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

জানা গেছে, ট্রাম্প রবিবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল তা না শুনে সোমবার ভোরে ইরানের ওপর হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আঘাত হানে। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি একই ধরনের কারখানা এবং দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে ইরানের ছোড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্রই অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশে ধ্বংস করা হয়।

আজহার/অমিয়/