ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে কেবল ‘সামান্য যুদ্ধবিরতি’ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল-ওতাইবা। উল্টো তেহরানের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ের একটি ‘চূড়ান্ত পরিণতির’ অর্থাৎ ইরানের সামরিক সক্ষমতার পুরোপুরি বিলীন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওতাইবা এই যুদ্ধের সূত্রপাত যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ঘটিয়েছে- তা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও পুরো দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই সংঘাতের ‘সম্মুখ সারির দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নিরাপত্তা হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের সমর্থন
আমিরাতি এই কূটনীতিক তেহরানের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘আমাদের এমন একটি চূড়ান্ত ফলাফল প্রয়োজন যা ইরানের সব ধরনের হুমকি মোকাবিলা করবে; যার মধ্যে রয়েছে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ছদ্মবেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (প্রক্সি) এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ অবরোধের বিষয়টি।’’
ওতাইবা তার নিবন্ধে দাবি করেন, ‘‘ইরান এখন পর্যন্ত আমিরাত লক্ষ্য করে ২ হাজার ১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি।’’
কেন আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান?
চলতি মাসের শুরুতে তেহরান পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ ইমামিয়ান মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘ইরান যে কেবল আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির কারণে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে তা নয়; বরং সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিও এর অন্যতম বড় কারণ।’’
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের ব্যবসায়িক, কূটনৈতিক ও গোপন অস্ত্র চুক্তি রয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মাহফুজ/