মধ্যপ্রাচ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধে ব্রিটেন কোনোভাবেই ‘জড়িয়ে পড়বে না’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযানে ব্রিটিশ সৈন্য পাঠানো হবে না।
গত দুই মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ ধরে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটেই স্টারমার ব্রিটেনের অবস্থান পরিষ্কার করলেন।
‘‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়’’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে টেনে হিঁচড়ে লিপ্ত হতে চাই না।’’ তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের শুরু থেকেই ব্রিটিশ পাইলটরা আকাশে টহল দিচ্ছে এবং তারা ব্রিটিশ জীবন, স্বার্থ ও মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে যুক্তরাজ্য কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা ও পেন্টাগনের প্রস্তুতি
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের জন্য একটি সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন বর্তমানে এই স্থল অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্টের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে গত শনিবার সাড়ে তিন হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনা ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প-স্টারমার দ্বৈরথ
যুক্তরাজ্যের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এবং স্টারমারের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে।
চার্চিল বিতর্ক: ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো শুরুতে মার্কিন হামলার জন্য ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ট্রাম্প স্টারমারকে উপহাস করে বলেছিলেন, ‘সে কোনো চার্চিল নয়।’ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সাবেক ব্রিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল যেভাবে আমেরিকার হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন এবং নিঃশর্ত সমর্থন দিতেন, যা স্টারমার করছেন না।
ব্রিটিশ রণতরীকে কটাক্ষ: হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ন্যাটো এবং ব্রিটেনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘তারা আমাদের সাহায্য করতে কিছুই করছে না।’’ এমনকি ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারগুলোকে মার্কিন জাহাজের তুলনায় ‘খেলনা’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় সোমবার কিয়ার স্টারমার জ্বালানি ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠকে বসেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি ব্রিটেনের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি ‘কোবরা’ (Cobra) বৈঠক আহ্বান করেছেন।
নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্টারমার তার রাজনৈতিক বিরোধীদেরও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, কনজারভেটিভ বা রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় থাকলে ব্রিটেন কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত, যা দেশের জন্য বিপর্যয়কর হতো। সূত্র: দি ইনডিপেনডেন্ট
মাহফুজ/